গত পনেরো দিনের ভেতরেই এক আশ্চর্য সমাপতন ঘটেছে—আমার তিন অতি প্রিয় লেখকের নতুন তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে। যেন সাহিত্য-আকাশে তিন দিকপাল তিন দিক থেকে আলো ফেলেছেন। মার্গারেট অ্যাটউড লিখেছেন Book of Lives—একটি আত্মজৈবনিক প্রতিফলন, জীবন আর সাহিত্য এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে, দুয়ের সীমারেখা আলাদা করা যায় না। জেডি স্মিথ নিয়ে এসেছেন তার নতুন প্রবন্ধসংকলন Dead and Alive—সমসাময়িক সংস্কৃতি, এবং নৈতিকতার প্রশ্নগুলোকে ছেদন করে খুলে দেখায়। আর সালমান রুশদি ফিরে এসেছেন তার গল্পসংগ্রহ The Eleventh Hour নিয়ে—সময়, ইতিহাস ও ব্যক্তিগত আঘাতের অনুরণন একত্রে গড়ে তুলেছে এক বহুমুখী মানুষের কথা।
এই তিনটি বই নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আলোচনা করার ইচ্ছে আছে—কারণ প্রত্যেকটি বই আলাদা হলেও, তাদের অন্তর্লীন সুর এক : প্রতিরোধের। আজ সেই প্রতিরোধেরই কথা বলব—যখন লেখক নিপীড়নের যুগে দাঁড়িয়ে লেখেন, যখন চারপাশে ভয়, সেন্সরশিপ এবং মতের বিরুদ্ধে দমন নেমে আসে, তখন একজন সাহিত্যিক কীভাবে নিজের নৈতিক অবস্থান তৈরি করেন। অ্যাটউড, স্মিথ, আর রুশদি—এই তিনজনই তিন ভিন্ন মহাদেশের কণ্ঠ, কিন্তু তাদের কলম এক অভিন্ন ঘোষণায় মিশে যায়: যে লেখা কেবল শিল্প নয়, তা মানব আত্মরক্ষার এক নৈতিক যুদ্ধ।
রাষ্ট্র, সমাজ, ধর্ম বা রাজনৈতিক ক্ষমতা যখন কোনো চিন্তার আগুনকে দমন করতে চায়, তখন লেখকের কলমই হয়ে ওঠে তার বিপরীতে একমাত্র মশাল। অ্যাটউড, রুশদি, আর জেডি স্মিথ—এই তিনজন লেখক তাঁদের নিজস্ব উপায়ে সেই মশালের আগুন জ্বালিয়ে রেখেছেন। কেউ লিখেছেন ডিস্টোপিয়ার ভেতর দিয়ে মানুষের স্বাধীনতার অনন্ত আকাঙ্ক্ষা, কেউ বা নির্বাসনের অন্ধকারে লুকানো সত্যের মুখোমুখি হয়েছেন।
বই নিষিদ্ধ হয় কারণ বই প্রশ্ন করে—আর প্রশ্ন করাই লেখকের প্রথম দায়িত্ব। সেই প্রশ্ন যত অস্বস্তিকর, ততই তার প্রয়োজনীয়তা বেশি। যখন পৃথিবী ভয়ে স্তব্ধ হয়ে পড়ে, তখনও লেখককে লিখতে হয়, কারণ তার নীরবতা মানেই মেনে নেওয়া। লেখকের কলম কেবল শিল্পের উপকরণ নয়, এটা সমাজের শিরদাঁড়া পরীক্ষা করার একমাত্র যন্ত্র। যখন সত্য বলা বিপজ্জনক, তখন লেখার কাজই সবচেয়ে সাহসী কাজ।
বই নিষিদ্ধকরণের প্রসঙ্গ আজও যেন অন্ধকারে ঢেকে রাখা এক বর্তমান—ভয়ংকর, অথচ পরিচিত। সভ্যতার এই পর্বে বইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা মানে চিন্তার শ্বাসরোধ। মার্গারেট অ্যাটউড, যিনি The Handmaid’s Tale-এর মতো এক ক্যানোনিকাল ডিস্টোপিয়ার স্রষ্টা, এই শ্বাসরোধের বিরুদ্ধে সারাজীবন লড়েছেন।
সম্প্রতি কানাডায় আলবার্টার এক শিক্ষা বোর্ড একবার প্রস্তাব তুলেছিল 'যৌন বিষয়বস্তু' থাকার অভিযোগে কিছু বই পাঠ্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়ার। কিন্তু অ্যাটউড, যিনি জানেন শব্দের নিষেধাজ্ঞা মানেই ভাবনার শিকল, সেই প্রস্তাবের জবাবে কলম ধরেন। লিখে ফেলেন একটি ছোটোগল্প—তীক্ষ্ণ, ব্যঙ্গাত্মক—যা এমনভাবে সমাজের মুখে আয়না ঘষে দিয়েছিল যে নিষিদ্ধকরণের সেই পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত প্রত্যাহার করতে হয়। অ্যাটউডের এই ঘটনাটা লেখকের প্রতিবাদ, এক নৈতিক ঘোষণা—যে সাহিত্যকে কেউ চুপ করাতে পারে না, কারণ তার প্রতিটি বাক্যই মানুষের স্বাধীনতার এক নিঃশব্দ প্রতিরোধ।
অ্যাটউড বহুবার সতর্ক করেছেন—আমেরিকার গ্রন্থনিষিদ্ধতার এই প্রবণতা শুধু শিক্ষানীতির প্রশ্ন নয়, তার মতে, আজ যে বইগুলো যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি নিষিদ্ধ হচ্ছে, সেগুলোর অধিকাংশই এলজিবিটিকিউ, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়, কিংবা প্রান্তিক জীবনের গল্প বহন করে—অর্থাৎ সেইসব কণ্ঠ, যাদের নীরব করে দেওয়া ইতিহাসের এক পুরোনো অভ্যাস। অ্যাটউডের কাছে লেখার স্বাধীনতা অর্থ বিলাসিতা নয়—এটা টিকে থাকার শর্ত। যে সমাজ প্রশ্ন তোলা বা প্রান্তিকের কণ্ঠ শোনার সাহস হারায়, সে সমাজ নিজেই একদিন নিজের বই নিষিদ্ধ করবে।
বই নিষিদ্ধকরণ কিংবা সহিংসতার হুমকি—এসব কোনো লেখককে থামাতে পারে না, তবে তা তার কাঁধে বাস্তবতার এক অসহ্য ভার চাপিয়ে দেয়। সালমান রুশদির জীবন সেই সত্যেরই এক নির্মম প্রতিফলন। ১৯৮৯ সালে The Satanic Verses প্রকাশের পর তার বিরুদ্ধে জারি হওয়া ফতোয়া ছিল কল্পনার ওপর যুদ্ধ ঘোষণা। সেই ঘোষণার পর থেকে রুশদির জীবন পরিণত হয়েছিল এক অন্তহীন পালিয়ে বেড়ানোর কাহিনিতে—নিরাপত্তার ছায়া আর মৃত্যুভয়ের গন্ধে ভরা প্রতিটি দিন যেন হয়ে উঠেছিল তার উপন্যাসেরই অন্ধকার অধ্যায়। তবু, লেখক রুশদি নীরব থাকেননি। Shalimar the Clown (২০০৫)-এর সূচনাতেই তিনি লিখলেন এক মৃত মানুষ, এক হত্যাকারী, আর এক রক্তমাখা ছুরির দৃশ্য—যা তিনি পরে নিজেই বলেছিলেন 'একটি পূর্বাভাস'। কারণ তিনি জানতেন, তার নিজের জীবনও ধীরে ধীরে সেই সাহিত্যিক পূর্বাভাসের অংশে পরিণত হচ্ছে। যে মুহূর্তে তিনি স্বীকার করেছিলেন, “আমি নিজেকে মৃত মানুষ বলে মনে করি,” ঠিক সেই মুহূর্তেই তার লেখার মধ্যে ফিরে এসেছিল এক নীরব প্রতিরোধের শক্তি। অন্য কোনো লেখক হয়ত সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতায় ভেঙে পড়তেন, কিন্তু রুশদি তার বিপরীতে কলমকে আরও ধারালো করেছেন। তার প্রতিটি বই যেন এক অদৃশ্য ঘোষণা—যে সাহিত্যকে হত্যা করা যায় না, কারণ তা মৃত্যুকেও বর্ণনার অংশ বানিয়ে ফেলে।
লেখকের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য—দেখা, মনোযোগ দিয়ে দেখা, এবং তারপর সেই দেখা থেকে প্রশ্ন তোলা। মার্গারেট অ্যাটউড নিজেই নিজেকে একবার বলেছিলেন “পুরোনো ধাঁচের ঔপন্যাসিক”—অর্থাৎ লেখালেখি মানে কল্পনা নয়, বাস্তবতার তীক্ষ্ণ প্রতিফলন। তার মতে, তার উপন্যাসে যা কিছু আছে, তা সবই চারপাশের পৃথিবীকে দেখা, পর্যবেক্ষণ করা, আর সেই দেখা থেকে জন্ম নেওয়া অস্বস্তিকর প্রশ্নের ফল।
অ্যাটউডের লেখার এক মৌলিক নীতি ছিল নৃশংসতার সঙ্গে সততা। তিনি কখনোই এমন কোনো আঁধারের গল্প তৈরি করেননি, যা পৃথিবীতে ঘটেনি। তার উপন্যাসের প্রতিটি নির্যাতন, প্রতিটি বন্দিত্ব, প্রতিটি নিষিদ্ধ শরীর আসলে ইতিহাসের আয়নায় প্রতিফলিত। চিলির পিনোচেট শাসনের ভয়াবহতা, আর্জেন্টিনার সামরিক জান্তার শিশু-চুরির দুঃস্বপ্ন—এসবই তার কাহিনির রক্তে মিশে আছে। তার লেখায় কল্পনা একপ্রকার দলিল—মানুষের নিষ্ঠুরতার প্রমাণ, ক্ষমতার বিকৃতি, আর মানবতার সীমাহীন প্রতিরোধের দলিল। অ্যাটউডের কাছে সাহিত্য কখনোই পালাবার জায়গা নয়; বরং বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ানোর একমাত্র উপায়।
অন্য প্রান্তে দাঁড়িয়ে জেডি স্মিথ লেখালেখির আরেক দিক উন্মোচন করেন—সৃজনশীলতার রাজনীতি। তার বিশ্বাস, লেখককে এমন এক পরিসর দেওয়া উচিত যেখানে সে “লজ্জাহীনভাবে সৃষ্টি”—to make work without shame। অর্থাৎ, শিল্পীর কাজের ক্ষেত্র যেন বিচার বা অপরাধবোধের বোঝা না বয়ে বেড়ায়।
তিনি বিশেষ করে cultural appropriation নিয়ে চলা বিতর্কে লেখকদের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। স্মিথের মতে, ঔপন্যাসিকের বিশেষ অধিকার হলো মানব অভিজ্ঞতার সব দিককে অন্বেষণ করার—জাতি, লিঙ্গ, ভাষা বা ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে। তিনি তার লেখালেখির ছাত্রদের বোঝান জেমস বল্ডউইনের উদাহরণ দিয়ে: রাজনৈতিক বাস্তবতা কোনো বিমূর্ত ধারণা নয়, তা লেখকের ব্যক্তিগত চেতনার ভেতর দিয়ে জ্বলে উঠতে হয়। সেই পুড়ে যাওয়া থেকেই জন্ম নেয় সত্যিকারের প্রতিভা।
স্মিথের এই ভাবনার কেন্দ্রে রয়েছে এক গভীর মানবতাবোধ—যেখানে মানুষের পরিচয় তার জাতিগত বা সাংস্কৃতিক অবস্থানে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি লিখেছেন, “আমরা মাঝে মাঝে ভুলে যাই সেই রহস্যকে, যা সব আত্মপরিচয়ের মূলে লুকিয়ে আছে।” অর্থাৎ, মানুষ নামের এই সত্তা এমন এক অনির্দিষ্ট বিস্তার, যা কোনো একক লেভেল বা পরিচয়ে মাপা যায় না। লেখকের কাজ তাই এই রহস্যের সন্ধান করা—লজ্জাহীন, নির্ভীক, এবং সর্বান্তঃকরণে সৎভাবে।
এই অস্থির রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যুগে, যেখানে প্রতিদিনের খবরই এক নতুন মতাদর্শের তুফান, সেখানে উপন্যাসের ভূমিকা এক অমোঘ প্রতিরোধ। জেডি স্মিথ বিশ্বাস করেন—উপন্যাস কেবল বিনোদন নয়, বরং মানবতার শরণার্থী শিবির। তার অন্তর্নিহিত শক্তি এমন এক ক্ষমতা যা কোনো সামাজিক মাধ্যমের অ্যালগরিদমে নেই। তিনি বলেন, আজকের যুগে যখন ডিজিটাল অ্যালগরিদম মানুষকে একইরকম চিন্তা, একইরকম পছন্দ, একইরকম প্রতিক্রিয়ার ছাঁচে ঢালছে, তখন উপন্যাসই দাঁড়ায় তার বিপরীতে—একটি দুর্গের মতো। এই দুর্গ পাঠককে শেখায় পার্থক্যের প্রতি সম্মান, অন্যের ভেতর নিজের ছায়া দেখতে পাওয়া, এবং সেই অচেনাকে গ্রহণ করার শিল্প। অর্থাৎ, স্মিথের দৃষ্টিতে উপন্যাস এক অদৃশ্য স্বাধীনতার মন্ত্র—যেখানে মানুষের বহুরূপী অনুভূতি, ভুল, আকাঙ্ক্ষা, ও ভঙ্গুরতা একসঙ্গে বাঁচতে শেখে। অ্যালগরিদমের একরঙা জগতে এই সাহিত্যই শেষ আশ্রয়—একটি দুর্লভ মানবিকতার দুর্গ, যা এখনও মেশিনের নাগালের বাইরে।
