রাঁচিতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি জন্ম নিয়েছিল থ্রিলারে। শেষ দিকে একার লড়াইয়ে চেষ্টা করেছিলেন করবিন বশ। শেষ পর্যন্ত ১৭ রানের জয়ে সিরিজে এগিয়ে গেছে স্বাগতিক ভারত।
প্রথম ওয়ানডে জয়ের মূল ভিত গড়ে দিয়েছিলেন বিরাট কোহলি। রেকর্ড ৫২তম সেঞ্চুরিতে ভর করে ৮ উইকেটে ৩৪৯ রানের সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিক দল। শুধু কোহলিই নন, তার মতো টেস্ট ও টি–টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া রোহিত শর্মাও খেলেছেন ৫১ বলে ৫৭ রানের ইনিংস। দ্বিতীয় উইকেটে কোহলি-রোহিত মিলে ১৩৬ রানের জুটি গড়ে রাঁচির দর্শকদের মাতিয়েছেন। কোহলি শেষ পর্যন্ত ১২০ বলে উপহার দেন ১৩৫ রানের দর্শনীয় ইনিংস। তাতে ছিল ১১টি চার ও ৭টি ছয়। তাছাড়া ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুলের ব্যাট থেকেও আসে ৫৬ বলে ৬০ রানের ইনিংস।
জবাবে ভয়াবহ শুরু করে দক্ষিণ আফ্রিকা। হর্শিত রানা রায়ান রিকেলটন ও কুইন্টন ডি কককে শূন্য রানে ফেরান। আরশদীপ সিং পঞ্চম ওভারে অধিনায়ক আইডেন মারক্রামকে (৭) রাহুলের গ্লাভসবন্দি করালে প্রোটিয়াদের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১১।
সেখান থেকে দলকে ম্যাচে ফেরান ম্যাথিউ ব্রিটজকে ও মার্কো ইয়ানসেন। তাদের ব্যাটে দলের রান দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২২৭। তবে ৩৪তম ওভারে কুলদীপ যাদব দুজনকেই আউট করে ভারতকে ম্যাচে ফেরান। ব্রিটজকে ৮০ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় করেছেন ৭২ রান। ইয়ানসেন ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ৩৯ বলে ৭০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন তিনি। তাতে ছিল ৮টি চার ও ৩টি ছয়। তারপরও শেষ দিকে একার লড়াইয়ে প্রোটিয়াদের ম্যাচে রেখেছিলেন করবিন বশ। শেষ ছয় ওভারে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ছিল ৫০ রান। হাতে মাত্র দুই উইকেট। কিন্তু ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বশ ও নান্দ্রে বার্গার টানা দুই ওভারে বাউন্ডারি পেতে ব্যর্থ হন। চাপ বাড়তেই বড় শট খেলতে গিয়ে বার্গার ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১৭ রানে।
তার পর বশ ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করলেও শেষ ওভারে বড় শট খেলতে গিয়ে তিনিও ধরা পড়েন ৫১ বলে ৬৭ রানে। তাতে ৪৯.২ ওভারে ৩৩২ রানে থামে দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস।
কুলদীপ যাদব ৬৮ রানে নিয়েছেন ৪টি উইকেট। ৬৫ রানে ৩টি নেন হর্শিত রানা। ৬৪ রানে দুটি নেন আরশদীপ সিং। একটি নেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ।