গাজায় নাজুক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিষয়ে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল একে অপরকে দোষারোপ করছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার (২ নভেম্বর) ইসরায়েলের কাছে আরও তিন জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করেছে হামাস। এই তিনটি দেহ সেই ১১ জন জিম্মির মধ্যে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যাদের মৃতদেহ ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী গাজা থেকে চাইছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, গাজার মধ্যে রেডক্রসের মাধ্যমে তিন জিম্মির দেহবাহী কফিন গ্রহণ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেহগুলো শনাক্তকরণের জন্য ইসরায়েলে নেওয়া হবে।
ইসরায়েল বলছে, হামাস মৃতদেহগুলো হস্তান্তর করতে খুব ধীরগতিতে কাজ করছে। আর হামাস বলছে, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও যত দ্রুত সম্ভব কাজ করছে তারা।
এই বিষয়টি ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পুরো বাস্তবায়নকে আটকে রাখা বিতর্কগুলোর একটি।
এর আগে রবিবার, উত্তর গাজায় এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় একজন নিহত হয়। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, তাদের বিমান এমন এক যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যিনি তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি ছিলেন। গাজা সিটির শেজাইয়া এলাকার একটি সবজি বাজারের কাছে বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছে বলে আল-আহলি হাসপাতাল জানিয়েছে।
জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে এখনও হামাসের কিছু উপস্থিতি রয়েছে এবং আমরা পদ্ধতিগতভাবে তাদের নির্মূল করছি।
হামাস যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের পরিচালক ইসমাইল আল-থাওয়াবতা অস্বীকার করেছেন যে হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলি সেনাদের আক্রমণ করে যুদ্ধবিরতি ভেঙেছে।
তবে যুদ্ধবিরতির ফলে বেশিরভাগ সংঘর্ষ থেমে গেছে। গাজার ধ্বংসস্তূপে নিজেদের বাড়িতে ফিরেছে শত শত ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল শহরগুলোর অবস্থান থেকে সেনা সরিয়েছে এবং আরও বেশি মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে।
গাজায় আটক থাকা ২০ জীবিত জিম্মিকেই মুক্তি দিয়েছে হামাস। বিনিময়ে ইসরায়েলে আটক প্রায় ২ হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি ও যুদ্ধকালীন আটক ব্যক্তি ছাড়া পেয়েছে।
যুদ্ধবিরতির অধীনে হামাস আরও সম্মত হয়েছে ২৮ জন নিহত জিম্মির মৃতদেহ হস্তান্তর করতে। এর বিনিময়ে যুদ্ধের সময় নিহত ৩৬০ ফিলিস্তিনি যোদ্ধার মৃতদেহ পাবে তারা। রবিবারের আগে তারা ১৭টি মৃতদেহ হস্তান্তর করেছিল।
এদিকে সহিংসতা সম্পূর্ণরূপে থেমে নেই। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলছে, যুদ্ধবিরতির পর থেকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ২৩৬ জন নিহত হয়েছে। নিহতদের অর্ধেকই গত সপ্তাহে একদিনে নিহত হয় যখন ইসরায়েল তাদের সেনাদের ওপর হামলার জবাব দেয়। ইসরায়েল বলছে, তাদের তিন সেনা নিহত হয়েছে এবং তারা বহু হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি হয়েছেএ বং উভয় পক্ষ ওয়াশিংটনের কাছে লঙ্ঘন বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ইসরায়েলের যে কোনও পদক্ষেপ ওয়াশিংটনকে জানানো হয়। হামাস বলছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানতে ইসরায়েলকে বাধ্য করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যথেষ্ট করছে না।
যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ ও আন্তর্জাতিক বাহিনী গঠনের পরিকল্পনায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা দক্ষিণ ইসরায়েলে ঘাঁটি স্থাপন করেছে। তারপরও এখন পর্যন্ত যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে খুব কম অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে এবং বড় বাধাগুলো রয়েই গেছে। এর মধ্যে রয়েছে হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজা থেকে ইসরায়েলের প্রত্যাহারের সময়সূচি নির্ধারণ করা।