পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যার স্থায়ী সমাধান পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের মধ্যেই নিহিত বলে উল্লেখ করেছে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলন’। এজন্য সকল রাজনৈতিক পক্ষ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে একটি জাতীয় সংলাপ জরুরি বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
সম্প্রতি খাগড়াছড়ির গুইমারায় গুলিবর্ষণে নিহতদের স্মরণে সোমবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়কারী জাকির হোসেন। তিনি সংগঠনের পক্ষ থেকে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। এ সময় তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে জাতীয় সংলাপের আহ্বান জানান।
ঘোষণাপত্রে জাকির হোসেন বলেন, ‘খাগড়াছড়িতে একজন মারমা কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুলিবর্ষণে ৩ জন নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আদিবাসী আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে—আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রধান উপদেষ্টার দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করছি।’
ঘোষণাপত্রে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের নিরপেক্ষ তদন্তে নাগরিক প্রতিনিধি যুক্ত করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন, নিহত পরিবারের জন্য অন্তত ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা, পাহাড়ে সামরিকীকরণ নীতি পরিহার করে সিভিল প্রশাসনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সমাধান এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সময়সূচিভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক মাহমুদুল সুমন, ডা. মুশতাক হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন আন্দোলনের যুগ্ম সমন্বয়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
খাগড়াছড়িতে নিহতদের স্মরণে ১ মিনিট নীরবতা পালন করা হয় অনুষ্ঠানে।