ঋতুর বদলের সাথে সাথে পোশাক বদল হয়। আমাদের দেশে এখন তিন মাসের বেশি শীত অনুভূতি থাকে না। কিন্তু যে সময়টুকুতে শীত অনুভূত হয় সেসময় বেশ ভারী কাপড় প্রয়োজন হয়। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই সেই অনুভূতি টের পেতে শুরু করেছেন সবাই। এখনও হয়তো ভারী কাপড় নামাননি, কিন্তু আর ১৫ দিনের মধ্যে সেটিও করতে হবে। মনে রাখবেন, গত শীতের পোশাক পরিষ্কার না করে পরা যাবে না। কেননা, ধুলায় আপনার অ্যালার্জি থাকতে পারে, সফট টিস্যু ইনফেকশন হতে পারে। এসব নামিয়ে ধুয়ে কড়া রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করুন। এটাও মনে রাখবেন শীতের এই তিন মাসের মধ্যেও অন্তত একবার শীতের কাপড় পরিষ্কার করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে পোশাক থাকবে নরম, উষ্ণ, আর তাজা গন্ধে ভরা।
চলুন জেনে নিই কোন পোশাক কীভাবে পরিষ্কার করবেন
গত বছর শীত শেষে যখন পোশাক তুলে রেখেছিলেন তখন যদি পরিষ্কার করে তুলে রাখেন তবে এবছর নামানোর পরে না ধুলেও চলবে। দীর্ঘদিন আলমারিতে থাকার পর একটু রোদে বা খোলা বাতাসে রেখে দিলে আর্দ্রতা ও গন্ধ চলে যায়। তবে যদি উলের বা সোয়েটারজাত কাপড় হয়, লেবেলে নির্দেশিত মতো পরিষ্কার করুন। অনেক শীতের পোশাক ড্রাই ক্লিন করলে ভালো থাকে। যদি কোথাও ছোপ বা ফাঙ্গাস দেখা যায়, ভিনেগার মিশ্রিত পানিতে আলতো করে পরিষ্কার করতে পারেন।
উলের সোয়েটার বা কার্ডিগান
বরাবরই উলের নানা রঙের সোয়েটার ফ্যাশনের জন্য উপযোগী। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে এটির ব্যবহার বেশি দেখা যায়। আর যে কোনও বয়সী নারীদের কার্ডিগান খুব পছন্দের। অফিসগামী যারা শাড়ি পরেন তাদের জন্য তো বটেই। এধরনের পোশাক কুসুম গরম পানিতে হালকা ডিটারজেন্ট মিশিয়ে হাতে ধুতে হবে। অবশ্যই জোরে ঘষবেন না। আলতো করে চেপে ফ্যানাটা বের করে দিন। শুকানোর সময় তারে লম্বা করে ঝুলিয়ে নয়, আড়াআড়িভাবে মেলে দিন বা ফ্লোরে তোয়ালে দিয়ে তার ওপর সমানভাবে রেখে শুকান। ধোয়ার পর সামান্য কন্ডিশনার মিশালে সোয়েটার নরম থাকবে।
নানা ধরনের জ্যাকেট
ওয়েস্টার্ন পোশাকে আনুষ্ঠানিক অনানুষ্ঠানিক যেকোনও জায়গায় জ্যাকেটটা বেশ মানিয়ে যায়। হালকা ভারী নানা ধরনের জ্যাকেট এখন বাজারে পাওয়া যায়। আগের মতো একঘেয়েমি নেই। কিন্তু সেটা কীভাবে যত্ন নিবেন সে চিন্তাও করতে হবে। যদি কলারে বা সাইডে থাকা লেবেলে ড্রাই ক্লিন অনলি লেখা থাকে, তাহলে ড্রাই ক্লিন করান। যদি ওয়াশেবল হয় তবে মেশিনে জেন্টল মোডে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে ধুয়ে নিন। রোদে বেশি সময় ঝুলিয়ে রাখবেন না। হালকা শুকিয়ে গেলে ঘরে তুলে ঝুলিয়ে রাখুন।
মাফলার, স্কার্ফ কিংবা শাল
আপনি সোয়েটার, জ্যাকেট যাই পরুন না কেন, সাথে একটা মাফলার বা স্কার্ফ আরেকটু ফ্যাশনেবল করে তোলে। এখন নানা ধরনের দেশি বিদেশী স্কার্ফ পাওয়া যায়। এসব যত্ন নিয়ে না ধুলে খুব কমসময়ে নষ্ট হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। আর শাল যারা ব্যবহার করেন তারা সাধারণত সৌখিন হন এবং অনেক চড়া দামের শাল নিজের আলমারিতে থাকে। সেটাতে বাড়তি যত্ন নিতেই হবে। মনে রাখবেন এসব সিল্ক বা পশমের হলে ঠান্ডা পানিতে হাতে ধুতে হবে। তুলোর হলে মেশিনে জেন্টল মোডে ধোয়া যায়। শুকিয়ে নেওয়ার পর হালকা ইস্ত্রি করুন (কম তাপে)। উপরে হালকা ভেজা সুতিকাপড় দিয়েও ইস্ত্রি করতে পারেন।