যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করতে পারে।বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ভি. আনন্দ নাগেশ্বরন জানিয়েছেন, পারস্পরিক শুল্কও বর্তমান ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০-১৫ শতাংশ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
কলকাতার এক অনুষ্ঠানে নাগেশ্বরন বলেন, আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে, আমরা অন্তত ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহারের একটি সমাধান দেখতে পাবো।
তিনি আরও বলেন, এটিও হতে পারে যে ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কও নেমে আসবে সেই মাত্রায়, যা আমরা আগে অনুমান করেছিলাম—প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে।
ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার ইতিবাচক এবং ভবিষ্যতমুখী বাণিজ্য আলোচনা করেছে বলে নয়াদিল্লি জানিয়েছে। ফলে ভারতের অগ্রগতির আশা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ান তেল কেনার কারণে নয়াদিল্লির ওপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপ করেছিলেন।
ট্রাম্প গত ২৭ আগস্ট থেকে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ শাস্তিমূলক কর আরোপ করেন, যা মোট শুল্ককে দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশে উন্নীত করে। এটি ছিল মস্কোর ইউক্রেন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর ওয়াশিংটনের প্রচেষ্টার অংশ।
ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার টেলিফোনে কথা বলেন। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার যুদ্ধ শেষ করতে সহায়তা করার জন্য মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
ইউক্রেন নিয়ে কোনও চুক্তির বিস্তারিত তথ্য কেউই প্রকাশ করেননি। তবে এই ফোনালাপ যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছিল, যা ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। দুই দেশই চীনের ব্যাপারে উদ্বেগ ভাগাভাগি করে।
ট্রাম্প গত সপ্তাহে এক বিবৃতিতে আরও সমঝোতামূলক সুরে কথা বলেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে তারা একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করতে পারবেন।
ভারতের শেয়ারবাজারও নাগেশ্বরনের বক্তব্যের পর ঊর্ধ্বমুখী হয়।