জাতীয় অগ্রাধিকারে কর্মক্ষেত্রের সেফটি নেই: ইয়াসির আরাফাত

জাতীয় অগ্রাধিকারে কর্মক্ষেত্রের সেফটি নেই: ইয়াসির আরাফাত

আমাদের দেশে জাতীয় অগ্রাধিকারে কর্মক্ষেত্রের সেফটি নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েটে) কেমিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান।

তিনি বলেন, “সব মিলিয়ে বলতে গেলে যেটা হচ্ছে যে, আসলে সেফটি আমাদের ন্যাশনাল প্রায়রিটিতে নেই। সরকারিভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে গেলে দেখবেন সেখানে সেফটি, ফায়ার সেফটি নেই। সরকারি কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিগুলোতে যাবেন, দেখবেন সেখানে সেফটি ডিপার্টমেন্ট নেই। তাহলে সেফটি কীভাবে আমাদের আসবে?”

দেশের শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন এবং বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) আয়োজনে ‘শিল্পখাতে অগ্নি ও রাসায়নিক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন ও টেকসই কর্মপরিবেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে এই আয়োজন শুরু হয়। 

অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান বলেন, “যত মানুষ ইনজুরি হয় বা মারা যায় তার থেকে ৬ গুণ বেশি মারা যায় অকুপেশনাল ডিজিজের জন্য। আমাদের কেমিক্যাল সেফটি যদি নিশ্চিত করা না হয় তাহলে যে অকুপেশনাল ডিজিজের যে ইকোনমিক ইমপ্যাক্ট কিন্তু অনেক্ক বড়। কারণ, আপনি আজকাল হাসপাতালে গেলে দেখবেন যে প্রচুর রোগী। ক্যান্সার হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের রোগ অসুখ বেড়ে গেছে। হার্ট-ডিজিজ বেড়ে গেছে। হাসপাতালে গেলে প্রচুর রোগী আমরা দেখতে পাচ্ছি। ছোট থেকে বড় সব ধরনের এটা যে ইকোনমিক্যাল ইমপ্যাক্ট এটা কিন্তু হিউজ একটা কান্ট্রির জন্য। প্রশ্ন উঠেছে, কার্যকর নীতিমালা ইফেক্টিভ রুলস রেগুলেশন কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?তার আগে প্রশ্ন হচ্ছে, কেমিক্যাল সেফটির জন্য আমাদের নীতিমালা আছে কিনা? একটা প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছিল কেমিক্যাল সেফটির জন্য সেটা আলোর মুখ দেখেনি। সেটা দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “বেশিরভাগ কেমিক্যাল আমরা ইমপোর্ট করি। আমাদের এক্সিডেন্টগুলো ঘটছে স্টোরেজে। কারণ, কেমিক্যাল প্রোডাকশন আমরা কম করি। কিছু ইন্ডাস্ট্রি আছে আমাদের যারা প্রোডাকশন করে। আমাদের প্রচুর কেমিক্যাল আমাদের লাগছে ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনের জন্য, সেটা ইমপোর্ট হচ্ছে। এটা আসছে কীভাবে? পোর্টে আসছে এবং বেশিরভাগ আসে চিটাগাং পোর্ট দিয়ে। পোর্ট থেকে ইন্ডাস্ট্রিতে আসে, এরই মধ্যে স্টোরেজ হয়। এই স্টোরেজের জন্য কি কোন গাইডলাইন বা নীতিমালা আমরা করতে পেরেছি? আমাদের এমন কিছু নেই। তবে শুধু স্টোরেজ না, এটা কিন্তু ট্রান্সপোর্টেও হচ্ছে। আমাদের কি কেমিক্যাল ট্রান্সপোর্টের কোনও নীতিমালা আছে? আমাদের যে ট্রাফিক জ্যাম হয় তার মধ্যে কার পাশে আছে সেই গাড়ি আপনি জানেন না। বর্তমানে আরও ভয়াবহ সমস্যা হচ্ছে গ্যাস। এলপিজি বা ন্যাচারাল গ্যাস একটা ক্লিন গ্যাস। কিন্তু যেটা হচ্ছে যে এই গ্যাস এইটা আমরা এখন ব্যবহার বাড়িয়েছি। ভালো, কিন্তু এটা যেভাবে বাড়ছে, সেভাবে আমাদের সেফটি স্ট্যান্ডার্ড বাড়ছে না। আপনি যদি এক্সক্লুসিভ ডিপার্টমেন্টকে বলেন যে, সারাদেশে কতগুলো অটোগ্যাস স্টেশন আছে? হাজারের ওপরে। কয়টা লাইসেন্স আছে? শুধুমাত্র ৮০টি। তার মানে সিচুয়েশন এই জায়গাগুলোতে যখন দুর্ঘটনা ঘটবে, এই ট্রান্সপোর্ট যখন যাবে, সেগুলোতে যখন দুর্ঘটনা ঘটবে, এটার প্রভাব পড়বে ব্যাপক।”

সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত আছেন বিলস’র নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও’র কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স টুনন, ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) আলী আহমেদ খান, বাংলা ট্রিবিউনের নির্বাহী সম্পাদক উদিসা ইসলাম, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের পরিচালক ( অপারেশনস অ্যান্ড মেইনটিনেন্স) লে. কর্নেল মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের যুগ্ম মহাপরিদর্শক মো. মাহফুজুর রহমান ভুঁইয়া, কর্মজীবী নারী’র প্রকল্প সমন্বয়ক রিনা আমেনা, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আবুল বাশার মিয়া, জাতীয় শ্রমিক জোটের সাধারণ সম্পাদক নাইমুল আহসান জুয়েল, নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আখতার মাহমুদ, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি’র (বিসিডাব্লিউএস) প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্বাহী পরিচালক কল্পনা আখতার, বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতির সভাপ্রধান তাসলিমা আখতার, বিজিএমইএ'র সিনিয়র ডেপুটি সেক্রেটারি মো. শফিকুল ইসলাম, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি লিড মোরিয়াম নেসা এবং বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইয়াসির আরাফাত খান। 

বাংলা ট্রিবিউনের ফেসবক পেইজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে গোলটেবিল আলোচনাটি সরাসরি প্রচারিত হচ্ছে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে BanglaTribune | অন্যান্য

জুলাইয়ের মামলা থেকে বাঁচানোর কথা বলে চাঁদাবাজি, ৩ সমন্বয়ক কারাগারে

জুলাই আন্দোলনের মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং সাড়ে পাঁ...

Sep 12, 2025

More from this User

View all posts by admin