রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ আগুনে বিপুল পরিমাণ ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই)। সংগঠনটির নেতারা বলছেন, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু ওষুধের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা বিএপিআই।
সংগঠনটি বলেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া যেসব পণ্যের ওপর ইতোমধ্যে যে শুল্ক, ডিউটি ও ভ্যাট পরিশোধ করা হয়েছে; সেগুলোর অর্থ ফেরত দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক চার্জ ও সুদ মওকুফসহ পুনরায় আমদানির ক্ষেত্রে সহজ শর্তে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার(২১ অক্টোবর )রাজধানীর গুলশানে বিএপিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তিন দফা দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা।
বিএপিআইয়ের মহাসচিব জাকির হোসেন বলেন, “কার্গো ভিলেজের আগুনে প্রায় ২০০ কোটি টাকার ওষুধ তৈরির কাঁচামাল পুড়ে গেছে। এতে অ্যান্টিবায়োটিক, ক্যানসার ডায়াবেটিস, ভ্যাকসিন ও হরমোনজাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।”
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে ৩০৭টি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৫০টি সক্রিয়ভাবে উৎপাদনে আছে। এর মধ্যে অন্তত ৪৫টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান এই আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী কাঁচামালে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
জাকির হোসেন বলেন, “অনেক কাঁচামাল ছিল বিশেষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণযোগ্য এবং বেশিরভাগই নারকোটিকস বিভাগ অনুমোদিত উপকরণ। এসব পুনরায় আমদানির প্রক্রিয়া জটিল ও সময়সাপেক্ষ, ফলে দেশের ওষুধ উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, স্পেয়ার পার্টস ও অত্যাবশ্যক মেশিনারিজও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ওষুধ উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে বিমানবন্দরে পৌঁছানো অন্যান্য কাঁচামাল নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, কারণ সেগুলোরও বিশেষ তাপমাত্রায় সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিএপিআইয়ের নেতারা বলেন, এ পরিস্থিতিতে সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ, ক্ষতিপূরণ এবং নীতিগত সহায়তা ছাড়া ওষুধ শিল্পখাতের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি হবে, যা সাধারণ মানুষের ওষুধ প্রাপ্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।