ঝুঁকিতে গাজার যুদ্ধবিরতি, মিসরীয় গোয়েন্দা-প্রধানের সঙ্গে হামাসের আলোচনা

ঝুঁকিতে গাজার যুদ্ধবিরতি, মিসরীয় গোয়েন্দা-প্রধানের সঙ্গে হামাসের আলোচনা

ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে কায়রোতে মিসরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে হামাসের শীর্ষ প্রতিনিধিদল। বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে ইসরায়েলের ‘অবিরাম লঙ্ঘন’ পুরো চুক্তিকেই দুর্বল করে দিতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

হামাসের নির্বাসিত গাজা প্রধান খালিল আল-হায়াসহ প্রতিনিধিরা মধ্যস্থতাকারীদের তত্ত্বাবধানে ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন নথিবিদ্ধ ও থামাতে একটি স্পষ্ট ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন। হামাস জানায়, রাফাহ এলাকার ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের সুড়ঙ্গপথে আটকে থাকা যোদ্ধাদের বিষয়ে দ্রুত সমাধান খুঁজতেও আলোচনা হয়েছে। ওই যোদ্ধাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বলে উল্লেখ করা হয়।

গত মাসে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতা করে মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্র।

একদিন আগে ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে বিমান হামলা চালায়। বাসাবাড়ি, আশ্রয়কেন্দ্র ও একটি গাড়িতে হামলায় অন্তত ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, একজন হামাস যোদ্ধা ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত গাজা এলাকায় ঢুকে সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পর তারা এসব অভিযান চালিয়েছে। শনিবারের হামলায় হামাসের এক স্থানীয় কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করে তারা।

হামাস অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ইসরায়েল ফিলিস্তিনিদের হত্যার সুযোগ খুঁজছে। তারা মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রকে জরুরি হস্তক্ষেপ করে ইসরায়েলকে ‘তাৎক্ষণিকভাবে এসব লঙ্ঘন বন্ধে’ চাপ দিতে আহ্বান জানিয়েছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া কার্যালয় জানিয়েছে, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল অন্তত ৪৯৭ বার চুক্তি ভঙ্গ করেছে। এতে ৩৪২ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। যাদের বেশির ভাগই শিশু, নারী ও বৃদ্ধ।

গাজা সিটি থেকে আল-জাজিরার তারেক আবু আজজোম জানান, এলাকায় মানুষের মধ্যে হামলা আরও বিস্তারের শঙ্কা বাড়ছে। ইসরায়েলি হামলা চলছেই। বেসামরিক স্থাপনা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে এলাকা জনশূন্য করে ফেলা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ছিল জিম্মি ও আটক ব্যক্তিদের বিনিময়, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং মিসরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিং খুলে দেওয়া। হামাস জীবিত সব জিম্মিকে ছেড়ে দিয়েছে এবং কয়েক ডজন মৃতদেহ ফেরত দিয়েছে। ইসরায়েল প্রায় দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে। এদের মধ্যে আজীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরাও আছেন। তবে সীমান্তে আরোপিত বিধিনিষেধের কারণে ত্রাণ প্রবেশ এখনও ব্যাহত হচ্ছে বলে মানবিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। ইসরায়েল রাফাহ ক্রসিং খোলার অনুমতিও দেয়নি।

দ্বিতীয় ধাপে গাজা পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার কথা একটি ফিলিস্তিনি টেকনিক্যাল কমিটির। এ প্রক্রিয়ার তদারকি করবে বোর্ড অব পিস, যার নেতৃত্বে আছেন ট্রাম্প। একইসঙ্গে তারা সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সাময়িক আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ এবং গাজা নিরস্ত্রীকরণের কাজ শুরু করবে।

তবে হামাস বলছে, ইসরায়েলি দখল চলমান থাকলে তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে না।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, কোনও ফিলিস্তিনিকে গাজা ছাড়তে বাধ্য করা হবে না এবং ইসরায়েল গাজা দখল বা সংযুক্ত করবে না। পরিকল্পনাটি এখন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন পেয়েছে।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল? BanglaTribune | মধ্যপ্রাচ্য

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরে এখন বসবাস করছেন প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এ ভূখণ্ডকে ভবিষ্...

Sep 22, 2025

More from this User

View all posts by admin