পুনরায় বাংলাদেশের টেস্ট দলের নেতৃত্বে থাকতে রাজি হয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। চলতি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চক্রের পুরোটাতেই এই দায়িত্ব পালনে রাজি হয়েছেন তিনি। নেতৃত্বে থাকা নিয়ে এক প্রশ্নে সোমবার শান্ত বলেছেন, ব্যক্তিগত মতের চেয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার কারণেই টেস্ট দলের নেতৃত্বে থাকতে রাজি হয়েছেন।
মঙ্গলবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে শুরু হচ্ছে প্রথম টেস্ট। তার আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে টেস্ট অধিনায়ক আজ বলেছেন, ‘কিছুদিনের জন্য আমি অধিনায়ক ছিলাম না। সেই সময়টা আমি উপভোগ করেছি, ভালো সময় কেটেছে। আগে যে কারণে দায়িত্ব ছাড়ার কথা বলেছিলাম, সেটা আগেই জানিয়েছি। তবে ক্রিকেট বোর্ড খুব সুন্দরভাবে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এরপর সবার সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। একসময় মনে হলো, বাংলাদেশের ক্রিকেট আমার চেয়ে অনেক বড় বিষয়, আর দলের প্রয়োজন আমার ব্যক্তিগত মতের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’
গত জুনে শান্তকে আকস্মিকভাবে ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই সময় বোর্ড তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক রাখার কৌশলের অংশ হিসেবে ওয়ানডে নেতৃত্ব দেন মেহেদী হাসান মিরাজের কাঁধে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিলেন না শান্ত। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কায় কলম্বো টেস্ট শেষে টেস্ট অধিনায়কত্বও ছেড়ে দেন তিনি।
কিন্তু চার মাস পর আয়ারল্যান্ড সিরিজের আগে বোর্ডের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর ফের টেস্ট নেতৃত্বের দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছেন। প্রথমে বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন ফাহিম তাকে বোঝাতে ব্যর্থ হলেও পরবর্তীতে ভাইস-প্রেসিডেন্ট ফারুক আহমেদের সঙ্গে আলোচনায় সিদ্ধান্তে পৌঁছান শান্ত, ‘যখন বোর্ডের সিনিয়র কর্মকর্তারা, যারা নিজেরাও সাবেক ক্রিকেটার, পরামর্শ দেন—তারা অবশ্যই দলের মঙ্গলের কথা ভাবেন। আমি সেই কথাগুলোকে শ্রদ্ধা করেছি। এক কথায় বলতে গেলে, নিজেকে নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে প্রাধান্য দিয়েছি। তাই দলের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্তে ফিরেছি।’
শান্ত আরও বলেছেন, ‘আমি কোনও সমস্যা নিয়ে তেমন কিছু বলিনি। তবে বোর্ডের সঙ্গে খুবই ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে—কীভাবে সম্ভাব্য সমস্যা মোকাবিলা করা যায় বা এড়ানো যায়, সে বিষয়ে আমরা সবাই একই অবস্থানে। আশা করছি, সামনে দল ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে এবং বোর্ডও আমাকে পূর্ণ সহযোগিতা করবে।’
তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক নীতির বিরোধিতা থেকে মত বদলের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন শান্ত, ‘একসময় মনে হয়েছিল তিন অধিনায়ক রাখা যুক্তিসঙ্গত নয় এবং তার যথেষ্ট কারণও ছিল। তবে বোর্ডের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় আমরা বিষয়গুলো পরিষ্কার করেছি—কীভাবে কাজ করলে সমস্যা এড়ানো যায়, তা নিয়েও কথা হয়েছে। এখন আমরা তিনজনই (আমি, লিটন ও মিরাজ) একই পথে আছি।’