রাঙামাটিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোটা বৈষম্য ও অনিয়মের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) সকাল ৬টা থেকে ৩৬ ঘণ্টা হরতালের ডাক দিয়েছে ‘কোটাবিরোধী ঐক্যজোট’ নামে একটি সংগঠন। বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকাল ৩টায় শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় রাঙামাটিতে প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ কোটায় নয়, মেধার ভিত্তিতে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থী ইব্রাহিম রুবেল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা রাকিব হাসান, শিক্ষার্থী নুরুল আলম, রুবেল হোসেন, রেজাউল করিম রাজু ও ইমাম হোছাইন প্রমুখ।
রাকিব হাসান বলেন, ‘রাঙামাটি জেলা পরিষদে কোটা বাদ দিয়ে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের জন্য আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানানোর পরও কোনও সমাধান মেলেনি। বাধ্য হয়ে এ হরতাল কর্মসূচি দিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দেশের সব চাকরির নিয়োগে সরকার ৭ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দিলেও রাঙামাটি জেলা পরিষদ সেই বিধান না মেনে নিয়োগ পরীক্ষার শুরু করেছে। ফলে মেধাবীরা বঞ্চিত হবে। আমরা চাই মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। কোটার নামে বৈষম্য আর মেধা হত্যার সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নেবো না। ৩৬ ঘণ্টা হরতাল চলাকালীন জেলা শহরের সব সরকারি-বেসরকারি অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যানবাহন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। তবে জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন হরতালের আওতামুক্ত থাকবে।
এর আগে গত সোমবার রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৭ শতাংশ কোটা বহাল রেখে নিয়োগের দাবি জানিয়ে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল রাঙামাটি সচেতন নাগরিক ঐক্য ও ‘কোটাবিরোধী ঐক্যজোট’। অন্যথায় বৃহত্তর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সারাদেশের মতো ৭ শতাংশ কোটাতে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগে নিয়োগের দাবি জানান তারা।
সচেতন নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধি কামাল উদ্দিন, নির্মল বড়ুয়া মিলন জানিয়েছেন, পার্বত্য জেলা পরিষদের আইনের অজুহাত দিয়ে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য ৭০ শতাংশ যে কোটা দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট কোটা বা শূন্যপদের সংখ্যা পরিষ্কারভাবে জানানো হয়নি, যা বিধিবহির্ভূত।
এ নিয়ে সোমবার দুপরে সচেতন নাগরিক ঐক্যের ব্যানারে স্মারকলিপি দিতে গেলে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেছেন, ‘কোনও ধরনের মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন নয়, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চলবে তার নিজস্ব আইন দিয়ে। জেলা পরিষদের নিজস্ব আইনে যা বলা আছে, তা দিয়েই জেলা পরিষদ পরিচালনা করা হবে।’
প্রসঙ্গত, স্থগিত হওয়া রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদে হস্তান্তরিত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অধীন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ নভেম্বর এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। গত ১৩ নভেম্বর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. কফিল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছিল।