ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইটেনেন্স) লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস অবৈধ প্রতিষ্ঠানের যে তালিকা করেছে, সেখানে শাহ আলম ট্রেডার্স নামে ওই রাসায়নিকের গুদামটিও ছিল। অভিযান চালানোর পর্যায়ে ছিল গুদামটি।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকাল সাড়ে ৪টায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
লে. কর্নেল তাজুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থাকে জানানোর পাশাপাশি তিনবার ওই গুদামে নোটিশ দেওয়া হয়। গুদামটি অভিযান চালানোর পর্যায়ে ছিল।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন, আমরা মঙ্গলবার প্রায় ১১টা ৪০ মিনিট থেকে এ পর্যন্ত কার্যক্রম করছি। গার্মেন্টস অংশের আগুন কালই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কেমিক্যালের যে গোডাউন তার আগুন আমরা আজ ২টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণ ঘোষণা করেছি। তবে এখানে বেশকিছু বিষয় রয়েছে। এটা একটা কেমিক্যাল গোডাউন এবং এখানে প্রায় ছয়-সাত ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য রয়েছে। রাসায়নিক দ্রব্যের মাত্রা এখনও আমরা যাচাই-বাছাই করতে পারি নাই, তবে পুরা গোডাউন ভরা। বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য আমরা ধাপে ধাপে বের করছি। পানি দিয়ে ফায়ারফ্লোর ফ্লাট করে এটাকে আমরা বের করছি। এটা সময়সাপেক্ষ একটি বিষয়, আমরা সিস্টেমেটিক কাজ করছি।
ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের রাজউক অথবা ভবনবিশারদরা বলতে পারবেন, এটা কতটুকু ড্যামেজ হয়েছে। তবে আপাত দৃষ্টিতে এটা অনেকাংশে ড্যামেজ এবং এখানে যেকোনও সার্চ অপারেশন করাটা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ঝুঁকিটা এড়ানোর জন্য আমরা প্রটেকশন নিয়ে ধাপে ধাপে কাজ করছি। এ সার্চ অপারেশন চালানোর জন্য আরও সময় লাগবে। আমাদের হয়তো আরও ৩৬-৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতে পারে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুরের রূপনগর শিয়ারবাড়ির শাহআলম কেমিক্যাল নামে একটি রাসায়নিকের গোডাউনে আগুন লাগার পর তা ছড়িয়ে পড়ে পাশের একটি গার্মেন্টস কারখানায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পৌনে ১২টার মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত মোট ১২টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। সর্বশেষ ১৬ জনের লাশ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়।