বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে সাভারের আশুলিয়া থানার সামনে ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণকে কেন্দ্র পরপর দুদিন প্রসিকিউশনের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
আশুলিয়ার মামলায় ১২তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণের ধার্য্যকৃত দিন বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ উষ্মা প্রকাশ করেন।
এদিন বেলা ১১টা ৬ মিনিটে ট্রাইব্যুনালের এজলাস কক্ষে আসেন ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল। ঠিক তখনই সাক্ষীর জবানবন্দি নেওয়ার অনুমতি চান প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তখন সাক্ষীর ডায়াসে ওঠেন এসআই ওমর ফারুক খান।
শুরুতেই নিজের পরিচয় তুলে ধরেন সাক্ষী। তিনি এ মামলায় সিআইডির ফরেনসিক শাখার আলোকচিত্র বিশেষজ্ঞ হিসেবে সাক্ষ্য দিতে আসেন। এর মধ্যেই তাকে থামিয়ে প্রসিকিউটরের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আজ আপনাদের সাক্ষী কতজন? উত্তরে প্রসিকিউশনের পক্ষে ফারুক আহাম্মদ বলেন, একজন সাক্ষ্য দেবেন মাই লর্ড। তিনি এ মামলার জব্দ তালিকার সাক্ষী।
সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণে কত সময় লাগতে পারে বলে জানতে চান ট্রাইব্যুনাল। জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, ২০ মিনিট লাগতে পারে। একইসঙ্গে স্টেট ডিফেন্স ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরায় কিছু সময় লাগতে পারে।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, কয় মিনিটের জন্য আমাদের বসিয়েছেন? না উঠলেও চলে।
তখন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ বলেন, মাই লর্ড, আমাদের অন্য মামলা ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেখতে হয়। এ সপ্তাহে সব ঠিক হয়ে যাবে। আশা করি, আগামী সপ্তাহে আমরা কন্টিনিউ করতে পারবো। এরপর জবানবন্দি শুরু হয়।
এর আগে, গত ১৩ অক্টোবর আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনাল-২ এ সাক্ষি হাজির করতে পারেনি প্রসিকিউশন। এজন্য সময় চেয়ে আবেদন করেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম। তিনি বলেছিলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমাদের সাক্ষী আসতে পারেননি। বাকি প্রসিকিউটররা ট্রাইব্যুনাল-১ এ অন্য মামলা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাই এ মামলায় ২০ অক্টোবরের পর সাক্ষি উপস্থাপন করতে চাই।’
সেদিন প্রসিকিউশনের উদ্দেশে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘সাক্ষী ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে হাজির হতে পারেনি, এটা কি লেখা যায়? আপনারা যা বলছেন, এটা কি বলতে পারেন? এটা যে আদালত অবমাননা তা কি জানেন? যদি কাজই করতে না পারেন, ব্যস্তই থাকেন, তাহলে দুটি ট্রাইব্যুনাল কেন করা হলো? আপনাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলার প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত।
প্রসঙ্গত, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন। কিন্তু তাকেও বাঁচতে দেননি তারা। পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত মানুষকেই পুড়িয়ে মারা হয়। এ ঘটনায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।