রাঙামাটির যোগাযোগ, কৃষি, মৎস্য, বিদ্যুৎ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাণ ভোমরা বলা হয় মনুষ্যসৃষ্ট নীলাভ জলরাশির সুবিশাল কৃত্রিম ‘কাপ্তাই হ্রদ’। এ হ্রদের ওপর ভিত্তি করে পুরো রাঙামাটির জীবন-জীবিকা গড়ে উঠেছে।
জেলা প্রশাসন গত ৩০ জুলাই জেলা সদরের মগবান ইউনিয়নের রইন্যাছড়ি এলাকায় কাপ্তাই হ্রদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার সময় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী ফাহিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিল।
পরিবেশবিদরা বলছেন, হ্রদ থেকে অবাধে বালু উত্তোলন করার কারণে হ্রদের দলদেশ আলগা হয়ে যাচ্ছে, প্রতিনিয়ত ভাঙছে হ্রদের পার। মৎস্য ও জলজ প্রাণীর প্রজনন ক্ষেত্রগুলো বিনষ্ট হচ্ছে, হ্রদ হারাচ্ছে তার ভারসাম্য। এসব কারণে কাপ্তাই হ্রদ একদিন বিলীন হয়ে যাবে।
রাঙামাটির পরিবেশবাদী সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজের সেক্রেটারি হেফাজত-উল বারী সবুজ বলেন, দেদারসে কাপ্তাই হ্রদ থেকে বালু উত্তোলন করার কারণে পরিবেশের জন্য, কাপ্তাই হ্রদের জন্য মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। কাপ্তাই হ্রদের তলদেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনদিন। যে কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাপ্তাই হ্রদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা না গেলে হ্রদের পার ভেঙে পাহাড় ধসের শঙ্কা বাড়বে, ধ্বংস হয়ে যাবে জীববৈচিত্র্য। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, পাহাড় কাটা, কাপ্তাই হ্রদ থেকে বালু উত্তোলনসহ অর্থাৎ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এমন কর্মকাণ্ড কোথাও হলে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকি। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হয় না।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী (ইউএনও) কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। যেখানে এমন কর্মকাণ্ড চলবে সেখানে প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করবে বলে যোগ করেন তিনি।
জেলার সচেতন মহল মনে করছে, শুধু অভিযান চালিয়ে কাপ্তাই হ্রদ থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রথমে বালু উত্তোলনের জন্য ব্যবহৃত ড্রেজার, নৌকা এবং অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করতে হবে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জরিমানা করলে হবে না তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে তাহলে হ্রদ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হবে।
আরএ