ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুমিল্লার গাইনি চিকিৎসক ফাহমিদা আজিম কাকলী (৫২) মারা গেছেন। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ফাহমিদা আজিম কুমিল্লা নগরের ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা। নিজ বাড়িতে ‘রেইনবো ম্যাটারনিটি ক্লিনিক’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তিনি কুমিল্লার স্বনামধন্য গাইনি চিকিৎসক ছিলেন। ময়নামতি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের পরিচালক এবং নগর মাতৃসদন কুমিল্লার কনসালট্যান্ট ছিলেন।
ফাহমিদা আজিমের বড় ভাই মনজুরুল আজিম বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমার বোন কুমিল্লায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এতে তার কিডনি ও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে শনিবার তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে তার রক্তচাপ হঠাৎ কমে গেলে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) থেকে লাইফ সাপোর্টে স্থানান্তর করা হয়। আজ ভোরে মারা যান।’
স্বজনরা জানান, ফাহমিদা আজিমের মরদেহ আপাতত হিমঘরে রাখা হবে। কানাডায় অবস্থানরত তার একমাত্র মেয়ে দেশে ফিরলে বৃহস্পতিবার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ায় কথা আছে।
কুমিল্লার ইতিহাস গবেষক আহসানুল কবীর চিকিৎসক ফাহমিদা আজিমের বাল্যবন্ধু। তিনি বলেন, ‘তিনি একজন মানবিক চিকিৎসক। অনেক ভালো মনের মানুষ ছিলেন।’
তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুমিল্লায়। রোগী, সহকর্মী, স্বজন—সবার মুখেই বিষাদের ছাপ। মানবিক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত কাকলী বিনামূল্যে বহু দরিদ্র রোগীর সিজার করিয়েছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি ছিলেন অধুনা থিয়েটারের সদস্য। গান শুনতে ও প্রকৃতির মাঝে ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসতেন।