ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর বোলোনিয়ায় পূর্ব নির্ধারিত ফিলিস্তিনপন্থি সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। মঙ্গলবারের এই সমাবেশকে সহিংসতার আশঙ্কাজনক ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
স্থানীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি এনরিকো রিচি সাংবাদিকদের বলেন, এই সমাবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। প্রশাসনের আশঙ্কা, গত শনিবার রোমে হওয়া সহিংস বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে বোলোনিয়ায়ও।
ফিলিস্তিনি যুব সংগঠন জিওভানি প্যালেস্টিনেসি ইতালিয়া ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে বোলোনিয়া ও তুরিনে সমাবেশের ডাক দিয়েছিল। ওই হামলায় ইসরায়েলে প্রায় ১২০০ জন নিহত হয়েছিল। এর জবাবে গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ইসরায়েলের অভিযানে এ পর্যন্ত ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
সংগঠনটি ইনস্টাগ্রামে জানিয়েছে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা প্রতীকী সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইতালিতে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত জনাথন পেলেড বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করতে ইতালীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞকে গৌরবান্বিত করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা সফলভাবে বাতিল করা হয়েছে।
গত শনিবার রোমের রাস্তায় কয়েক লাখ মানুষ গাজার জন্য মানবিক সহায়তা বহনকারী নৌযানের বহর ফ্লোটিলা আটকের প্রতিবাদে মিছিল করেন। ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে টানা চতুর্থ দিনের মতো দেশজুড়ে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে মিলানের ইহুদি সম্প্রদায় হামাসের হামলার বার্ষিকী উদযাপন খুব বড় আকারে না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইহুদি ব্রিগেড মিউজিয়ামের পরিচালক ডেভিদে রোমানো লা রিপুবলিকা পত্রিকাকে বলেন, আমরা পুলিশের সুরক্ষায় একটি চত্বরে একত্র হব। জনশৃঙ্খলার কারণে স্থানটি প্রকাশ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।