লেবাননের ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর চিফ অব স্টাফকে লক্ষ্য করে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রবিবার এই দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দফতর। কয়েক মাস পর এই প্রথম লেবাননের রাজধানীর দক্ষিণ উপশহরে হামলা হলো। এখানে হিজবুল্লাহ নেতাদের বাসস্থান ও কার্যালয় রয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরায়েলি ও লেবানিজ সূত্র জানায়, হামলার টার্গেট ছিলেন হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকর্তা আলি তাবতাবাই। তবে তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, নেতানিয়াহুর দফতর তা জানায়নি।
এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওস রিপোর্টারকে জানান, হামলার আগে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত করেনি। তবে হামলার পরপরই ওয়াশিংটনকে জানানো হয়। আরেক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, বৈরুতে হামলা বাড়ানোর পরিকল্পনা ইসরায়েলের ছিল, যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দিন ধরেই তা জানত।
২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাবতাবাইয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। তাকে হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক নেতা হিসেবে চিহ্নিত করে এবং তার ব্যাপারে তথ্য দিতে পাঁচ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, হামলার আগে যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের পর লোকজন আতঙ্কে ভবন থেকে বের হয়ে আসে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, এতে কমপক্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন দুই ডজনের মতো মানুষ। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহ এসব বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য করেনি।
গত দুই বছরে ইসরায়েলের হামলায় হিজবুল্লাহর তৎকালীন প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ, শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের অনেকে এবং প্রায় পাঁচ হাজার যোদ্ধা নিহত হয়েছে।
হামলার আগে মন্ত্রিসভায় নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল একাধিক ফ্রন্টে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। হিজবুল্লাহ আমাদের বিরুদ্ধে আবার যাতে সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন আমরা করব।
ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে প্রায় প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে, যাকে তারা সীমান্ত এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক প্রভাব পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বলে বর্ণনা করছে। ইসরায়েলের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর হিজবুল্লাহ আবারও অস্ত্র মজুতের চেষ্টা করছে। তবে হিজবুল্লাহর দাবি, তারা সীমান্ত অঞ্চলে তাদের সামরিক উপস্থিতি অবসানের শর্তই মেনে চলছে এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে।