শাহবাগ শোড় ছেড়ে চলে গেছেন ভোলা থেকে বরিশাল যাতায়াতের সেতু নির্মাণসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনকারীরা। পরে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা শাহবাগ মোড় ছেড়ে চলে যান।
এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল নিয়ে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে জড়ো হন। সেখানে তারা ৫ দফা দাবি তুলে ধরে আন্দোলন করেন।
তাদের দাবিগুলো হচ্ছে— ভোলা-বরিশাল যাতায়াতের সেতু নির্মাণ, ভোলায় মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ, গ্যাস সংযোগ প্রদানসহ অন্যান্য।
কয়েকঘণ্টা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে তারা দাবির পক্ষে নানা স্লোগান দেন।
আন্দোলন কর্মসূচিতে ঢাকায় বসবাসরত ভোলার বাসিন্দারা নানা ব্যানার ফেস্টুনসহ উপস্থিত ছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তারা শাহবাগ ছেড়ে দেন।
এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় শাহবাগ থেকে বাংলামোটরমুখী সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়ে থাকে পুলিশ।
শহবাগে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, আমাদের প্রধান দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ। ভোলার প্রতিটা মানুষ এই দাবিকে সমর্থন করে। যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটানোর জন্য এই সেতু খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের এই দাবির সঙ্গে পুরো ভোলাবাসীর সমর্থন রয়েছে। যে কারণে আমরা দাবি আদায়ের রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছি। আশা করবো, সরকার আমাদের দাবি মেনে নিয়ে খুব দ্রুত ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।
তারা বলেন, আমরা কয়েকদিন ধরে সেতু নির্মাণসহ পাঁচ দফা দাবিতে শাহবাগে কর্মসূচি পালন করছি। আজ আমরা একটি মিছিল বের করেছি— যেখানে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হয়েছেন। আমরা আমাদের দাবি, বাস্তবায়ন চাই। ভোলা-বরিশাল সেতু চালু হলে দুই দিকের মানুষের সংযোগ স্থাপন হবে, মানুষই খুবই উপকৃত হবে। তাই আমরা চাই, সরকার আমাদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে প্রত্যাশার এই সেতু নির্মাণ করে দিক।
আন্দোলনকারীদের একজন ইসমাঈল সুমন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত একটি সেতু নির্মাণ আমাদের প্রধান দাবি। যাতায়াতে আমরা চরম দুর্ভোগের শিকার হই। নদী পারাপারের ক্ষেত্রে লঞ্চের ওপরই নির্ভর করতে হয়, ফলে রাতের বেলায় যাতায়াত প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসার জন্য কাউকে ঢাকায় আনতে হলেও অনেক সময় পুরো একটি দিন অপেক্ষা করতে হয়।’
আন্দোলনকারীদের সবাই ভোলা জেলা থেকে আগত কিংবা চাকরির জন্য আগে থেকেই ঢাকা ছিলেন বলে জানান তিনি।
শাহবাগ থানার ওসি খালেদ মনসুর বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কয়েকটি দাবিতে বেশি কিছু মানুষ শাহবাগে জড়ো হয়ে আন্দোলন করছিলেন। কয়েকঘণ্টা তারা অবস্থান করেন। পরে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা চলে গেছেন। এখন পরিস্থিত স্বাভাবিক রয়েছে। যান চলাচলও করছে।’’