ইনস্ট্যান্ট নুডলসের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ

ইনস্ট্যান্ট নুডলসের চাহিদা বেড়েছে কয়েক গুণ

বাংলাদেশের নুডলস জনপ্রিয় একটি খাবার। এখন ইনস্ট্যান্ট নুডলস হিসেবে নানা ধরনের নুডলস বাজারে পাওয়া যাচ্ছে। দেশের দ্রুত বিকশিত ভোগ্যপণ্য হিসেবে নুডলসের চাহিদা কয়েক দশক ধরে বেড়েছে। 

২০২৫ সালে বাংলাদেশি ইনস্ট্যান্ট নুডলস বাজারের মূল্য প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার (বা ১২০০ কোটি টাকা)। এই হারে ২০৩০ সালের মধ্যে বাজারের আকার হবে প্রায় ১৫ কোটি মার্কিন ডলার (বা ১৮০০ কোটি টাকা)। প্রতিবছর এই বাজার ৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ হারে বাড়ছে। 

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায়, কোভিড-১৯ মহামারির মতো সময়ে ঘরে বসে খাবার গ্রহণের হার বাড়ার কারণে নুডলসের চাহিদা ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক বুশরা হুমায়রা বলেন, নুডলসের বাজার সম্প্রসারণে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। দ্রুত নগরায়ণের ফলে আধুনিক খাবার হিসেবে নুডলসের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো প্রধান শহরে দ্বৈত আয়ের পরিবার এবং ব্যস্ত কর্মজীবী জনসংখ্যা বাড়ার কারণে নুডলসের বিক্রি বাড়ছে। বিভিন্ন কোম্পানি ক্রমাগত নতুন স্বাদ, প্যাকেজিং ও ভিন্ন ধরনের নুডলস, যেমন কাপ নুডলস।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো প্রসেসরস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএপিএ) হিসাবে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চিকেন নুডলস রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ডলারের, ওজন হিসেবে ৭৯ টন; অন্যান্য নুডলস রপ্তানি হয়েছে ৩৮ লাখ ৫৫ হাজার ডলারের, ওজন হিসেবে ১২ হাজার ৮২০ টন।  ব্যবসাবিষয়ক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ভোলজারের তথ্য বলছে, ভারত ও পেরুর পরে বিশ্বের শীর্ষ তিন নুডলস রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে একটি বাংলাদেশ। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৫৩টি বাংলাদেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ৩৪৩ জন বিদেশ ক্রেতার কাছে নুডলস রপ্তানি করেছে বলে জানা যায়। 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো—ইপিবির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যেসব এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বসবাস বেশি, সেখানে দেশের শুকনা খাবার হিসেবে নুডলসের রপ্তানি বেশি হয়। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসহ মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে নুডলস।

দেশের বিভিন্ন আমদানিকারক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নানা ধরনের নুডলস আমদানিও করে থাকে।

ইনস্ট্যান্ট নুডলসের চাহিদা গত ১০ বছরে বেশ বেড়ছে। নেস্‌লে বাংলাদেশ পিএলসির ক্যাটাগরি বিজনেস ম্যানেজার (ফুড) খোন্দকার আশিকুর রহমান বলেন, বাজারে দেখা যায় প্রায় ৪০টির বেশি ব্র্যান্ড আছে, যারা ইনস্ট্যান্ট নুডলস তৈরি করছে। প্রায় ১২০ রকমের পণ্য আছে বাজারে। ১০ টাকা থেকে শুরু করে ৯০০ টাকার বিদেশি নুডলস প্যাক এখন বাংলাদেশে মানুষ কিনছেন। ইনস্ট্যান্ট নুডলসের বাজার অংশীদারত্ব ৭৫ শতাংশের ওপরে। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের কাপ নুডলসের বেশ প্রসার দেখা যাচ্ছে বাজারে। তা ছাড়া এয়ার ড্রায়েড স্টিক নুডলসের চাহিদা আছে বাজারে। স্টিক নুডলসের চাহিদা কমছে। ২২ শতাংশ স্টিক নুডলসের চাহিদা আছে। শহর এলাকায় নুডলস বেশ জনপ্রিয় হলেও ৬০ শতাংশের বেশি নুডলস বিক্রি হয় মফস্‌সল অঞ্চলে। 

