মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সুপার ওভারে গিয়ে ম্যাচ হেরেছে বাংলাদেশ। কিন্তু অলরাউন্ডার রিশাদ হোসেনকে সুপার ওভারে ব্যাট করতে না দেখে অবাক হয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেন। যেহেতু শুরুর দিকে তার ঝড়ো ব্যাটিংয়েই স্কোর দুইশ অতিক্রম করেছে।
চলতি তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক পারফর্মার রিশাদ। ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই নজরকাড়া পারফরম্যান্সে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছেন তিনি। সিরিজের প্রথম ম্যাচে নিজের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নিয়ে ক্যারিবীয় ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। তার আগে ১৩ বলে ২৬ রানের ইনিংস খেলে দলের সংগ্রহ ২০৭ রানে নিতে ভূমিকা রাখেন তিনি।
দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন ২১ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। মাত্র ১৪ বলে তিনটি চার ও তিনটি ছক্কায় অপরাজিত ৩৯ রানে দলকে নিয়ে যান ২১৩ রানে। এরপর বল হাতেও তিন উইকেট নিয়ে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখান তিনি।
তবু বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো হওয়া পুরুষদের ক্রিকেটে সুপার ওভারে ব্যাট করতে দেখা যায়নি রিশাদকে। ১১ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ পাঠায় সৌম্য সরকার, সাইফ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তকে। তিনজন মিলে তুলতে পারেন মাত্র ৯ রান (এর মধ্যে চারটি এক্সট্রা)। তাতে অল্পের জন্য জয় হাতছাড়া হয়েছে টাইগারদের। এই জয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ১-১ সমতা ফিরিয়েছে।
ম্যাচ শেষে আকিল জানান, রিশাদকে না পাঠানোয় তারা বেশ অবাক হয়েছিলেন, ‘হ্যাঁ, আমি একটু অবাক হয়েছিলাম। যে খেলোয়াড় ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ঝড় চালিয়েছে, সে-ই সুপার ওভারে নামেনি। বিশেষ করে ছোট বাউন্ডারির দিকে সে দুইটা ছক্কা মেরেছিল। আমরা সবাই একটু বিস্মিতই হয়েছিলাম। আমাদের জন্য এটা ভালো হয়েছে। ওর শক্তি ও নাগাল দুটোই ছিল, কারণ সে লম্বা ছেলেও বটে। ওকে না পাঠানোটা ওদের ভুল ছিল।’
অন্যদিকে, বাংলাদেশ ওপেনার সৌম্য সরকার জানান, রিশাদকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তটা মূলত টিম ম্যানেজমেন্টের, ‘কোচ প্ল্যান করেছেন। কোচ ও ক্যাপ্টেন দুজনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাই মূল ব্যাটারদের পাঠানোর চিন্তা থেকেই এই সিদ্ধান্ত।’
সুপার ওভারে বেশিরভাগ বল মোকাবিলা করা সৌম্য নিজেও স্বীকার করেছেন, বাউন্ডারি না পেতে পারাটাই দলের হারের অন্যতম কারণ, ‘হ্যাঁ, বলা যায় এটা আমার ব্যর্থতা। বাঁহাতি স্পিনার ছিল, আত্মবিশ্বাস ছিল বাউন্ডারি আনতে পারবো। কিন্তু উইকেটটা খুব কঠিন ছিল, বল পুরনো ছিল, স্কিড করছিল, ধীরে আসছিল, অনেক টার্নও ছিল। বাউন্ডারি মারা সহজ ছিল না। পরেরবার যদি এমন পরিস্থিতি আসে, তবে এমন কন্ডিশনে ছক্কা মারার অনুশীলন করতেই হবে।’