ইসরায়েল বলছে গাজা এখনও ‘যুদ্ধক্ষেত্র’

ইসরায়েল বলছে গাজা এখনও ‘যুদ্ধক্ষেত্র’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় বোমা হামলা বন্ধ করতে নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। অথচ ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের সতর্ক করে বলেছে, গাজার উত্তরাঞ্চল এখনও একটি ‘যুদ্ধক্ষেত্র’। শনিবার এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি বাহিনী সেখানকার বাসিন্দাদের দক্ষিণে চলে যেতে বলেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

হামাস আংশিকভাবে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনা মেনে নেওয়ার পর ইসরায়েলকে বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ওয়াদি গাজার উত্তরের এলাকা, যার মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত গাজা সিটিও অন্তর্ভুক্ত, এখনও ‘বিপজ্জনক যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত’। বাসিন্দাদের উপকূলীয় সড়ক রাশিদ স্ট্রিটের মাধ্যমে দক্ষিণে যেতে বলা হয়েছে তারা। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনী এখনও গাজা সিটিকে ঘিরে রেখেছে এবং ‘সেখানে ফেরার চেষ্টাকে উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি’ বলে বর্ণনা করেছে।

গাজার দক্ষিণাঞ্চল বর্তমানে শত-সহস্র বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিতে পরিপূর্ণ, যারা গাদাগাদি অবস্থায় অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করছে এবং উত্তরে ফেরার আশায় অপেক্ষা করছে।

মধ্য গাজার নুসাইরাত থেকে এক বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে বলেন, আমরা এই সুখবরের অপেক্ষায় ছিলাম। আমরা চেয়েছিলাম হামাস প্রস্তাবটি গ্রহণ করুক, যাতে আমাদের জীবন আগের মতো কিংবা তার চেয়েও ভালো হয়ে উঠতে পারে। আমরা আরও ভালো খবরের আশায় আছি, আমরা গাজা সিটিতে ফিরে যেতে চাই।

গাজা সিটিতে অব্যাহত বোমাবর্ষণ ওই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় নগর কেন্দ্রটিকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। প্রতিদিন ডজন ডজন মানুষ নিহত হচ্ছে, অসংখ্য আবাসিক ভবন ও স্কুল ধ্বংস হচ্ছে এবং হাজার হাজার ফিলিস্তিনি দক্ষিণে অজানা গন্তব্যে পালাতে বাধ্য হচ্ছে। ।

অগাস্টের মাঝামাঝিতে ইসরায়েলি সেনারা গাজা সিটিতে নতুন করে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। তখন জাতিসংঘের মানবিক সমন্বয় সংস্থা উত্তর গাজা থেকে দক্ষিণে ৪ লাখেরও বেশি মানুষের স্থানান্তর রেকর্ড করেছে, প্রধানত দেইর আল-বালাহ ও খান ইউনুসে।

এই জোরপূর্বক স্থানান্তর আরও তীব্র হয় সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে। ওই সময় ইসরায়েলি সেনারা ডজন ডজন বহুতল ভবন সমতল করে দেয়। এরপর সেপ্টেম্বর ৯ তারিখে পুরো গাজা সিটির বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এই সতর্কতা আসে হামাসের শুক্রবার গভীর রাতে দেওয়া এক বিবৃতির পর, যেখানে সংগঠনটি জানিয়েছিল যে তারা হোয়াইট হাউজের ২০ দফা পরিকল্পনার কিছু ধারার সঙ্গে একমত হয়েছে। এর মধ্যে সব বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত। তবে হামাস বলেছে, অন্যান্য বিষয় নিয়ে এখনও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। ট্রাম্প এবং বিশ্বের বিভিন্ন নেতারা হামাসের প্রতিক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়েছেন, যদিও বড় কিছু অমীমাংসিত বিষয় রয়ে গেছে — যেমন ইসরায়েলি সেনাদের প্রত্যাহার ও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ।

শনিবার ভোরের দিকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, চিফ অফ স্টাফ ‘ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি বাড়ানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন। যদিও এর সামরিক অর্থ স্পষ্ট নয়, ইসরায়েলি গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে যে সেনারা এখন কেবল প্রতিরক্ষামূলক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

তবুও শনিবার সকালে গাজার বিভিন্ন স্থানে আকাশ থেকে হামলা অব্যাহত ছিল। আল জাজিরাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ইসরায়েলি হামলায় ভোর থেকে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল? BanglaTribune | মধ্যপ্রাচ্য

যেভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দাফন করছে ইসরায়েল?

ইসরায়েলি দখলকৃত পশ্চিম তীরে এখন বসবাস করছেন প্রায় ২৭ লাখ ফিলিস্তিনি। দীর্ঘদিন ধরে এ ভূখণ্ডকে ভবিষ্...

Sep 22, 2025

More from this User

View all posts by admin