প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলে আসা ভয়াবহ বন্যায় বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে বেঁচে থাকার জন্য খাদ্য ও পানি চুরি করতে বাধ্য হচ্ছেন কিছু বাসিন্দা। রবিবার দেশটির কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯৩ জনে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে।
ইন্দোনেশিয়া এ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪৪২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ মানুষ। প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ভূমিধস ডেকে এনেছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা, বিচ্ছিন্ন হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ তিন প্রদেশে এখনও ৪০২ জন নিখোঁজ।
প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভারী উদ্ধার সরঞ্জামের ঘাটতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। উত্তর সুমাত্রার সিবোলগা শহর ও সেন্ট্রাল তাপানুলি জেলায় ত্রাণ পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মানুষ ভাঙা ব্যারিকেড, প্লাবিত সড়ক ও কাচের ধ্বংসাবশেষ পেরিয়ে খাবার, ওষুধ ও গ্যাস সংগ্রহের চেষ্টা করছে। অনেকে কোমর সমান পানির ভেতর হেঁটে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানে পৌঁছাচ্ছেন।
শনিবার রাতে দোকানে ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মুখপাত্র ফেরি ওয়ালিনতুকান। তিনি বলেন, আঞ্চলিক পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। লুটপাটের ঘটনা ঘটে ত্রাণ পৌঁছানোর আগেই। মানুষ জানত না ত্রাণ আসছে এবং তারা অনাহারের ভয় পাচ্ছিলো।
জাকার্তা থেকে ১১টি হেলিকপ্টার দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব টেডি ইন্দ্রা উইজায়া বলেন, সড়কপথ বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে লজিস্টিক সহায়তা পাঠানোর চেষ্টা চলছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া ত্রাণ কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে আক্রান্ত এলাকায় আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহের ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর তাপানুলির একটি গ্রামে হেলিকপ্টার দেখেই বাঁচতে পারা মানুষ হাত নেড়ে আকুলভাবে সংকেত দিচ্ছিলেন। এ ছাড়া ত্রাণ বিতরণে সহায়তার জন্য চারটি নৌবাহিনীর জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে।
এদিকে শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৯৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনও নিখোঁজ ২২৮ জন। ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়ে প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। গত সপ্তাহ থেকে শ্রীলঙ্কা টানা বিরূপ আবহাওয়ার মুখে। বৃহস্পতিবারের প্রবল বর্ষণে ঘরবাড়ি, রাস্তা ও ফসলের জমি প্লাবিত হয় এবং প্রধানত মধ্যাঞ্চলের চা উৎপাদন এলাকায় ভূমিধস দেখা দেয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শ্রীলঙ্কার পূর্ব সমুদ্রে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহ রবিবার ভারতের দক্ষিণ উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।