রবার্ট রেডফোর্ড: যিনি চরিত্রকে বাঁচাতেন, নিজেকে নয়

রবার্ট রেডফোর্ড: যিনি চরিত্রকে বাঁচাতেন, নিজেকে নয়

‘বেয়ারফুট ইন দ্য পার্ক’ সিনেমায় দুর্দান্ত কমেডি দক্ষতা থেকে শুরু করে ‘ডাউনহিল রেসার’-এ অস্তিত্ব সংকটের অভিব্যক্তি, কিংবা ‘বুচ ক্যাসিডি’ ও ‘জেরেমাইয়া জনসন’-এর কিংবদন্তি ওয়েস্টার্ন নায়কের চরিত্র—রবার্ট রেডফোর্ড সব কিছুতেই নিজেকে প্রমাণ করেছেন। অন্যদিকে পর্দার বাইরে তার সানড্যান্স ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল প্রতিষ্ঠা আমেরিকান স্বাধীন চলচ্চিত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছিল। কিন্তু এই মহৎ কাজের আগেই তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হলিউডে অভিনয়ের মাধ্যমে এক অমর ক্যারিয়ার তৈরি করেছিলেন। ‘অর্ডিনারি পিপল’ দিয়ে পরিচালক হিসেবে অস্কার জেতা ছিল তার অভিনয়জীবনের আরেক অনন্য অধ্যায়। রেডফোর্ডের অভিনয় বৈচিত্র্যময়—কমেডি, রোমান্স, রাজনৈতিক থ্রিলার, ওয়েস্টার্ন, এমনকি এককভাবে টিকে থাকার লড়াই পর্যন্ত। তার অভিনয়ের শক্তি ছিল সংযমে। তিনি চরিত্রকে বাঁচাতেন, নিজেকে নয়।

এখানে তুলে ধরা হলো অভিনেতা রবার্ট রেডফোর্ডের ১৫টি অনন্য ছবির সারসংক্ষেপ— jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd85e" ) ); ১. দ্য টুইলাইট জোন (১৯৬২)

পরিচালক: ল্যামন্ট জনসন (টিভি এপিসোড)

চরিত্র: তরুণ আহত সৈনিক

সিনেমায় আসার আগে টেলিভিশন সিরিজেই শুরু হয়েছিল রেডফোর্ডের যাত্রা। ‘অ্যালফ্রেড হিচকক প্রেজেন্টস’, ‘পেরি ম্যাসন’, ‘ম্যাভেরিক’—এমন অনেক শোতে কাজ করেছিলেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছিলেন ‘দ্য টুইলাইট জোন’-এর ‘নাথিং ইন দ্য ডার্ক’ পর্বে অসামান্য অভিনয়ের জন্য।

এক বৃদ্ধা মৃত্যুকে ভয় করে দরজা বন্ধ করে রাখেন, সেখানে রেডফোর্ড আহত এক তরুণ সৈনিকের চরিত্রে তার কাছে আশ্রয় চায়। শেষ মুহূর্তে প্রকাশ পায়, সেই আসলে মৃত্যু। রেডফোর্ড এখানে উষ্ণতা ও আকর্ষণীয় উপস্থিতি দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন—তিনি বড় পর্দার জন্যই জন্মেছেন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd893" ) ); ২. বেয়ারফুট ইন দ্য পার্ক (১৯৬৭)

পরিচালক: জিন স্যাক্স

চরিত্র: পল ব্র্যাটার

নিল সাইমন-এর ‘ব্রডওয়ে’ নাটক থেকে তৈরি এই রোমান্টিক কমেডিতে রেডফোর্ড ও জেন ফন্ডা এক নবদম্পতির চরিত্রে অভিনয় করেছেন। রেডফোর্ড ছিলেন একরোখা নিয়মকানুন মানা আইনজীবী পল; আর ফন্ডা প্রাণবন্ত স্বাধীনচেতা কোরি।

চলচ্চিত্রটি সময়ের তুলনায় খানিকটা সেকেলে মনে হলেও রেডফোর্ডের হালকা মেজাজের কমেডি দক্ষতা ও ফন্ডার সঙ্গে তার রসায়ন ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দেয়। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd8c8" ) ); ৩. বুচ ক্যাসিডি অ্যান্ড দ্য সানড্যান্স কিড (১৯৬৯)

পরিচালক: জর্জ রয় হিল

চরিত্র: সানড্যান্স কিড

পল নিউম্যান ও রেডফোর্ড একসঙ্গে মাত্র দুইটি ছবি করেছিলেন, কিন্তু এই দুটি চলচ্চিত্রই ইতিহাসে অমর। এখানে রেডফোর্ড অভিনয় করেছেন সানড্যান্স কিড চরিত্রে—যুবক, উগ্র, সাহসী।

নিউম্যান বুচ ছিল অভিজ্ঞ, বুদ্ধিদীপ্ত; আর রেডফোর্ডের সানড্যান্স ছিল কাঁচা শক্তিতে ভরপুর। দুজনের বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন ছবিটিকে এক অবিস্মরণীয় ওয়েস্টার্ন ও কমেডিতে পরিণত করেছে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd90c" ) ); ৪. ডাউনহিল রেসার (১৯৬৯)

রিচালক: মাইকেল রিচি

চরিত্র: ডেভিড চ্যাপেলেট

রেডফোর্ড প্রযোজক হিসেবে প্রথমবার এই ছবিতে যুক্ত হন। এক অহংকারী স্কিয়ার ডেভিড চ্যাপেলেট চরিত্রে তিনি দেখান কিভাবে সাফল্য মানুষকে বদলে দেয়।

মাইকেল রিচি পরিচালিত এই চলচ্চিত্রকে সর্বকালের অন্যতম সেরা স্পোর্টস মুভি ধরা হয়।  jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd933" ) ); ৫. জেরেমাইয়া জনসন (১৯৭২)

পরিচালক: সিডনি পোলাক

চরিত্র: জেরেমাইয়া জনসন

এক পাহাড়ি মানুষ হয়ে বেঁচে থাকার গল্প। রেডফোর্ড এখানে প্রকৃতি ও নিঃসঙ্গতার সঙ্গে লড়াই করা নায়ক।

ছবির এক আবেগময় মুহূর্তে, যখন তার পাওয়া পরিবারকে হত্যা করা হয়, রেডফোর্ড মুখের হালকা অভিব্যক্তিতে গভীর শোক ও স্মৃতির মিশ্রণ ফুটিয়ে তোলেন। অনেক সমালোচকের মতে, এটি তার ক্যারিয়ারের সেরা অভিনয়। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd95a" ) ); ৬. দ্য ক্যান্ডিডেট (১৯৭২)

পরিচালক: মাইকেল রিচি

চরিত্র: বিল ম্যাকে

রাজনীতির কূটচাল নিয়ে নির্মিত এই ছবিতে রেডফোর্ড এক সৎ, আদর্শবাদী প্রার্থী, যিনি ধীরে ধীরে নিজের নীতির সঙ্গে আপস করেন।

শেষে জেতার পর তিনি ফাঁকা দৃষ্টিতে বলেন—‘এবার আমরা কী করব?’ এটি রেডফোর্ডের সবচেয়ে বিখ্যাত দৃশ্যগুলোর একটি। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd981" ) ); ৭. দ্য ওয়ে উই ওয়্যার (১৯৭৩)

পরিচালক: সিডনি পোলাক

চরিত্র: হাবল গার্ডিনার

সিডনি পোলাকের এই প্রেমকাহিনিতে রেডফোর্ড অভিনয় করেছেন হাবল গার্ডিনার চরিত্রে—সুদর্শন, নির্ভার, কিন্তু ভেতরে শূন্য।

বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ডের মার্ক্সবাদী চরিত্র কেটির সঙ্গে তার সম্পর্ক ছবির কেন্দ্রবিন্দু। রেডফোর্ড দর্শককে যেমন মুগ্ধ করেন, শেষে তেমনই হতাশ করেন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd9a7" ) ); ৮. দ্য স্টিং (১৯৭৩)

পরিচালক: জর্জ রয় হিল

চরিত্র: জনি হুকার

নিউম্যান-রেডফোর্ড জুটির আরেক মাস্টারপিস।

গ্রেট ডিপ্রেশনের সময় দুই প্রতারকের কাহিনি। এখানে রেডফোর্ড জনি হুকার চরিত্রে; তার ও নিউম্যানের বন্ধুত্বপূর্ণ রসায়ন ছবিকে এক ক্লাসিক ছবিতে রূপ দেয়। এ ছবির জন্য রেডফোর্ড অস্কারে মনোনয়ন পান। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd9cc" ) ); ৯. দ্য গ্রেট গ্যাটসবি (১৯৭৪)

পরিচালক: জ্যাক ক্লেটন

চরিত্র: জে গ্যাটসবি

ফি. স্কট ফিটজেরাল্ডের বিখ্যাত উপন্যাস থেকে নির্মিত হলেও চলচ্চিত্রটি খুব প্রশংসিত হয়নি। তবে রেডফোর্ডের গ্যাটসবি ছিল এক অনন্য চরিত্র—আড়ম্বরপূর্ণ, স্বপ্নবিলাসী, অথচ ভেতরে ভাঙাচোরা।

তার চোখের দৃষ্টি, বিরতি, মুখের সূক্ষ্ম অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে এক নিঃসঙ্গ মানুষের ব্যথা। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dd9f3" ) ); ১০. থ্রি ডেজ অব দ্য কনডর (১৯৭৫)

রিচালক: সিডনি পোলাক

চরিত্র: জোসেফ টার্নার

সিডনি পোলাক পরিচালিত রাজনৈতিক থ্রিলার। রেডফোর্ড একজন সিআইএ বিশ্লেষক, যিনি হঠাৎ করেই খুন ও ষড়যন্ত্রের জালে আটকা পড়েন।এখানে রেডফোর্ড ভীত, হতাশ, আবার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ—সব মিলিয়ে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটান। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dda19" ) ); ১১. অল দ্য প্রেসিডেন্টস মেন (১৯৭৬)

পরিচালক: অ্যালান জে পাকুলা

চরিত্র: বব উডওয়ার্ড

কার্ল বার্নস্টেইন ও বব উডওয়ার্ডের বই থেকে নির্মিত, সাংবাদিকতার সেরা ছবিগুলোর একটি। রেডফোর্ড ছিলেন উডওয়ার্ড চরিত্রে, আর ডাস্টিন হফম্যান বার্নস্টেইন।

ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির তদন্তে দুই সাংবাদিকের অদম্য প্রচেষ্টা ছবির মূল শক্তি। এটি রেডফোর্ডের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রযোজনাও। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dda40" ) ); ১২. দ্য ন্যাচারাল (১৯৮৪)

পরিচালক: ব্যারি লেভিনসন

চরিত্র: রয় হবস

আমেরিকান স্বপ্নের প্রতীকী কাহিনি। রেডফোর্ড এখানে রয় হবস চরিত্রে—এক প্রতিভাবান বেসবল খেলোয়াড়। ছবির সমাপ্তি দৃশ্য, মাঠে আলোর ঝলকে তার হোম রান—হলিউড ইতিহাসের সবচেয়ে আইকনিক মুহূর্তগুলোর একটি। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dda62" ) ); ১৩. হাভানা (১৯৯০)

পরিচালক: সিডনি পোলাক

চরিত্র: জ্যাক ওয়েইল

সিডনি পোলাকের সঙ্গে সপ্তম কাজ। রেডফোর্ড এখানে কিউবান বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে এক আমেরিকান জুয়াড়ির চরিত্রে। এখানে তার চরিত্রে ছিল ক্লান্তি, অন্ধকার দিক এবং রাজনৈতিক জটিলতা—যা তাকে আগের থেকে ভিন্ন এক পরিণত অভিনেতা হিসেবে উপস্থাপন করে। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883dda85" ) ); ১৪. অল ইজ লস্ট (২০১৩)

পরিচালক: জে.সি. চ্যান্ডর

চরিত্র: নামহীন নাবিক

জে.সি. চ্যান্ডর পরিচালিত এই ছবিতে রেডফোর্ড একাই পুরো চলচ্চিত্রের ভার বহন করেন। নৌকায় বিপর্যস্ত এক বৃদ্ধ নাবিক—চারপাশে কোনও সাহায্য নেই, প্রায় কোনও সংলাপ নেই।

মাত্র একবারের চিৎকারে (ফাক) তিনি হতাশার গভীরতা ফুটিয়ে তুলেছিলেন। এই ছবি প্রমাণ করে, সত্তরের কোঠাতেও তিনি অভিনয়ে কতোটা অনন্য ছিলেন। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883ddaa8" ) ); ১৫. দ্য ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য গান (২০১৮)

পরিচালক: ডেভিড লোরি

চরিত্র: ফরেস্ট টাকার

রেডফোর্ডের বিদায়ী অভিনয়। এক বৃদ্ধ ব্যাংক ডাকাত, যে জীবনের শেষ প্রান্তেও রোমাঞ্চ ছাড়তে পারে না। সিসি স্পেসেকের সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ পেলেও সে নিজের স্বভাবকেই বেছে নেয়। এটি কোনও আবেগী নস্টালজিয়া নয়, বরং এক কঠিন বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

শেষে সিনেমার চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করলে এটুকু বলাই যায়, রবার্ট রেডফোর্ড কেবল সুদর্শন নায়ক নন—তিনি ছিলেন এক শিল্পী, যিনি চরিত্রকে বাঁচাতেন সূক্ষ্ম অভিনয়ের মাধ্যমে। কমেডি, প্রেম, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নিঃসঙ্গতা—সবকিছুতেই তিনি ছিলেন স্বতন্ত্র ও উজ্জ্বল। jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68cad883ddad1" ) );

সূত্র: সানড্যান্ড ও ইন্ডি ওয়্যার

Comments

0 total

Be the first to comment.

এক টিকিটে তিন নাটক! BanglaTribune | বিনোদন

এক টিকিটে তিন নাটক!

নাট্যপ্রেমীদের জন্য এক অনন্য সন্ধ্যা অপেক্ষা করছে! চারুনীড়ম থিয়েটার উদযাপন করতে যাচ্ছে তাদের ১০০তম ম...

Sep 13, 2025

More from this User

View all posts by admin