সংস্কার কাজ চলায় ঘরের মাঠ ন্যু ক্যাম্পে ফিরবো ফিরবো করেও ফেরা হচ্ছিলো না বার্সেলোনার। আড়াই বছর পর অবশেষে রাজসিক প্রত্যাবর্তনই ঘটেছে কাতালান জায়ান্টদের। লা লিগায় পুনর্নির্মিত ন্যু ক্যাম্পে অ্যাথলেতিক বিলবাওকে বিধ্বস্ত করেছে ৪-০ গোলে। সেখানে প্রথম গোলটি করেছেন রবের্ত লেভানডোভস্কি। তাই প্রথম গোলটি পোলিশ স্ট্রাইকারের কাছে হয়ে থাকছে ‘বিশেষ’। সেই মুহূর্তটি ‘আজীবন মনে রাখবেন’ তিনি।
ম্যাচ শুরুর চার মিনিটের মাথায় গোল করে ন্যু ক্যাম্পের উৎসবমুখর পরিবেশটাকে আরও রঙিন করে তোলেন লেভানডোভস্কি। তার পর জোড়া গোল করেন ফেরান তোরেস (৪৫+৩ ও ৯০ মিনিট )। ৪৮ মিনিটে একটি করেছেন ফেরমিন লোপেজ।
গত বছরই এই মাঠ পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্মাণসংক্রান্ত জটিলতা ও নানা সমস্যায় বারবার পিছিয়েছে সময়। শেষ পর্যন্ত প্রত্যাবর্তনের দিনে মাচ জয়ের পর লেভানডোভস্কি বলেছেন, ‘আজকের দিনটা শুধু আমার জন্য নয়, সবার জন্যই বিশেষ। তাই ফিরে এসে প্রথম গোলটা করতে পেরে আমি খুব খুশি।
বার্সা ওয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন স্টেডিয়ামে খেলার অনেক অভিজ্ঞতা আছে আমার, কিন্তু এখানে ব্যাপারটা আলাদা। নিজের ওপর গর্ব হচ্ছে, দলের ওপরও গর্ব হচ্ছে। কারণ, আমরা দারুণ খেলেছি এবং জিতেছি। আমার মনে হয় এই প্রথম গোলটা আমি সারাজীবন মনে রাখবো।’
এই জয়ে লা লিগার শীর্ষে ফিরেছে বার্সা। রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধানেও সমতা ফিরিয়েছে। গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় বার্সা সবার ওপরে। ১৩ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৩১। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়াল মাদ্রিদেরও সমান পয়েন্ট।
বার্সা কোচ হান্সি ফ্লিকও সাবেক বায়ার্ন মিউনিখ তারকাকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন, ‘তার সামনে সুযোগ তৈরি হলে প্রায় শতভাগ সময় গোল করে। এটাই তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। আজকের মতো ম্যাচে খুব দ্রুত গোল পাওয়া দারুণ গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এতে দল প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস পেয়েছে।’
স্টেডিয়ামের তিনটি খোলা গ্যালারি মিলিয়ে প্রায় ৪৫ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তৃতীয় ধাপের নির্মাণকাজ এখনও চলছে। পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা পূর্বনির্ধারিত সময়ের এক বছর বাদে ২০২৭ সালে।