রাশিয়ার ড্রোন রোমানিয়ার আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। রোমানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউনুত মোসতেয়ানু বলেন, সীমান্তের কাছে ইউক্রেনের একটি অবকাঠামোতে হামলার সময় শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রোমানিয়ার আকাশে অনুপ্রবেশ করে একটি রুশ ড্রোন। সঙ্গে সঙ্গে ড্রোনটি প্রতিহত করতে যুদ্ধবিমান পাঠায় রোমানিয়া। এক সপ্তাহের মধ্যে ন্যাটোর দ্বিতীয় দেশ এমন অনুপ্রবেশের খবর দিলো। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।
এক বিবৃতিতে রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে,ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণ পর্যবেক্ষণ করতে থাকা ফাইটার জেটগুলো ড্রোনটিকে ইউক্রেনের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে ট্র্যাক করতে সক্ষম হয়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, নিজেদের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন ঢুকে পড়ার পরপর রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং পরে দুটি ইউরোফাইটার যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। পাশাপাশি দানিয়ুব ও ইউক্রেন সীমান্তসংলগ্ন তুলসিয়া কাউন্টির নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেয়।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, ড্রোনটি শনাক্ত করার পর এটির পিছু নেয় যুদ্ধবিমানগুলো। ড্রোনটি চিলিয়া ভেচে গ্রাম থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শনাক্ত করা হয় এবং পরে রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে এটি কোনও জনবহুল এলাকায় উড়ে যায়নি এবং সরাসরি কোনও বিপদ সৃষ্টি করেনি।
মস্কো এখনও রোমানিয়ার দাবির পক্ষে কোনও মন্তব্য করেনি।
সর্বশেষ অনুপ্রবেশের প্রতিক্রিয়ায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এটি রাশিয়ার যুদ্ধ সম্প্রসারণের স্পষ্ট উদাহরণ। তি নি বলেন, তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি রোমানিয়ার প্রায় ১০ কিলোমিটার ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ন্যাটোর আকাশসীমায় প্রায় ৫০ মিনিট অবস্থান করে।
জেলেনস্কি আরও বলেছেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী নির্দিষ্টভাবে জানে তাদের ড্রোন কোথায় যাচ্ছে এবং কতক্ষণ আকাশে থাকতে পারবে। তিনি পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি ক্রমাগত চাপ দিচ্ছেন মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদারের জন্য।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোর সদস্যদেশ রোমানিয়া। ইউক্রেনের সঙ্গে দেশটির ৬৫০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সময় দেশটিতে রুশ ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে।
বুধবার পোল্যান্ড জানিয়েছিল, তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করার পর তারা অন্তত তিনটি রাশিয়ার ড্রোন ভূপাতিত করেছে। পোল্যান্ড শনিবার রাশিয়ার ড্রোন নিয়ে সতর্কতাও জানিয়েছে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। ধীরে ধীরে সামরিক অগ্রগতি করছে তারা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে গত মাসে আলাস্কায় ট্রাম্পের সঙ্গে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের শীর্ষ সম্মেলনের পর রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর আক্রমণ তীব্র করেছে।