ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনের দখলকৃত পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চলে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে। বুধবার ভোরে তুবাস শহরে এই অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানয়ি ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েলি বাহিনী একে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে দাবি করেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
তুবাসের গভর্নর আহমেদ আল-আসাদ বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী শহরটি ঘিরে ফেলেছে। একটি হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। তিনি জানান, সেনারা বিভিন্ন মহল্লায় অবস্থান নিয়েছে।
আহমেদ আল-আসাদ বলেন, অভিযানটি দীর্ঘমেয়াদি বলে মনে হচ্ছে। দখলদার বাহিনী বাড়ি থেকে মানুষকে বের করে দিয়েছে, ভবনের ছাদ দখল করেছে এবং গ্রেফতার অভিযান চালাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাদের অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফিরতে নিষেধ করা হয়েছে। এ অভিযান কয়েক দিন ধরে চলতে পারে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতায় বুধবার ভোরে এ অভিযান শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
ইসরায়েল বলছে, পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এমন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে ২৭ লাখ ফিলিস্তিনির মধ্যে কয়েক লাখ অবৈধ ইসরায়েলি সেটেলার বাস করেন।
তুবাসে নতুন এই অভিযানকে জানুয়ারিতে উত্তর-পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে শুরু হওয়া আগের সামরিক অভিযানের সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে ফেরার কয়েক দিনের মধ্যেই জেনিনে অভিযান শুরু হয়। এরপর তা উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি শহরে ছড়িয়ে পড়ে। হাজারো মানুষ ঘরছাড়া হয় এবং ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি শহরে দীর্ঘতম উপস্থিতি বজায় রাখে।
উত্তর-পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলো ইসরায়েলি বাহিনী খালি করে দিয়েছে। এসব অভিযানে সড়ক ও ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। চলতি মাসে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ইসরায়েলকে বলপ্রয়োগে উৎখাতের অভিযোগে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। ইসরায়েল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পশ্চিম তীরে সহিংসতা বেড়েছে। ইসরায়েলি সেটেলাররা ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। তাদের খুব কমই গ্রেফতার বা বিচার করা হয়। এসব হামলার সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারে থাকা অপর নেতারাও।
দুই বছর আগে গাজা থেকে হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে পশ্চিম তীরে চলাচলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে ইসরায়েল। নতুন চেকপয়েন্ট বসানো হয়েছে, অনেক ফিলিস্তিনি এলাকার প্রবেশপথ গেট ও বাঁধ দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।