নেপালের সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি শুক্রবার অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। রাজধানী কাঠমান্ডুতে জেন-জি নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ ও সহিংসতায় অর্ধশতাধিক নিহত ও শতাধিক আহত হওয়ার পর এ নেতৃত্ব পরিবর্তন ঘটলো। বিক্ষোভের মুখে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করেছিলেন।
প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাওডেল তাকে শীতল নিবাসে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে শপথ বাক্য পাঠ করান। নতুন সরকারকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক অভিজাতদের বিরুদ্ধে জনরোষে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা সংসদ ভবনসহ সরকারি কার্যালয় ও রাজনীতিকদের বাসভবনে আগুন দেয়। সেনারা এখনো কাঠমান্ডুর রাস্তায় টহল দিচ্ছে।
সুশীলা কার্কি ২০১৬ সালের জুলাইয়ে নেপালের প্রথম নারী প্রধান বিচারপতি হন। তবে মাত্র এক বছরেরও কম সময় পর তিনি সাংসদদের আনা অভিশংসন প্রক্রিয়ায় পদ থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হন। সরকারের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তে সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়োগ বাতিল করে সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট রায় দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে অভিশংসন প্রস্তাব দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় ২০১৭ সালের জুনে তিনি অবসরে যান।
১৯৫২ সালের ৭ জুন বিরাটনগরে জন্ম নেওয়া কার্কি ১৯৭৫ সালে বারাণসী হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক এবং ১৯৭৮ সালে ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সিনিয়র অ্যাডভোকেট ও আইন অধ্যাপক হিসেবে তিনি দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন। তিনি নারী অধিকার ও মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। ২০০৪ সালে ‘সম্ভব কানুন পুরস্কার’সহ একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হন।
অন্তর্বর্তী নেতৃত্বে কার্কির নাম ঘোষণার আগে কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহও আলোচনায় ছিলেন। র্যাপার থেকে রাজনীতিক হয়ে ওঠা ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রতিনিধি ভারতে কাঠামোগত প্রকৌশল বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণে তার নেতৃত্বকেও অনেক তরুণ সমর্থন জানিয়েছিলেন।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া