নরওয়ের স্বালবার্ড দ্বীপপুঞ্জে উত্তর মেরুর কাছে বরফঢাকা পাহাড়ের গভীরে লুকিয়ে আছে মানবজাতির অমূল্য ভাণ্ডার। এটি কোনও খনিজ বা তেলের ভাণ্ডার নয়, বরং কোটি কোটি বীজের সংগ্রহশালা। যা ‘ডুমসডে ভল্ট’ বা কেয়ামতের সিন্দুক পরিচিত নামে।
ক্রপ ট্রাস্টের কর্মকর্তা ব্রায়ান লেইনঅফ বলেন, এই ভবনের ভেতরে রয়েছে কৃষির ১৩ হাজার বছরের ইতিহাস। বর্তমানে এখানে সংরক্ষিত আছে ৯ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি খাদ্যশস্যের বীজ। এর লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ভল্টটি ২০০৮ সালে চালু হয়। নরওয়ে সরকারের অর্থায়নে নির্মিত এই ভাণ্ডারের অংশীদার জাতিসংঘ সমর্থিত ক্রপ ট্রাস্ট। নিরাপদ ও দুর্গম অঞ্চল হিসেবে স্বালবার্ডকেই বেছে নেওয়া হয়েছিল। প্রবেশপথে বরফে আচ্ছাদিত কংক্রিটের গঠন ভল্টের ভয়াবহ ডাকনামকে আরও বাস্তব করে তোলে।
এখানে বীজ রাখা হয় ভ্যাকুয়াম-প্যাক রূপালি প্যাকেট ও টেস্ট টিউবে। গড়পড়তা মূল্য তেমন না থাকলেও এগুলো বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তার ভবিষ্যৎ চাবিকাঠি। মাত্র ৩০টি ফসল বর্তমানে বিশ্বের ৯৫ শতাংশ খাদ্যশক্তি যোগায়, যা বৈচিত্র্য কমিয়ে মানবজাতিকে রোগবালাই ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে ফেলছে।
ক্রপ ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক মারি হাগা বলেন, বীজ শুধু খাবারের নয়, পোশাক, প্রকৃতি সবকিছুর ভিত্তি। বৈচিত্র্য হারালে মানবজাতির টিকে থাকা বিপন্ন হবে।
ভল্টের সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে পালিয়ে আসা গবেষকদের গল্প। গৃহযুদ্ধে হারিয়ে যাওয়া জিন ব্যাংকের বীজ পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে এখানে। এভাবে ফিলিপাইন, আফগানিস্তান ও ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের ধ্বংসপ্রাপ্ত জিন ব্যাংকের বিকল্প হয়ে উঠছে এই ভল্ট।
বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৭০০ জিন ব্যাংক সক্রিয় থাকলেও অর্থের অভাবে অনেকেই ঝুঁকির মুখে। তাই ক্রপ ট্রাস্ট বৈশ্বিক তহবিল গঠনের চেষ্টা করছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। উত্তর কোরিয়ার লাল বাক্স যেমন এখানে জায়গা পেয়েছে, তেমনি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেনের বীজও। ব্রায়ান লেইনঅফের ভাষায়, বীজের কাছে রাজনীতি কোনও ইস্যু নয়। তারা শুধু নিরাপদে ঠাণ্ডায় বিশ্রাম নিচ্ছে। এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: টাইম