দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা অগ্নিনির্বাপক কর্মী মো. নূরুল হুদার পরিবারে এসেছে নতুন প্রাণ। বাবার মৃত্যুর ১২ দিন পর পৃথিবীর আলো দেখেছে তার নবজাতক পুত্র সন্তান।
সোমবার (৬ অক্টোবর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জন্ম নেয় এই সন্তান। তবে যে বাবা দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তার মুখ কোনোদিন দেখতে পাবে না এই নবজাতক।
উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর বিকালে টঙ্গীর সাহারা মার্কেট এলাকায় ভয়াবহ কেমিক্যাল গোডাউনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নিতে গিয়ে গুরুতর দগ্ধ হন ফায়ারফাইটার নূরুল হুদা। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ সেপ্টেম্বর বিকালে মৃত্যুবরণ করেন এই অগ্নিযোদ্ধা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্রে জানা গেছে, মো. নূরুল হুদা ১৯৮৭ সালের ২১ জুলাই ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার ধামাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরে ফায়ারফাইটার হিসেবে যোগ দেন।
নবজাতক পুত্র সন্তানের পাশাপাশি শহীদ নূরুল হুদার রয়েছে ১০ বছরের এক কন্যা সন্তান এবং ৩ বছরের এক পুত্র সন্তান।
সহকর্মীরা জানিয়েছেন, নূরুল হুদা ছিলেন দায়িত্বশীল, সাহসী ও মানবিক চেতনায় অনুপ্রাণিত এক ফায়ারফাইটার। তার সহধর্মিণী বর্তমানে নবজাতকসহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, ‘তিনি নিজের জীবনের বিনিময়ে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছেন। আজ তার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখেছে—এ যেন শহীদের ত্যাগের এক অনন্ত প্রতীক।’