দুই দিনের যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে পাকিস্তান আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তালেবান সরকার। হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আফগান কর্মকর্তারা। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও তিন ক্রিকেটারও রয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
আফগান প্রদেশ পাকতিকার তিনটি স্থানে শুক্রবার গভীর রাতে এ হামলা হয়। এক তালেবান কর্মকর্তা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে পাকতিকায় তিন স্থানে বোমা বর্ষণ করেছে। আফগানিস্তান এর জবাব দেবে।
আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানিয়েছে, পাকতিকার উরগুন জেলায় স্থানীয় একটি ক্রিকেট ম্যাচ শেষে বাড়ি ফেরার সময় বিমান হামলায় তাদের তিন খেলোয়াড়সহ আটজন নিহত হন। আরও সাতজন আহত হয়েছেন।
বোর্ড এক বিবৃতিতে বলেছে, এটি আফগান ক্রীড়া সম্প্রদায় ও ক্রিকেট পরিবারের জন্য এক গভীর ক্ষতি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এসিবি আগামী মাসে পাকিস্তানকে নিয়ে নির্ধারিত ত্রিদেশীয় টি–টোয়েন্টি সিরিজ থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করেছে।
ইসলামাবাদ দাবি করেছে, তারা আফগান সীমান্তের ভেতরে হাফিজ গুল বাহাদুর গ্রুপ-এর ঘাঁটিতে নির্ভুল বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই গোষ্ঠীই সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলা ও গুলিবর্ষণে সাতজন সেনা সদস্যকে হত্যা করেছিল।
হামলার পর আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বিবৃতিতে বলেছেন, আজ দোহায় পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বসবে আফগানিস্তান।
তিনি জানান, আফগান প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোল্লা মুহাম্মদ ইয়াকুবের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইতোমধ্যে দোহায় পৌঁছেছে।
পাকিস্তানও জানিয়েছে, দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ও গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল আসিম মালিক আলোচনায় যোগ দেবেন।
গত এক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের সীমান্তে তীব্র সংঘর্ষে বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। বুধবার শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতি কিছুটা শান্তি ফিরিয়েছিল, কিন্তু শুক্রবার রাতের হামলার পর আবার উত্তেজনা ছড়ায়।
জাতিসংঘের আফগান সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত আফগানিস্তান অংশে ৩৭ জন নিহত ও ৪২৫ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি উভয় পক্ষকে যুদ্ধবিরতি স্থায়ীভাবে বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
সীমান্ত শহর স্পিন বোলডাকে শুক্রবার সকালে কিছুটা স্বাভাবিকতা ফিরলেও সন্ধ্যার পর আতঙ্ক ফিরে আসে। স্থানীয় বাসিন্দা নানী (৩৫) বলেন, সব কিছু স্বাভাবিক ছিল, দোকানপাট খোলা ছিল। কিন্তু রাতের হামলার পর আবার সবাই আতঙ্কে।
আফগান কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো কেবল যুদ্ধবিরতিকে ব্যর্থ করেনি, বরং দুই দেশের সম্পর্ককেও নতুন করে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।