বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় দ্রুত তার বড় ছেলে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফিরতে পারেন। বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে তিনি ঢাকার পথে রবিবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে লন্ডন ত্যাগ করতে পারেন বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সময় সোমবার (১ ডিসেম্বর) ঢাকায় পৌঁছাতে পারেন তিনি।
তবে রবিবার বাংলাদেশে ফেরার প্রস্তুতির বিষয়ে তথ্য নিশ্চিত করতে পারেননি যুক্তরাজ্য বিএনপির কোনও দায়িত্বশীল নেতা।
এদিকে শনিবার সকালে তারেক রহমানের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি জানান, এমন সংকটকালে মায়ের স্নেহস্পর্শ পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যেকোনও সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সবার মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।
একই পোস্টে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সবার আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সবার প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
খালেদা জিয়া হাসপাতালে যাওয়ার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘তারেক জিয়া কবে ফিরবেন’ প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে সঠিক দিন-তারিখ কেউই নিশ্চিত করতে পারেনি। যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এমএ মালেক বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। শনিবার লন্ডন সময় ভোররাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তারেক রহমান রবিবার দেশে ফিরছেন কিনা জানতে যুক্তরাজ্য বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমদ কোনও তথ্য জানাননি।
তবে শনি-রবিবার দুদিনই লন্ডন থেকে বিমান বাংলাদেশের ঢাকার ফ্লাইট রয়েছে। তারেক রহমানের নামে রবিবারের বিমানের ফ্লাইটে কোনও বুকিং দেওয়া হয়েছে কিনা সেটি জানতে বিমানের লন্ডন অফিসের ম্যানেজারের নম্বরে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
যুক্তরাজ্যর বিএনপির অনেক নেতা, তারেক রহমানের ঘনিষ্টজনসহ অনেকেই তার সঙ্গে দেশে ফিরতে তুমুল আগ্রহী হলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তার সঙ্গে কারা দেশে ফিরছেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। অনেকে একই দিনে ভিন্ন ট্রানজিট ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে ঢাকসুর সিনেট সদস্য, নব্বইয়ের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা নসরুল্লাহ খান জুনায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি নেতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে যাচ্ছেন, দ্রুতই মাকে দেখতে দেশে যাচ্ছেন, এটি নিশ্চিত। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, আমাদের সবার চেয়ে উনার মাকে উনিই সবচেয়ে বেশি ভালবাসেন।
ইল্লেখ্য, গত ২৩ নভেম্বর রাতে মেডিক্যাল বোর্ডের পরামর্শক্রমে এয়ারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। রাতেই মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী জানান, খালেদা জিয়ার ফুসফুসে (চেস্ট) ইনফেকশন হয়েছে। সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।