মার্গারেট অ্যাটউড বরাবরই কোনো মতবাদ বা আন্দোলনের মঞ্চে একক মুখপাত্র হতে অস্বস্তি বোধ করেন। তাকে প্রায়ই বলা হয়েছে high priestess of the sisterhood—কিন্তু তিনি এই উপাধি পরিহার করেছেন। কারণ তার লেখালেখি কখনো কোনো গোষ্ঠীর প্রচারণা নয়; বরং নৈতিক জটিলতার মধ্যে দাঁড়িয়ে সত্যের মুখোমুখি হওয়া। #MeToo আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি যেভাবে বলেছেন, এটি একটি ভগ্ন আইনি ব্যবস্থার লক্ষণ—তা তার সমাজবীক্ষণের প্রখর দৃষ্টিরই প্রমাণ। অ্যাটউড মনে করেন, যদি বিচারব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করত, তবে এই আন্দোলনের প্রয়োজনই হতো না। তিনি এখানে নারী অধিকারের প্রশ্নটিকে মানবাধিকারের বৃহত্তর কাঠামোর মধ্যে দেখেন—একটি ছাড়া অন্যটি টিকতে পারে না। এই দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে আলাদা করে। তিনি আদর্শের নয়, ন্যায়ের অনুসারী। তাই প্রতিটি বিতর্কে, প্রতিটি অবস্থানে তিনি তিনটি প্রশ্ন তোলেন—“এটা কী সত্য? এটা কী ন্যায্য? আর cui bono?—কে লাভবান হচ্ছে?” এই তিন প্রশ্নই তার নৈতিক পথপ্রদর্শক। অ্যাটউডের কাছে লেখক হওয়া মানে কেবল গল্প বলা নয়; বরং পৃথিবীকে একবার থামিয়ে প্রশ্ন করা—যা আমরা সত্য বলে মেনে নিই, সেটি আদৌ কতটা ন্যায়সঙ্গত, আর কে সেই ন্যায়ের আড়ালে লুকিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধার করছে।
সালমান রুশদির জীবনই এক জীবন্ত প্রতীক—যে লেখক সত্যিই জানেন, বই কখনো থেমে থাকে না। তার নিজের ভাষায়, বইগুলির নিজস্ব যাত্রা থাকে; তারা লেখকের মৃত্যুকেও অতিক্রম করে, পাঠকের হাতে গিয়ে নতুন জীবন পায়। রুশদির মতো লেখকরা আধুনিক কল্পকাহিনির উৎস—তাদের ভাষা, তাদের প্রাণশক্তি, পাঠককে উত্তেজনায় ভরিয়ে দেয়।
অন্যদিকে অ্যাটউড দেখছেন এই সময়কে এক ঝড়ো, অস্থির এবং ভীতিকর পর্ব হিসেবে—“সত্যিই বেশ অস্থির” এবং “এটা সবচেয়ে ভীতিকর সময়,” তিনি বলেন। কিন্তু এই আশঙ্কা তাকে থামায় না। তিনি এখনও লিখে চলেছেন, থ্রেড বুনছেন এক অস্থির বিশ্বের ফাঁকে ফাঁকে—প্রমাণ করছেন, লেখালেখি কোনো নিভৃত সাধনা নয়, এক চলমান কর্মযজ্ঞ। এতে যেমন ব্যক্তিগত আনন্দ আছে, তেমনি রয়েছে এক বৃহত্তর দায়—পৃথিবীর পরিবর্তনশীল নৈতিক দৃশ্যপটের সঙ্গে সংলগ্ন থাকা।
লেখকের কর্তব্য, সব ভয়, হুমকি ও নিষিদ্ধতার মাঝেও সত্যের অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়া। কারণ সৃষ্টিশীলতা নদীর মতো—যতই বাঁধ দেওয়া হোক, সে নিজের গতিপথ নিজেই তৈরি করে। কখনও নরম স্রোতে, কখনও তীব্র স্রোতস্বিনীতে, লেখকের কাজ শেষ পর্যন্ত মানবতা ও অনুভূতির নতুন প্রতিধ্বনি সৃষ্টি করে। আর সেই প্রতিধ্বনি—যা কোনো সরকার, সেন্সর, বা মতাদর্শের শৃঙ্খল দিয়েও থামানো যায় না—সেই তো সাহিত্যের আসল বিজয়।তথ্যসূত্র