ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলের একটি স্টেশনে দুটি ড্রোন হামলা চালায় রাশিয়া। শনিবার (৪ অক্টোবর) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় একজন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছে। ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মস্কোর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে যাত্রীবাহী ট্রেনে হামলার অভিযোগ এনেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে লিখেছেন, সুমি অঞ্চলের শোস্তকার রেলস্টেশনে নির্মম ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। ভিডিওতে একটি বিধ্বস্ত ও জ্বলতে থাকা যাত্রীবাহী বগি এবং জানালা উড়ে যাওয়ার দুশ্য দেখা গেছে।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে যাত্রীবাহী ট্রেনে দুটি হামলা চালিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটি রাশিয়ার অন্যতম নির্মম কৌশল—তথাকথিত ‘ডাবল ট্যাপ’, যেখানে দ্বিতীয় হামলাটি আঘাত হানে উদ্ধারকর্মী ও সরিয়ে নেওয়া মানুষদের ওপর।
সুমি অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ গ্রিগোরভ জানান, আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
জেলেনস্কি লিখেছেন, এটি সন্ত্রাসবাদ, যা উপেক্ষা করার অধিকার বিশ্বের নেই।
গত দুই মাসে প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেনের রেল অবকাঠামোতে হামলা বাড়িয়েছে মস্কো।
ইউক্রেন যুদ্ধে বহু হাজার মানুষ নিহত হলেও রাশিয়া বারবার দাবি করে আসছে তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করছে না।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত রেল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী ওলেক্সান্দর পার্তসভস্কি রয়টার্সকে বলেন, আক্রান্ত ট্রেনগুলোর একটি ছিল স্থানীয় কমিউটার সার্ভিস এবং আরেকটি রাজধানী কিয়েভগামী।
রাশিয়ার সীমান্ত থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরে অবস্থিত শোস্তকা। এখান রেল স্টেশনে হামলা তাই যাত্রী পরিবহনের জন্য অনিরাপদ।
রেল প্রধান আরও বলেন, তারা সবকিছু করছে যাতে সীমান্তবর্তী ও ফ্রন্টলাইন এলাকাগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়। যাতে মানুষ সেখানে যেতে ভয় পায়, ট্রেনে উঠতে ভয় পায়, বাজারে সমবেত হতে ভয় পায় এবং শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরতে ভয় পায়।