মুগ্ধ ও ওয়াসিমরাই আজকের মহানায়ক: মাহমুদুর রহমান

মুগ্ধ ও ওয়াসিমরাই আজকের মহানায়ক: মাহমুদুর রহমান

কুমিল্লা: দৈনিক আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আপনারা মন খারাপ করবেন না, আপনারা গর্বিত মা-বাবা। আপনাদের সন্তানদের আত্মত্যাগে ৩৬ জুলাই যে বিপ্লব হয়েছিল তা শুধু বাংলাদেশেই না সারা বিশ্বে আলোচিত হবে শতাব্দীর পর শতাব্দী।

আজ থেকে ৫০ বছর আগে মারা যাওয়া বিপ্লবের চেগুয়েভারাকে মহানায়ক হিসেবে জানতাম। আজকের মহানায়ক হলো আবু সাইদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমের মতো শহীদেরা। এরা আমাদের মহানায়ক। আমাদের আর বাইরে থেকে মহানায়ক আনতে হবে না।

সোমবার (২০ অক্টোবর) কুমিল্লা নবাব ফয়েজুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আমার দেশ পাঠক মেলার আয়োজনে ৩৬ জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দুঃখের বিষয় হলো আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়নি। আমরা যখন পত্রিকা বের করা শুরু করলাম, তখন খুব দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলাম। আগে তো আমাদের জন্য সহজ ছিল, কারণ আমরা তখন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লিখতাম। এখন তো যাদের সম্পর্কে লিখতে হবে, তারা তো সবাই জুলাই যোদ্ধা। বিএনপি জুলাই যোদ্ধা, জামায়াতে ইসলামী জুলাই যোদ্ধা, এনসিপি জুলাই যোদ্ধা। এনসিপি তো জুলাইয়ের মহানায়ক, তারা তো জুলাইয়ের নেতৃত্ব দিয়েছে। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে লিখব? কিন্তু লিখতে তো হবে। তারাও তো ভুল করে, সব তো আর সঠিক করছে না। এনসিপি আমার সন্তানতুল্য, বিএনপি-জামায়াত আমার বন্ধু। তারপরেও তাদের বিরুদ্ধে লিখতে হবে। কারণ সংবাদপত্রটাই এমন। সবাই এখন সরকারে যেতে চায়। তাহলে আপনি কার পক্ষে লিখবেন, কার মন জয় করবেন? যার বিপক্ষে যাবেন, সেই তো শত্রু হয়ে যাবে।

যদি আপনি সৎ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক হতে চান, তাহলে পত্রিকা চালানো সবচেয়ে কঠিন কাজ। সংবাদপত্রের কাজ প্রতিদিন লড়াই করা। এটা আপনাকে প্রতিদিন নতুন সংবাদ দিচ্ছে। এটা ২৪ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেই বাসি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, আমাদের তরুণদের এই বিপ্লব ইউনিক ছিল। বাংলাদেশের মাটিতে এই আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। কোনো বিদেশি শক্তির মদদ ছিল না এই আন্দোলনে। তরুণদের হাতে কোনো অস্ত্র ছিল না তবুও তারা ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে সফল হয়েছে।

মাহমুদুর রহমান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, গতকাল বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আমার দেশের সাংবাদিকের ওপর যে হামলা হয়েছে এতে আমি খুবই মর্মাহত। যখন আমাকে হাসিনা সরকারের ডিবি পুলিশ কুষ্টিয়া নিয়ে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে সেইদিন যে কষ্ট পেয়েছিলাম, গতকালের সাংবাদিক নির্যাতনের খবরে তারচেয়েও বেশি কষ্ট পেয়েছি। এদেশে নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের লেখা অব্যাহত থাকবে। আমরা কখনো আপসে বিশ্বাস করি না। আমি শেখ হাসিনা পুত্র জয়ের দুর্নীতির সংবাদও নির্ভয়ে ছাপিয়েছিলাম।  

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন আমার দেশ পাঠক মেলা কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি ডা. আরিফ মোর্শেদ খান। আমার দেশ কুমিল্লা প্রতিনিধি এম হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যন্সেলর অধ্যাপক ড. মো. হায়দার আলী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার ড. সোলায়মান, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের এমডি এম আবদুল্লাহ, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মু. শফিকুল আলম হেলাল, জাতীয় নাগরিক পার্টির কুমিল্লা মহানগরের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলার আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক, সাংস্কৃতিক সংগঠক জহিরুল হক দুলাল, আমার দেশ পাঠক মেলা কুমিল্লা জেলা শাখার সেক্রেটারি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান মনির।

জুলাই আন্দোলনে শহীদ হামিদুর রহমান সাদমানের মা কাজী শারমিন আক্তার কান্নারত অবস্থায় তার বক্তব্যে জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করেন। আহতদের চিকিৎসা করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়টিও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবার ও আহতদের সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

আরএ

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin