কাবাডির এটা একটা ঐতিহ্য। কৃতি খেলোয়াড়ের বিদায়টা হয় আড়ম্বরপূর্ণ। রবিবার (২৩ নভেম্বর) রূপালী আক্তারের জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিক অবসর নেওয়াটাও হলো তেমনি, মুকুট পরে রানির মতো বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে বিদায় বলেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়।
এ দিন বাংলাদেশ-চাইনিজ তাইপে সেমিফাইনাল শুরুর আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক রূপালীর মাথায় বিদায়ী মুকুট পরিয়ে দেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ ‘হ্যাপি রিটায়ারম্যান্ট’ লেখা উত্তরীয় পরিয়ে দেন তাকে। বাংলাদেশের বর্তমান দলে ২০১২ সালে প্রথম নারী কাবাডি বিশ্বকাপ খেলা একমাত্র সদস্য এই রূপালীই। ২০০৯ সাল থেকে কাবাডি খেলেছেন। শুরুটা সে বছরই এশিয়ান জুনিয়র কাবাডি দিয়ে। ২০১০-এ ঘরের মাঠে খেলেছেন দক্ষিণ এশীয় গেমস। এরপরের দুটি দক্ষিণ এশীয় গেমসেও (২০১৬ ও ২০১৯) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন জামালপুর থেকে উঠে আসা এই খেলোয়াড়।
রূপালী এশিয়ান গেমস খেলেছেন ২০১০, ২০১৪ এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালে। ঘরোয়া পর্যায়ে বাংলাদেশ আনসারের হয়ে সাফল্য পেয়েছেন অনেক। সেই রূপালীরই ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক পথচলা থামছে এবারের কাবাডি বিশ্বকাপ দিয়ে। শেষ আসরে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্বও করেছেন তিনি।
মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে অবসর নিয়ে রূপালি বলেছেন, ‘ফেডারেশন, সতীর্থরা যেভাবে বিদায় দিয়েছে, তাতে ম্যাচের শুরুতে একটু আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েছিলাম। আসলে অনেক দিন ধরে কাবাডির সঙ্গে আছি তো, তাই। ক্যারিয়ারের কোনও কিছু নিয়ে খারাপ লাগা নেই সেরকম। প্রতিযোগিতামূলক কাবাডি আর খেলা হবে না, তবে কোনও না কোনোভাবে কাবাডির সঙ্গেই থাকবো। এটা আমার ভালোবাসার জায়গা।’
সেমিফাইনালে পরাজয় নিয়ে তিনি বলেন, ‘চাইনিজ তাইপে আমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। তারা ইরানকে ১০ পয়েন্টের ব্যবধান হারিয়েছিল। সে হিসেবে আমরা তাদের কাছে ৭ পয়েন্টে হেরেছি। ফাইনালে উঠতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগতো। তবে আমরা ব্রোঞ্জ পেয়েছি, এটাও কম নয়।’