ব্যাংকক থেকে এক ঘণ্টা দূরের ছোট শহর চনবুরিতে প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় এক অভিনব উৎসব, মহিষের সুন্দরী প্রতিযোগিতা। এবারের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় পাঁচ বছর বয়সী ‘টড’। কালো পশমের ভেতর তার কান দুটির ভেতরের উজ্জ্বল লাল অংশ যেন আলাদা করে নজর কাড়ছিল দর্শকের।
টডের মালিক থাওয়াচাই ডেং-নগাম। তিনি পেশায় খাবার বিক্রেতা, আবার কৃষকও। তার চোখে টড শুধু শ্রমিক নয়, এক গর্বের প্রতীক। চনবুরির ঐতিহ্যবাহী পানিতে মহিষ দৌড় উৎসবের প্রধান আকর্ষণ এই সুন্দরী প্রতিযোগিতা। যা আয়োজন করা হয় ফসল তোলার মৌসুমের সূচনা উদযাপন করতে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4beea3e986" ) );
একসময় থাইল্যান্ডে কৃষিকাজে মহিষ ছিল অপরিহার্য। জমি চাষ, ভার বহন, এমনকি গ্রামীণ জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল এই প্রাণী। কিন্তু আধুনিক কৃষিযন্ত্র এসে সেই ভূমিকা কেড়ে নিয়েছে। এখন মহিষেরা হয় প্রতিযোগিতায় নাম লেখায়, নয়তো মাংসের বাজারে বিক্রি হয়।
তবুও চনবুরির এই মেলায় মহিষই প্রধান আকর্ষণ। ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা নারী ও ছাত্রছাত্রীদের নৃত্যে উৎসব শুরু হয়। ফুলের মালায় সাজানো মহিষেরা কাঠের রথ টেনে নিয়ে আসে তাদের মালিকদের। কেউ কেউ সেজেছেন প্রাচীন থাই রাজকীয় পোশাকে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4beea3e9e2" ) );
সুন্দরী প্রতিযোগিতার পাশাপাশি হয় ১০০ মিটার মহিষ দৌড় প্রতিযোগিতা। ৩ বছর বয়সী সাদা অ্যালবিনো মহিষ ‘লুকায়াও’-কে নিয়ে এসেছিলেন প্রতিযোগী পিতুন রাসামি। স্থানীয় প্রতিযোগিতায় আগেও জিতেছে সে। পিতুনের আশা ছিল এবারও শীর্ষ পাঁচে থাকবে তার প্রিয় মহিষ।
তার আশার কারণও আছে। গত বছর এক অ্যালবিনো মহিষ বহু প্রতিযোগিতায় জিতে বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৮০ লাখ থাই বাত (প্রায় ৬ লাখ ৭২ হাজার ডলার) দামে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4beea3ea09" ) );
থাইল্যান্ডে কৃষিকাজে যান্ত্রিকতার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে একসময় কমতে শুরু করেছিল মহিষের সংখ্যা। কিন্তু সুন্দরী ও দৌড় প্রতিযোগিতা এই প্রাণীর প্রতি মানুষের আগ্রহ ফের জাগিয়ে তুলেছে। ২০১৭ সাল থেকে সরকার চালু করেছে ‘থাই মহিষ সংরক্ষণ দিবস’। স্থানীয় প্রশাসন মহিষ প্রজনন ও পালন নিয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণও দিচ্ছে।
থাওয়াচাই বলেন, মহিষ পালন এখন আমার শখ। ওদের আমাদের জমিতে অবাধে চলাফেরা করতে দিই। এই উৎসবে শুধু দেখতে এসেছি, টড অন্যদের সঙ্গে কেমন করে।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4beea3ea2c" ) );
বড় খামারগুলোয় মহিষদের প্রতিদিন গোসল করানো হয়, বিশেষ খাবার হিসেবে দেওয়া হয় ভুট্টা, সয়াবিন, ব্রান ও ভিটামিন। চনবুরির উৎসবে মহিষের যত্ন নিচ্ছিলেন কিজচাই অংখানাওইন। তিনি বললেন, মহিষদের শিংয়ের আকৃতি, খুরের মসৃণতা আর শরীরের গঠনই বিচারকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
উৎসবের দিন সূর্যের তাপ থেকে রক্ষা করতে মহিষদের রাখা হয় ছায়াঘেরা ঘেরায়। ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি থেকে তাদের জন্য পানি সরবরাহ করা হয়। শিশুদের কৌতূহলী দৃষ্টি, পরিবারের ছবি তোলা, পর্যটকের ভিড়—সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।
বিচারকরা কাউবয় হ্যাট পরে একে একে পরখ করেন প্রতিযোগী মহিষগুলোকে। মালিকরা সারি বেঁধে অপেক্ষা করেন, গর্বে চোখে জল আসে অনেকের।
jwARI.fetch( $( "#ari-image-jw68e4beea3ea7d" ) );
থাওয়াচাইয়ের পরিবারে এখনও ৩০টি মহিষ আছে। তিনি বলেন, আজকের দিনে মহিষ যন্ত্রের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে না। কিন্তু মহিষের গুরুত্ব আমাদের কাছে কম নয়। যেমন কথায় বলে, মানুষ মহিষকে লালন করে, আর মহিষ মানুষকে। ওরা আমাদের পরিবারেরই এক সদস্য।
চনবুরির এই উৎসব শুধু এক প্রাচীন প্রাণীর প্রতি ভালোবাসাই নয়, এটি থাইল্যান্ডের গ্রামীণ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সহাবস্থানের এক জীবন্ত প্রতীক হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এপি