লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির প্রথম দিন, শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই বন্ধ থাকবে

লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতির প্রথম দিন, শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই বন্ধ থাকবে

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) থেকে লাগাতার পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছেন। বিদ্যালয়ে অবস্থান করে এই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে। কর্মবিরতির আওতায় থাকবে ‘শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই-দ্বিতীয় পর্ব। দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের যথাযথভাবে কর্মবিরতি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। 

বুধবার (২৬ নভেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের ডাকে এই কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, নভেম্বরের মধ্যে আমাদের দাবির বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি দৃশ্যমান না হওয়ার কারণে সম্মিলিতভাবে কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, মোহাম্মদপুর থানার প্রতিটি বিদ্যালয়ে কর্মবিরতি চলছে। শিক্ষার্থীদের শিখন অবস্থান যাচাই-দ্বিতীয় পর্ব কর্মবিরতির আওতাভুক্ত থাকবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে লিপি বলেন, সবাই নিজ, নিজ থানা এবং উপজেলাগুলোয় কর্মবিরতি নিশ্চিত করেন। সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মবিরতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালনের খবর জানিছেন শিক্ষকরা।

বুধবার বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) সভাপতি প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেম, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, শিক্ষক নেতা মু মাহবুবুর রহমান এবং শিক্ষক নেতা মো. আনোয়ার উল্যার নেতৃত্বে এই কর্মরিতি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

আনোয়ার উল্যা বলেন, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষকদের এই ন্যায্য দাবি পূরণ না করা অমানবিক এবং চরম হতাশার জন্ম দিয়েছে। চলমান লাগাতার কর্মবিরতির কারণে দেশের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমে মারাত্মক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও প্রাথমিক শিক্ষার বৃহত্তর স্বার্থে অবিলম্বে শিক্ষকদের আপাতত ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেওয়া হোক। আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত এই অচলাবস্থা দূর করার জন্য সরকার এগিয়ে আসুক।

শিক্ষক নেতারা জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড জটিলতা নিরসণ ও সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে গত ৮ নভেম্বর থেকে অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি ও ঢাকার শাহবাগে কলম সমর্পণ কর্মসূচি পালন ও কর্মসূচিতে পুলিশের অতর্কিত হামলায় শতাধিক শিক্ষক আহত হওয়ার পর প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাদের সঙ্গে ৯ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ১০ নভেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ে আলোচনা হয়। আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১০ নভেম্বর অর্থমন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত তিন দফা দাবির মধ্যে ১১তম গ্রেডের প্রজ্ঞাপন জারি ও অন্যান্য দাবি বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রণালয়ের কমিটমেন্ট অনুযায়ী আপাতত ১১তম গ্রেডসহ তিন দফা বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি চলবে।

তিন দফা দাবি

প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের তিন দফা দাবি হলো– সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার বিষয়ে জটিলতার অবসান এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি।

Comments

0 total

Be the first to comment.

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ BanglaTribune | শিক্ষা

ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বদরুনন্নেসার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

রাজধানীর সাত সরকারি কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবার উদ্বেগ জানিয়েছে...

Sep 23, 2025

More from this User

View all posts by admin