পোপ লিও চতুর্দশ তার প্রথম বিদেশ সফরে বৃহস্পতিবার তুরস্ক ও লেবাননে রওনা হচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে খ্রিষ্টান ঐক্য ও শান্তির বার্তা তুলে ধরা তার এই ছয় দিনের সফরের মূল লক্ষ্য। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
মার্কিন নাগরিক এই পোপ গত মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের প্রধান নির্বাচিত হন। তার সংযত নেতৃত্বশৈলী পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের আকর্ষণীয় ও কখনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়া আচরণ থেকে ভিন্ন।
তুরস্কে লিও যোগ দেবেন নাইসিয়ার কাউন্সিলের ১,৭০০তম বার্ষিকী উদযাপনে, যেখানে খ্রিষ্টধর্মের মূল বিশ্বাসনামা ‘ক্রিড’ রচিত হয়েছিল। দেশটি মুসলিম প্রধান হওয়ায় সফরটি বড় কোনও আলোড়ন না তুললেও লেবাননে তার আগমনকে ঘিরে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো।
ধর্মীয় সহাবস্থানের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত লেবানন ২০১৯ সালের পর থেকে একের পর এক সংকটে বিপর্যস্ত। এর মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক ধস, ব্যাপক দারিদ্র্য, ২০২০ সালের বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণ এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক যুদ্ধ।পোপকে স্বাগত জানাতে যেসব স্থান সংস্কার করা হয়েছে, সেসব সড়কে তার ছবি ও ‘লেবানন শান্তি চায়’ লেখা ব্যানার টাঙানো হয়েছে। ভ্যাটিকানে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত ফাদি আসসাফ বলেন, এটি অসাধারণ সফর। লেবাননের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলোকে সামনে তুলে আনবে সফরটি। দেশটি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির আশায় আছে।
সন্ন্যাসিনীদের পরিচালিত মানসিক চিকিৎসা কেন্দ্রে পোপ যাবেন বলে জানা গেছে। সফরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছে তরুণদের সঙ্গে সাক্ষাৎ। ১ লাখ মানুষের অংশগ্রহণে খোলা আকাশের নিচে প্রার্থনা এবং বৈরুত বন্দর বিস্ফোরণস্থলে প্রার্থনা থাকবে।
চার্চের লেবানন সফরবিষয়ক গণমাধ্যম সমন্বয়ক আব্দো আবু কাসেম বলেন, পোপ ধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে লেবাননের ‘পূর্ব-পশ্চিমের সেতুবন্ধন’ ভূমিকা পুনর্ব্যক্ত করতে চান।
পূর্ব ও পশ্চিমের সংযোগস্থল হিসেবে পরিচিত তুরস্কে ইসলাম-খ্রিষ্টান সংলাপ জোরদার করাও সফরের একটি লক্ষ্য। আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে তার বৈঠক হবে এবং শনিবার ইস্তাম্বুলের ব্লু মসজিদ পরিদর্শন করবেন।