রাশিয়া দাবি করেছে, যুদ্ধকবলিত ইউক্রেনীয় শহর পোকরোভস্কের উত্তরাংশে তাদের হামলাকারী ইউনিটগুলো অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং সিভেরস্কের দক্ষিণে একটি গ্রাম দখল করেছে। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবি করে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী বলেছে, গত এক দিনে পোকরোভস্ক ফ্রন্টে রাশিয়ার ৫৭টি হামলা প্রতিহত করা হয়েছে এবং শহরের ভেতরে রুশ ইউনিটগুলোকে ধ্বংস করা হচ্ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ডনেস্ক, দিনিপ্রোপেত্রভস্ক ও জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলে রাশিয়া ফ্রন্টলাইনে বিভিন্ন স্থানে চাপ বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন চলমান যুদ্ধের অবসানে সম্ভাব্য শান্তি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে। এমন সময় রাশিয়া রণক্ষেত্রে নিজেদের অগ্রগতি দাবি করলো।
রুশ সংবাদমাধ্যম পোকরোভস্ককে ডনেস্কের প্রবেশদ্বার হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। মস্কোর দাবি, শহরটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ডনেস্ক অঞ্চলের ইউক্রেন নিয়ন্ত্রিত সবচেয়ে বড় দুই শহর ক্রামাতোরস্ক ও স্লোভিয়ানস্কের দিকে অগ্রসর হওয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
রাশিয়ার প্রকাশিত মানচিত্রে দেখা গেছে, পোকরোভস্ক মস্কোর নিয়ন্ত্রণে এবং পাশের শহর মিরনোহরাদে ইউক্রেনীয় বাহিনী ঘেরাও অবস্থায় আছে। তবে ইউক্রেনীয় মানচিত্রে পোকরোভস্ককে ‘ধূসর অঞ্চল’ হিসেবে দেখানো হয়েছে, অর্থাৎ কোনও পক্ষই পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি। মিরনোহরাদকেও পুরোপুরি ঘেরা অবস্থায় দেখায়নি কিয়েভ।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দ্বিতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিটগুলো পোকরোভস্কের কেন্দ্রীয় ও উত্তরাংশে অগ্রসর হয়েছে এবং মিরনোহরাদের পূর্ব, পশ্চিম ও দক্ষিণ দিকেও এগিয়ে গেছে। পাশাপাশি সিভেরস্কের দক্ষিণ-পূর্বে ভাসিউকিভকা গ্রাম দখল করার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। ওই অঞ্চলে রুশ বাহিনী ‘পিন্সার মুভমেন্ট’ বা চেপে ধরা কৌশল চালানোর চেষ্টা করছে।
গত বছর রাশিয়া তাদের যুদ্ধকৌশল পরিবর্তন করে। শহরের দিকে সরাসরি হামলার বদলে তারা গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ঘিরে ফেলার কৌশল গ্রহণ করে, যাতে হতাহত কমানো যায় এবং কিয়েভকে সেনা প্রত্যাহার করতে বা ঘেরাও হওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য করা যায়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দক্ষিণ জাপোরিজ্জিয়া অঞ্চলের হুলিয়াইপোলের উত্তরে তাদের বাহিনী ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ভেদ করেছে।