যুক্তরাজ্যে ছুরি-সংক্রান্ত অপরাধ দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ কঠোর হওয়া সত্ত্বেও ছুরি-সংক্রান্ত সহিংসতা জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। সরকার ছুরি অপরাধ অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে এবং সম্প্রতি জানিয়েছে, প্রায় ৬০ হাজার ছুরি জব্দ বা জমা দেওয়া হয়েছে। সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অনেকেই প্রকাশ্যে ছুরি বহন করছে। তবে গত বছর ছুরি-সংক্রান্ত খুনের ঘটনা ১৮ শতাংশ কমেছে।
অক্টোবরে ম্যানচেস্টারের এক সিনাগগে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই জন নিহত হন। তাদের মধ্যে একজন পুলিশের ভুল গুলিতে নিহত হন এবং আরও কয়েকজন আহত হন।
মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ধারালো অস্ত্র জড়িত প্রায় ৪৯ হাজার ৬০০টি অপরাধ রেকর্ড করা হয়। এটি ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ১.৪ শতাংশ কম এবং ২০১৯-২০ সালের তুলনায় ৪.৫ শতাংশ কম।
ছুরি-সংক্রান্ত অপরাধ বলতে এমন অপরাধ বোঝায় যেখানে ধারালো অস্ত্র বা ব্লেডযুক্ত কোনও জিনিস ব্যবহৃত হয়। সাধারণত: গ্যাং সংস্কৃতি, দারিদ্র্য ও বৈষম্য, কম সামাজিক সহায়তা, আত্মরক্ষার মানসিকতা, মাদক চক্র, পারিবারিক ভাঙন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবের কারণে এই ধরনের অপরাধ বাড়ছে।
হোম অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত ধারালো অস্ত্র—যেমন ছুরি ও ভাঙা বোতল—ব্যবহার করে ২৬২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৩-২৪ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সংঘটিত মোট ৫৭০টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে ৪৬ শতাংশ ক্ষেত্রেই ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
ওএনএস তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে মেট্রোপলিটন পুলিশ এলাকায় প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে ১৮২টি ছুরি-সংক্রান্ত অপরাধ রেকর্ড করা হয়েছে—যা সবচেয়ে বেশি।
বিচার বিভঅগের সাজা সংক্রান্ত পরিসংখ্যান দেখায়, মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত, ছুরি বা আক্রমণাত্মক অস্ত্র রাখার অভিযোগে প্রায় ১৯ হাজার ৭০০টি সতর্কতা ও দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১৮ শতাংশ অপরাধীই ছিল কিশোর, যাদের বয়স ১০ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
এনএইচএস ডিজিটালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ সালে ইংল্যান্ডে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ৩,৫০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এটি ২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ১০.৪ শতাংশ কম এবং ২০১৪-১৫ সালের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম।
সূত্র: আল জাজিরা