ফ্রান্সে ফের সামরিক সেবা চালুর ঘোষণা

ফ্রান্সে ফের সামরিক সেবা চালুর ঘোষণা

ফ্রান্সে প্রায় ২৫ বছর পর সীমিত আকারে সামরিক সেবা আবার চালু করতে যাচ্ছে দেশটির সরকার। রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ায় এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দক্ষিণ-পূর্ব ফ্রান্সের গ্রেনবল সংলগ্ন একটি পদাতিক ঘাঁটিতে পরিকল্পনাটি ঘোষণা করেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ঝুঁকি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো সেই ঝুঁকির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। আমাদের নিজেদের রক্ষা, প্রস্তুত ও সম্মান বজায় রাখতে দেশকে আরও বেশি সক্রিয় করতে হবে।

তিনি জানান, আগামী গ্রীষ্ম থেকে ধাপে ধাপে নতুন ‘ন্যাশনাল সার্ভিস’ চালু হবে। এতে ১৮ ও ১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা স্বেচ্ছায় ১০ মাসের বেতনভুক্ত সামরিক প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। মাসিক কমপক্ষে ৮০০ ইউরো দেওয়া হবে।

ফ্রান্সে ১৯৯৬ সালে বাধ্যতামূলক নিয়োগ বন্ধ হয় এবং শেষ সেনা নিয়োগ ২০০১ সালে সেবা শেষ করে। নতুন ব্যবস্থায় শুরুতে ৩ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হবে, যা ২০৩৫ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৫০ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে দেশটির নিয়মিত বাহিনী ২ লাখ সদস্য এবং ৪৭ হাজার রিজার্ভ সদস্য নিয়ে কাজ করছে। নতুন স্কিমে পেশাদার, রিজার্ভ ও স্বেচ্ছাসেবক এই তিন স্তরের কাঠামো তৈরি হবে।

ম্যাক্রোঁ বলেন, এই অনিশ্চিত বিশ্বে শক্তিই অনেক সময় ন্যায়কে ছাপিয়ে যায়। যুদ্ধ এখন বর্তমান কালের বাস্তবতা। অনুপ্রাণিত তরুণ-তরুণীরা আমাদের বাহিনীর জন্য বড় শক্তি হবে। এটি আমাদের যুবসমাজের ওপর আস্থার প্রকাশ।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে রাশিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসনের কারণে নতুন সামরিক সেবা চালু করেছে বা পুরোনো ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও জার্মানি স্বেচ্ছাসেবী স্কিম আনছে। লিথুয়ানিয়া ও লাটভিয়ায় লটারি পদ্ধতিতে বাধ্যতামূলক নিয়োগ চলছে। সুইডেন ৯ থেকে ১৫ মাসের সামরিক সেবা চালু করেছে যোগ্যতার ভিত্তিতে। ফিনল্যান্ড, গ্রিসের মতো দেশগুলো কখনও এসব সেবা বন্ধই করেনি।

 

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin