রাজধানীর রমনা থানাধীন বাংলামোটর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে মিছিল করায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় ১১ জনের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন- মাদারীপুরের ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি আবির হোসেন প্র: সাদ্দাম মোল্লা (২৭), পিরোজপুর জেলার ছাত্রলীগকর্মী নাদিম তালুকদার (১৯), ভোলার ছাত্রলীগ নেতা মো. শুক্কুর হাওলাদার (২৫), ঢাকার ছাত্রলীগকর্মী মো. নাজমুল (১৯), ব্রাক্ষণবাড়িয়ার ছাত্রলীগ নেতা মো. জুয়েল (৩০), টাঙ্গাইলের ছাত্রলীগকর্মী মো. রানা (১৯), মাদারীপুরের ছাত্রলীগ নেতা শিহাব মুন্সি (২৫), কিশোরগঞ্জের মো. মিজানুর রহমান (৪৫), মো. নাবেদ আহম্মেদ নব (২৪), ময়মনসিংহের সঞ্জিব ইসলাম এবং নেত্রকোনার মো. রোমান মিয়া (৩২)।
আদালতের পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক জিন্নাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রমনা থানার উপ-পরিদর্শক হাফিজুর রহমান পৃথক দুই আবেদনে তাদের কারাগারে রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে আসামিরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের সদস্যরা রাজধানীর রমনা থানাধীন রুপায়ন টাওয়ারের সামনে মিছিল করে। সরকারবিরোধী বিভিন্ন প্রকার স্লোগান দিয়ে তাদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করা, সরকার তথা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও রাষ্ট্রের ক্ষতি সাধনের লক্ষ্যে অপপ্রচার করছিল। পরে সোয়া ৩টায় ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় গতকাল রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়।
কারাগারে রাখার আবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তারা তাদের নাম-ঠিকানা, বয়স, দলীয় পদবিসহ পলাতকদের নাম-ঠিকানা ও দলীয় পদবি প্রকাশ করে। তারা জানায়, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে আরও অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জন সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগ ও তার সব সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের কার্যক্রমকে গতিশীল করার জন্য সরকার এবং সরকারের কার্যক্রমবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান, ব্যানারসহ মিছিলে অংশগ্রহণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিয়েছে। মামলার প্রাথমিক তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত আছে। আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাই করা হচ্ছে। মামলার সুষ্ঠ তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে আসামিদের নাম-ঠিকানা যাচাইসহ মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জেলহাজতে আটক রাখা প্রয়োজন।
আসামি আবির হোসেন প্রঃ সাদ্দাম মোল্লা, মো. শুক্কুর হাওলাদার, মো. জুয়েল ও শিহাব মুন্সিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পৃথকভাবে পরবর্তীতে রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।