সুপারশপ ঘুরে চপস্টিক দেশি মাসাল ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ইয়ামি মাসালা, রামেন হট চিজ, রামেন হট চিকেন; মিস্টার নুডলস কাপ নুডলস ম্যাজিক মাসালা, কোরিয়ান সুপার স্পাইসি, ডেক্কো এগ নুডলস, ডুডলস স্টিক নুডলস, কোলসন এগ নুডলস; সজীব এগ নুডলস, বিবিকিউ নুডলস, ওয়েলফুড নুডলস, মামা ইনস্ট্যান্ট নুডলস, ফ্রেশ ইনস্ট্যান্ট নুডলস, এসিআই পিউর থাই নুডলস, ম্যাগি ২ মিনিট নুডলস মাসালা ফ্যামিলি ফান প্যাক, ইফাদ এগি মাসালা নুডলস; বিদেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে স্যামইয়াং র‍্যামেন কিমচি, নিশিন গেকিকারা রামেন হট কার্বো (ইন্দোনেশিয়া), ওয়াই ওয়াই মাসালা ডিলাইট, মি এবিসি বিফ নুডলস, থাই চয়েস বিনসহ বিভিন্ন ধরনের নুডলসের বাহারি সাইজের প্যাকেট পাওয়া যায়। সুপারশপ স্বপ্নের বনানীর সেলসম্যান তরিকুল ইসলাম জানান, যাদের ছোট বাচ্চা আছে, তাঁদের আমরা নুডলস নিতে দেখি বেশি। দেশি ব্র্যান্ডের মধ্যে ম্যাগি, স্বপ্ন, ইফাদ, পুষ্টি, ফুডিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নুডলস ক্রেতারা কেনেন। 

নানা স্বাদের অভিজ্ঞতা নিতে তরুণদের মধ্যে নুডলসের চাহিদা বাড়ছে। ঢাকার বড় বড় রেস্তোরাঁর মেন্যুতে নানা পদের নুডলসের রেসিপি দেখা যায়। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ফওজিয়া জাহান বলেন, ইনস্ট্যান্ট নুডলস এখন জনপ্রিয়। বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে কোরিয়ার নুডলস। 

বাংলাদেশের বাজারে নানা ধরনের নুডলস পাওয়া যায়। স্বাদ, আকার ও ধরন অনুসারে এসব নুডলস একেকটি একেক রকম গ্রাহকের কাছে জনপ্রিয়। স্কুল-কলেজের শিশু-কিশোরদের কাছে ম্যাগি নুডলস জনপ্রিয়। করপোরেট ও পেশাজীবীদের কাছে ইনস্ট্যান্ট কাপ নুডলস বেশি জনপ্রিয়।

খোন্দকার আশিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ৯০ শতাংশের বেশি বাড়িতে নুডলস বছরে অন্তত একবার হলেও খাওয়া হায়। ১৮৮৪ সালে জুলিয়াস ম্যাগির হাত ধরে সুইজারল্যান্ডে জন্ম নেয় ব্র্যান্ড ম্যাগি। মূলত ইনস্ট্যান্ট নুডলসকে বাংলদেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয়তার পেছনে কাজ করছে ম্যাগি। ইনস্ট্যান্ট নুডলস বলতে বাংলাদেশের মানুষ এখন ম্যাগিই বোঝে। ২৮ বছর ধরে ম্যাগি, দারুণ স্বাদ, পুষ্টি ও সেরা মানের নুডলস পৌঁছে দিয়েছে কোটি কোটি মানুষের ঘরে ঘরে। ম্যাগি মাসালা বাংলাদেশের একমাত্র নুডলস, যাতে লোহা, আয়োডিন এবং ভিটামিন-এ ফরটিফাইড আছে। ম্যাগি বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয়। ১৪ বছর ধরে টানা ১৪ বার বাংলাদেশের ১ নম্বর নুডলস ব্র্যান্ডের সম্মাননা পেয়েছে।

আজ ৬ অক্টোবর নুডলস দিবস। এ উপলক্ষে নুডলস নিয়ে বিশেষ আয়োজন।

Comments

0 total

Be the first to comment.

আমাদের স্নাতকেরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা প্রমাণ করেছে Prothomalo | জীবনযাপন

আমাদের স্নাতকেরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষতা প্রমাণ করেছে

প্রথম আলোর রোববারের ক্রোড়পত্র—স্বপ্ন নিয়ে। শুরু হয়েছে স্বপ্ন নিয়ের বিশেষ আয়োজন ‘ক্যাম্পাস ক্যানভাস’।...

Oct 05, 2025

More from this User

View all posts by admin