নিজের নাতিকে সাহায্য করতে মরিয়া হয়ে এক ৬০ বছর বয়সী বৃদ্ধ ইচ্ছে করেই সুপারমার্কেট ডাকাতি করে জেলে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। ঘটনাটি ঘটেছে ফরাসি দ্বীপপুঞ্জ গুয়াদেলুপের সাঁত রোজ অঞ্চলে।
স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ওই ব্যক্তি মুখোশ পরে ও হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে স্থানীয় একটি সুপারমার্কেটে প্রবেশ করেন। ক্যাশ কাউন্টারের সব টাকা দাবি করার পর তিনি নিজের জন্য এক টুকরো এমেন্টাল পনির ও এক বোতল ওয়াইন নেন। এরপর ধীরে ধীরে নিজের গাড়ির দিকে হাঁটতে থাকেন, যেন পুলিশ তাকে ধরতে পারে।
অবশেষে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। তদন্তে জানা গেছে, তার উদ্দেশ্য আসলে অর্থ ছিল না, নাতিকে দেখতে ও তাকে সাহায্য করতেই তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করেছিলেন।
অভিযুক্তের আদালত-নিয়োগকৃত আইনজীবী লিয়া ল্য শেভিলিয়ার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি হতাশ ছিলেন। তার কোনও আর্থিক উদ্দেশ্য ছিল না। তিনি শুধু জেলে গিয়ে নাতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। সাক্ষাৎকক্ষে তার নাতিকে দেখা গেছে অন্যান্য কয়েদির নির্যাতনের শিকার হয়ে দাঁত ভাঙা অবস্থায়।
দমকল বাহিনীর সাবেক এই সদস্যের আগে কখনও কোনও অপরাধের রেকর্ড ছিল না। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন। তবে বিচারক বিষয়টি ‘নজিরবিহীন ও মানবিক’ বলে উল্লেখ করে কারাদণ্ড না দিয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেন।
রায়ে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মানসিক চিকিৎসা নিতে হবে এবং ওই সুপারমার্কেটে আর যেতে পারবেন না। তবে তিনি বৈধ উপায়ে তার নাতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
এই ঘটনাটি সেখানে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘ভালোবাসা মানুষকে কতটা অদ্ভুত কাজ করাতে পারে, এই ঘটনাই সেটির প্রমাণ।’
উল্লেখ্য, এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে কয়েকজন মানুষ ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধ করেছেন শুধু কারাগারে ঢুকার জন্য—কখনও আশ্রয় পেতে, কখনও একাকীত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।
সূত্র: ওডিটি সেন্ট্রাল