মাই টিভির চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন সাথীকে জুলাই আন্দোলনের দুই মামলা ও তার ছেলে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদিকে এক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছেন আদালত। কাঠগড়ায় উঠার পর পরই বাবা ও ছেলেকে আলাপচারিতায় দেখা যায়।
সোমবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জিএম ফারহান ইশতিয়াকের আদালতের কাঠগড়ায় তারা কথা বলেন।
এ দিন সকাল ১০টার আগে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। ১০টা ৫০ মিনিটের দিকে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) হাজী সেলিম, সোলায়মান সেলিম, গোলাম কিবরিয়া টিপুসহ তাদের হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরানো হয়। ৯ মিনিট পর তাদের দ্বিতীয় তলার ২৭ নম্বর কোর্টে উঠানো হয়। আদালতে উঠানোর সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য তৌহিদ আফ্রিদি বলেন, ‘আমার বাচ্চা হবে। দোয়া করবেন।’
দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা মাথার হেলমেট ও বুলেট প্রুফ জ্যাকেট খোলেন। পরে কাঠগড়ার সামনের অংশে চলে যান নাসির ও তৌহিদ আফ্রিদি। দেয়ালের কাছাকাছি দাঁড়ান তৌহিদ আফ্রিদি, লোহার ব্যারিকেডের পাশে নাসির উদ্দিন সাথী। সেখানে ২ মিনিটের মতো কথা বলেন। বিচারক এলে তাদের আলাপ থেমে যায়।
১১টা ২ মিনিটের দিকে বিচারক এজলাসে উঠার পর শুনানির দিকে মনোযোগ দেন। মিরপুরে হত্যা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সাথীর নাম ডাকেন। তখন নাসির উদ্দিনের আইনজীবী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আমি সেটা জানি না। আমাকে কেন গ্রেফতার করা হবে, সেটা তো জানা আমার অধিকার। আমরা এ বিষয়ে কোনও তথ্য জানতে পারিনি।’ পরে বিচারক তদন্ত কর্মকর্তার কাছে গ্রেফতার দেখানোর কারণ জানতে চান। তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘মিরপুরে বিএনপি কর্মী মাহফুজ আলম শ্রাবণ হত্যা মামলার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এ মামলায় এজাহারনামীয় ২২৮ নাম্বার আসামি তিনি। পরে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করেন।’
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68f605913cb3d" ) );
এ সময় তাদের বাম পাশে লোহার ব্যারিকেড ধরে দাঁড়ান হাজী সেলিম ও তার ছেলে সোলায়মান সেলিম। আদালতে নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে থাকেন সোলায়মান সেলিম। হাজী সেলিম আইনজীবীর সঙ্গে ইশারা কথা বলেন। কিছুক্ষণ পর দুজনেই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। পরে বাড্ডা থানার দুর্জয় আহমেদ হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক গোলাম কিবরিয়া খান নাসির উদ্দিন সাথী ও তৌহিদ আফ্রিদিকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এ মামলার এজাহারনামীয় ৪৫ নাম্বার আসামি সাথী ও ৪৬ নাম্বার আসামী তৌহিদ আফ্রিদি।’ পরে আদালত তাদের গ্রেফতার দেখান। ১১টা ৮ থেকে ১১টা ১২ মিনিটের দিকে নাসির তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেন।
ইশারায় কথা না বলতে পারার কথা বোঝান হাজী সেলিম
সাবেক সংসদ সদস্য হাজী সেলিম আদালতকে ইশারায় জানালেন, ‘আমি কথা বলতে পারি না।’ এর আগে তার আইনজীবী কথা বলার অনুমতি নেন। এ দিন ১১টা ৬ মিনিটের দিকে আইনজীবীর কাছে ইশারায় চশমা চান হাজী সেলিম। এ সময় তাকে চশমা এনে দেন তার আইনজীবী। পরে ১১টা ৮ মিনিটের দিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১০ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন।
রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘এ আসামিরা হলেন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সহযোগী ও অবৈধ সরকারের সাবেক এমপি হাজী সেলিম ও তার ছেলে সোলায়মান সেলিম। এ মামলাটি হলো গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা একজন আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা করে। এ মামলায় আগেই তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তাদের দুজনের ১০ দিনের রিমান্ড প্রার্থনা করছি।’
পরে হাজী সেলিম ও সোলায়মান সেলিমের পক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ‘এর আগেও বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। হাজী সেলিম ইশারায় কথা বলেন। তিনি কথা বলতে পারেন না। তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলে মামলার কী অগ্রগতি হবে? যে লোক কথা বলতে পারে না। ওনাকে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হলে কী পাওয়া যাবে? হাইকোর্টে আদেশে বলা আছে, বাক প্রতিবন্ধী, বয়স্ক হলে রিমান্ড দেওয়া যাবে না।’
পরে আইনজীবী বলেন, ‘হাজী সেলিম কথা বলতে চান।’ এ সময় হাজী সেলিম মুখের কাছে হাত নিয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেন, তিনি কথা বলতে পারেন না। পরে আইনজীবী বলেন, ‘মাননীয় আদালত আপনি দেখেছেন, উনি বাক প্রতিবন্ধী। তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন চাচ্ছি। আর সোলায়মান সেলিমকে জেল গেইটে জিজ্ঞাসাবাদ দেওয়া যেতে পারে।’ পরে উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে বিচারক চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। পরে দুপুর ২টার পর তাদের কারাগারে উদ্দেশ্য নিয়ে যাওয়া হয়।