বাউল সাধক আবুল সরকারের মুক্তি, মানিকগঞ্জসহ সারা দেশে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার প্রতিবাদের অনুষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। শাহবাগে শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) শিল্পী, শিক্ষক, অ্যাক্টিভিস্টদের ‘সম্প্রীতির যাত্রা’য় হামলা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনীতিবিদরা বলছেন, এটা বৃহত্তরভাবে দেখার সুযোগ আছে। নির্বাচনকে ভেস্তে দিতে নানা রকমের পরিস্থিতি তৈরির আভাস এগুলো। মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, এ ধরনের হামলা দক্ষিণপন্থিদের উত্থানের জমিন তৈরি করে। এখনই সাবধান হতে হবে। প্রশ্ন হলো, সম্প্রীতিকে ভয় পায় কারা?
পূর্বঘোষণা অনুযায়ী শুক্রবার বিকালে ‘গানের আর্তনাদ’ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে ‘জুলাই মঞ্চ’র কয়েকজন সদস্য তাদের ব্যানার ছিড়ে ফেলার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেন আয়োজক এবং অংশগ্রহণকারীরা। ঘটনার এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা বারবারই আবুল সরকারের নামে কোনও সমাবেশ হবে না বলতে থাকেন।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6929b68d48e58" ) );
তবে, হামলার বিষয়ে জুলাই মঞ্চের অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘‘পাশে আমরা আমাদের কর্মসূচিতে ছিলাম এবং তাদের বুঝিয়েছি— ধর্ম নিয়ে কটূক্তিকারীদের পক্ষ নিয়ে যাতে কোনও অনুষ্ঠান না করে। কিন্তু তারা তা শোনেনি। এরা যেকোনও পরিস্থিতিতে মেয়েদের সামনে দিয়ে এগিয়ে আসে। এরা মেয়ে নয়, সন্ত্রাসী— তাদের সামনে দিয়ে তারা আক্রমণ চালিয়েছে।’’
গানের আর্তনাদ ছিল একটি প্রতিবাদী সংস্কৃতির অনুষ্ঠান। আয়োজকরা এটাকে ‘সম্প্রীতির যাত্রা’ নামে অবহিত করেছেন। এ ধরনের সম্প্রীতিকে ভয় পায় কারা, প্রতিবাদ সমাবেশে হামলার কারণ জানতে চাইলে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক বলেন, ‘‘এটা পরিকল্পিত হামলা। এটাকে নির্বাচনের বিরুদ্ধে তৎপরতা হিসেবে দেখছি। অভ্যুত্থানের পরে আদর্শগত ও মননের দিক থেকে ডানপন্থার উত্থান লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মুক্ত চিন্তাকে আঘাত করার লক্ষ্যে এরা শারীরিক উপস্থিতি জানান দিচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘সরকারের ভেতরও সরকার আছে, তারা পরোক্ষভাবে এদের সঙ্গে আছে। কেননা, একেকটা ঘটনা ঘটার পরে দেখা যাচ্ছে— এরা নামে মাত্র বিবৃতি দিচ্ছে, যার কোনও অর্থ নেই। এসব আক্রমণের মধ্য দিয়ে দক্ষিণপন্থি মৌলবাদ উত্থাপনের জমিন তৈরি হচ্ছে।’’
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিকর্মী বিথী ঘোষ। তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ একটা বহু বৈচিত্র্যের দেশ। বৈচিত্র্যকে যারা ভয় পায় এবং বাংলাদেশে যারা সংখ্যাগুরুর রাজনীতি করতে চায়, তারাই মূলত সম্প্রীতিকে ভয় পায়।’’ তিনি বলেন, ‘‘আমার ধারণা এই জায়গা থেকে তারাই হামলাটা করেছে।’’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw6929b68d48e86" ) );
কোনও না কোনও প্রশ্রয় পাওয়ার কারণে এ ধরনের হামলার ঘটনা ধারাবাহিকভাবে ঘটছে বলে মনে করেন অধিকারকর্মী খুশী কবীর। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘যারা সম্প্রীতিতে ভয় পায়, সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে না, যারা অস্থিতিশীল ও অসহনীয় অবস্থা তৈরি করতে চায়, তারাই এসব করছে। তারা এই সাহস পায় কী করে। যেটা দেখলাম, যারা আক্রমণ করেছে, সাহস পাচ্ছে— মানে তারা প্রশ্রয় পাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যদি জানতো কোনও প্রশ্রয় পাবে না, তাহলে এই সাহসই করতো না। ভালো খবর হলো, তারা কর্মসূচি ভেস্তে দিতে পারেনি এবং আয়োজকরা এটা চালিয়ে নিতে পেরেছেন। এটা চালিয়ে যেতেই হবে।’’
জুলাই মঞ্চ কারা এবং কারা এই ধরনের সম্প্রীতিকে ভয় পায় জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘জুলাই মঞ্চ কারা তা জানা নেই। আমাদের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আর যারা সম্প্রীতি চায় না, তারা আসলে ভূইফোঁর ও অবাঞ্ছিত শক্তি। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সব পক্ষেরই মত প্রকাশের স্বাধীনতা আছে। সেখানে কারও কর্মসূচিতে হামলা গ্রহণযোগ্য নয়।’’