‘টিকেট যার ভ্রমণ তার’ নীতি বাস্তবায়ন এবং টিকেট কালোবাজারি রোধে ২৩টি টাস্কফোর্স গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এসব টাস্কফোর্স গত সাত দিনে ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা আদায় করেছে। ৬ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ট্রেনে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জরিমানা ও টিকিটের প্রকৃত মূল্যবাবদ ১২ লাখ ২৯ হাজার টাকাসহ মোট ১৭ লাখ ২৬ হাজার টাকা আদায় করেছে টাস্কফোর্স। এ সময় টাস্কফোর্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা টিকেটের ওপর যাত্রীর মুদ্রিত নাম ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, যাত্রীর প্রদর্শিত পরিচয়পত্র যাচাইসহ চেকিং কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ সময় বিনা টিকেটের মোট ৬ হাজার ২৭৮ জন ও অন্যের আইডির মাধ্যমে কেনা টিকেটে ভ্রমণকারী ১ হাজার ৮৫৩ জন যাত্রী শনাক্ত করা হয়।
রেল মন্ত্রণালয় জানায়, অভিযানকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে বিনা টিকিটের তিন হাজার ২৫৭ জন ও অন্যের আইডি দিয়ে কেনা টিকিটধারী ৯৮৬ জন যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া বাবদ চার লাখ ৭১ হাজার ৬৫০ টাকা ও জরিমানা বাবদ দুই লাখ ছয় হাজার ৪১৫ টাকাসহ মোট ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৫ টাকা আদায় করা হয়।
এ সময়ে রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলে বিনা টিকিটের তিন হাজার ২১ জন ও অন্যের আইডি ব্যবহার করে কেনা টিকিটে ভ্রমণকারী ৮৬৭ জন যাত্রীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়া বাবদ সাত লাখ ৫৪ হাজার টাকা ও জরিমানা বাবদ দুই লাখ ৯০ হাজার ৮৭১ টাকাসহ মোট ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৩০৭ টাকা আদায় করা হয়। এসময় টিকিট কালোবাজারির সঙ্গে জড়িত ৫৩টি মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করার সুপারিশ করে টাস্কফোর্স।
বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের জন্য যথাক্রমে ১৩টি ও ১৪টি মিলিয়ে মোট ২৩টি টাস্কফোর্স কাজ করছে। রেলওয়ের নিয়মিত টিকেট চেকিং এর অতিরিক্ত হিসেবে টাস্কফোর্স এর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দায়িত্ব পালনকালে টাস্কফোর্সের সদস্যরা যাত্রীদের টিকেট চেকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। এ সময় টিকেটবিহীন কোনও যাত্রী শনাক্ত হলে বা একজনের টিকেটে অন্য কেউ ভ্রমণ করতে চাইলে তাদের আইন অনুযায়ী জেল-জরিমানার শাস্তি দেবে টাস্কফোর্সের সদস্যরা।