এক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননের রাজধানীর উপকণ্ঠে হিজবুল্লাহর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা হাইসম আলী তাবতাবাইকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। রবিবারের হামলায় এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিশ্চিত করেছে। হিজবুল্লাহ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে লেবাননের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, এই হামলার লক্ষ্যই ছিলেন তাবতাবাই।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত চলা যুদ্ধে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর বেশির ভাগ নেতৃত্বকে ইসরায়েল হত্যার নিশানায় পরিণত করেছিল। তবে যুদ্ধবিরতির পর জ্যেষ্ঠ কোনও হিজবুল্লাহ নেতাকে হত্যা করার ঘটনা বিরল। সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর তাবতাবাইকে সংগঠনের চিফ অব স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাবতাবাই লেবাননেই জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেন ইরানি বংশোদ্ভূত এবং মা লেবানিজ। তিনি হিজবুল্লাহর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য না হলেও দ্বিতীয় প্রজন্মের নেতৃত্বের অংশ ছিলেন। সিরিয়া ও ইয়েমেনে সংগঠনের মিত্রদের পক্ষ হয়ে লড়াইয়েও অংশ নেন।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য মতে, ১৯৮০-এর দশকে তাবতাবাই হিজবুল্লাহতে যোগ দেন। সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে হিজবুল্লাহর অভিজাত ইউনিট রাদওয়ান ফোর্স। গত বছর লেবাননে স্থল আক্রমণের আগে ইসরায়েল এই ইউনিটের অধিকাংশ নেতাকে হত্যা করেছিল।
গত বছরের যুদ্ধে তাবতাবাই হিজবুল্লাহর অপারেশনস ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন এবং অন্যান্য শীর্ষ কমান্ডার নিহত হওয়ার পর তিনি পদোন্নতি পেতে থাকেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর তাকে চিফ অব স্টাফ করা হয়। ইসরায়েলের মতে, তিনি নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি ও সংগঠন পুনর্গঠনে সক্রিয় ছিলেন।
লেবাননের গোয়েন্দা সূত্রও জানিয়েছে, শীর্ষ নেতাদের হত্যার পর দ্রুত তাবতাবাইকে পদোন্নতি দেওয়া হয় এবং গত এক বছরে তাকে চিফ অব স্টাফ করা হয়েছিল। ইসরায়েলের আলমা সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, সিরিয়া ও লেবাননের যুদ্ধে ইসরায়েলের অন্য হামলা থেকেও তিনি বেঁচে গিয়েছিলেন।
সূত্র: আল-মনিটর