ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। রবিবার (১৬ নভেম্বর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে সাংবাদিকদের এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর মধ্যে এ সম্ভাবনার ইঙ্গিত এল। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “আমরা মাদুরোর সঙ্গে কিছু আলোচনা করতে পারি, দেখব কী হয়। তারা কথা বলতে চায়।”
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার উপকূল এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌকায় ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় সম্ভাব্য উত্তেজনা কমানোর এটি প্রথম বড় ইঙ্গিত।
হোয়াইট হাউজের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য সামরিক অভিযান— এমনকি স্থল হামলা— নিয়ে তিন দফা বৈঠক করেছেন।
ট্রাম্প শুক্রবার বলেন, ভেনেজুয়েলা নিয়ে তিনি এক অর্থে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন, যা শিগ্গিরই ঘোষণা হতে পারে।
ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়, এই ঘোষণা কি ভেনেজুয়েলায় মাদুরোর সম্পদ বা অবকাঠামোতে হামলার পথ খুলে দিচ্ছে? উত্তরে তিনি বলেন, “এতে তা করা সম্ভব, তবে আমরা এখনো বলিনি যে করব।”
ভেনেজুয়েলার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
রবিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, কথিত মাদক সংগঠন কার্টেল দে লস সোলেস–কে “বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন” ঘোষণা করা হবে। এতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কেউ এই গোষ্ঠীকে সহায়তা করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, কার্টেল দে লস সোলেস অপরাধী গোষ্ঠী ট্রেন দে আরাগুয়া–র সঙ্গে মিলে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাঠায়।
ট্রাম্প প্রশাসন আরও দাবি করছে যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই কার্টেলের নেতৃত্ব দেন— যা মাদুরো অস্বীকার করেন।
রবিবার পেন্টাগন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজবাহী যুদ্ধজাহাজ ‘জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ ক্যারিবীয় সাগরে প্রবেশ করেছে। এর আগে অঞ্চলটিতে আটটি যুদ্ধজাহাজ, একটি পারমাণবিক সাবমেরিন এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছিল।
তবে মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে, মাদকবাহী নৌকায় মার্কিন হামলাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।
হোয়াইট হাউজ বলছে, যুক্তরাষ্ট্র মাদক কার্টেলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রয়েছে এবং এতে আদালতের অনুমতি লাগবে না।
রয়টার্স/ইপসোসের সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৩৫ শতাংশ মার্কিনি ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেন— যদি ভেনেজুয়েলার অনুমতি ছাড়া শুধু মাদক রোধের নামে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, বিচার বিভাগ তাদের এসব হামলার জন্য আইনগত অনুমোদন দিয়েছে এবং অপারেশনে অংশ নেওয়া মার্কিন সামরিক সদস্যরা বিচার থেকে অব্যাহতি পাবেন।