দেশের সব জেলার ক্রিকেট প্রেসিডেন্ট, জেলা ক্রীড়া অফিসার, জেলার ক্রিকেট কোচ, জেলার নারী উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে দুই দিনের বাংলাদেশ ক্রিকেট কনফারেন্স শুরু হয়েছে। রবিবার (৯ নভেম্বর) কুমিল্লার একটি হোটেলে উদ্বোধনী দিনে বক্তৃতায় বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর ক্রিকেট উন্নয়নে ফুটবলাররা অন্যতম বাধা বলে চিহ্নিত করেছেন।
প্রয়োজন পড়লে ফুটবল বা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সঙ্গে মারপিট করে হলেও নিজেদের অধিকার আদায় করতে চান জনপ্রিয় এই সঙ্গীতশিল্পী ও বিসিবির বয়সভিত্তিক ক্রিকেট কমিটির চেয়ারম্যান।
আসিফের নিজের জেলা কুমিল্লা। সেখানে এবার লিগ হবে ম্যাটিং উইকেটে। সেই উদাহরণ তুলে বিসিবির নতুন এই পরিচালক বলেন, ‘আমাদের বোর্ড সভাপতি আছেন এবং যারা বিভিন্নভাবে বাফুফের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন, ফুটবল ক্লাবের সঙ্গে জড়িত থাকলেই কিন্তু ফুটবল-ক্রিকেট-হকি, সবই হয়। আমরা যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি, ফুটবলারদের জন্য (ক্রিকেট) খেলা যাচ্ছে না, সারা দেশে। এরা উইকেট ভেঙে ফেলে, উইকেট নষ্ট করে ফেলে। যে কারণে, কুমিল্লার ক্রিকেট লিগ ১২ তারিখ থেকে শুরু হবে, ম্যাটে। যেগুলো খেলিনিই আমরা কখনও।’
এরপর যোগ করেন, ‘আগামী ২৪ তারিখ কুমিল্লা স্টেডিয়ামে আবাহনী-মোহামেডান ফুটবল খেলা আছে। এই সমস্যা শুধু কুমিল্লার নয়, প্রতিটি জেলায়। যেখানে ফুটবলের কাজ নেই, সেখানেই স্টেডিয়াম অকুপাই করে রেখেছে। ফুটবলারদের ব্যবহার খুব খারাপ, এটা আমি সরাসরি বলতে চাই। কারণ, ক্রিকেট একটা ডিসিপ্লিনড খেলা, আভিজাত্যের খেলা, এখানে অনেক নিয়মকানুন আছে।’
বিসিবি সভাপতিকে অনুরোধ জানিয়ে আসিফ বলেন, ‘আমাদের বোর্ড সভাপতিকে অনুরোধ করবো, সিনিয়র বোর্ড সদস্যদের অনুরোধ করবো আপনারা অনতিবিলম্বে বাফুফের সঙ্গে বসেন। আমরা তো মারামারি করতে যাবো না, তবে প্রয়োজন হলে করবো। কারণ হচ্ছে, আমাদের খেলতে হবে। আমাদের বাচ্চাদের খেলতে হবে। আমাদের শপথ আছে, আমাদের ছেলেমেয়েরা খেলবে।’
মাঠ ও খেলা নিয়ে আসিফ আরও বলেন, ‘টুর্নামেন্টের অনেক রেঞ্জ আমাদের, অনেক লেভেলের টুর্নামেন্ট আমাদের সামনে আসছে। আমি যেহেতু বয়সভিত্তিকের চেয়ারম্যান হয়েছি, আমি অবশ্যই বাচ্চাদের কথাই বলবো। আমরা যদি লিগ শুরু করতে না পারি। লিগের তো অনেক জটিলতা, এর মধ্যে স্কুল ক্রিকেট হবে, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট হবে, ট্যালেন্ট হান্ট হবে, টুর্নামেন্ট হবে, হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে হবে। অনেক ধরনের প্রস্তুতি বিসিবির বাইরেও আছে।’
কুমিল্লা লিগে ম্যাটিং উইকেটে খেলা নিয়ে বিসিবি এই পরিচালক বললেন, ‘আমরা যেটা বলতে চাচ্ছি, আবারও পরিষ্কারভাবে, ফুটবলের সঙ্গে আমাদের একটা হেস্তনেস্ত করা খুব জরুরি। এখানে আমাদের কুমিল্লার কোচ জেমস আছে। তার সঙ্গে আমার নিয়মিত কথা হয়। আমাকে জানায় ফুটবলের জন্য খেলা যাচ্ছে না (ক্রিকেট)। কিন্তু আমি শুধু জানতে চাই, এই যে ম্যাটে টুর্নামেন্ট হচ্ছে কুমিল্লায়, এটা কী আমাদের ৩০ বছর পিছিয়ে দিলো না?’
‘আমি এনএসসিতে (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) বলেছি, ক্রীড়া উপদেষ্টার নজরে আনার চেষ্টা করেছিলাম, আপনারা তো আমাদের অনেক দূরে নিয়ে গেলেন। যেটা মান্ধাতার আমলে হয়ে গেছে, সেখানে ফেরত নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, এখন পরিবর্তন করেন। আমাদের দ্রুতই বসতে হবে এবং আশা করি বোর্ড সভাপতির কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাবো।’
প্রয়োজনে ফুটবলের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়াতে হলেও প্রস্তুত আসিফ আকবর। বলেন, ‘ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানুষজন একটু ভদ্র স্বাভাবিকভাবেই, আভিজাত্যের ইস্যু আছে এখানে। আমার আবার একটু সমস্যা আছে। আমি আবার অত ভদ্র না। যেহেতু আমি অবসরপ্রাপ্ত ক্রিকেটার, সুযোগ পাইনি নিজেকে ফোকাস করার। যদি ফুটবল মারপিট করে, আমিও মারপিট করবো, নো প্রবলেম। যে যেমন, তার সঙ্গে তেমন করতে হবে। আমরা তো চাঁদা চাচ্ছি না, কিডনি চাচ্ছি না, হার্ট-চোখ চাচ্ছি না, আমরা চাচ্ছি খেলার অধিকার।’
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের কাছে তিনি দাবি করে বলেন, ‘আমাদের যে বাচ্চারা আসবে, ভবিষ্যতে ২০ বছরে যে বাচ্চাগুলো সার্ভিস দেবে বাংলাদেশকে, তাদের খেলার কথা বলছি আমরা। আমরা বলছি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে একদম বান্দরবান থেকে সাতক্ষীরা, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার, মেহেরপুর থেকে কুমিল্লা, পুরো দেশে ক্রিকেটের উন্মাদনা আছে, উন্মাদের মতো লোকে ক্রিকেট খেলে। তাহলে ফুটবল এখন কেন? আমরা একটা বাৎসরিক ক্যালেন্ডার চাই এনএসসির কাছে। ফুটবল কতদিন হবে, ক্রিকেট, হকি, অ্যাথলেটিক্স, ইনডোর গেমস কতদিন হবে, সেটির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করার সময় চলে এসেছে।’