‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নিয়ে বুদাপেস্ট যেতে পারবেন পুতিন?

‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ নিয়ে বুদাপেস্ট যেতে পারবেন পুতিন?

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যদি সত্যিই আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বুদাপেস্টে বৈঠকে বসেন, তবে তার যাত্রাপথেই আসতে পারে বড় বাধা। আর তা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) আকাশসীমা।

কারণ, রাশিয়ার সব উড়োজাহাজের মতো পুতিনের প্রেসিডেন্সিয়াল উড়োজাহাজ ‘ফ্লাইং ক্রেমলিন’ও ইইউ আকাশপথে নিষিদ্ধ। এই বিশেষ সংস্করণের ইলুশিন আইএল-৯৬ বিমানে রয়েছে চারটি ইঞ্জিন ও উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যুক্তরাষ্ট্রও একই নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। আগস্টে আলাস্কার অ্যানকোরেজে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সময় ওয়াশিংটন বিশেষ অনুমতি দিয়েছিল পুতিনের বিমানের জন্য।

হাঙ্গেরি ইউরোপের স্থলবেষ্টিত দেশ হওয়ায় পুতিনের জন্য বুদাপেস্ট পৌঁছানো সহজ নয়। ক্রেমলিন মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, এখনও নিশ্চিত কিছু নয়, তবে দুই প্রেসিডেন্টের আলোচনায় আগ্রহ স্পষ্ট।

২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ হামলার পরপরই ইইউ পুতিন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সম্পদ জব্দ করে এবং সব রুশ উড়োজাহাজের জন্য ২৭ দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। এছাড়া, পুতিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইউক্রেনীয় শিশুদের জোরপূর্বক রাশিয়ায় নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে।

তবু হাঙ্গেরি আশাবাদী। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার সিজিয়ার্তো বলেছেন, আমরা অবশ্যই নিশ্চিত করব, প্রেসিডেন্ট পুতিন যেন নিরাপদে হাঙ্গেরিতে আসতে, আলোচনা করতে ও ফিরে যেতে পারেন। হাঙ্গেরি ইতোমধ্যেই আইসিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ইইউ কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনও বৈঠক, যা ইউক্রেনে স্থায়ী শান্তির দিকে এগিয়ে নেয়, তা স্বাগত। পুতিনের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা নেই। শুধু সম্পদ জব্দ রয়েছে। ফলে সদস্য রাষ্ট্র চাইলে পৃথকভাবে বিশেষ অনুমতি দিতে পারে।

ন্যাটোও বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর ছেড়ে দিয়েছে। ট্রাম্প এই আলোচনায় জড়িত থাকায়, অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইউক্রেন বা পোল্যান্ড হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হতে পারে কৃষ্ণসাগরের পূর্ব উপকূল ধরে তুরস্ক, তারপর বুলগেরিয়া হয়ে সার্বিয়া বা রোমানিয়ার মধ্য দিয়ে হাঙ্গেরিতে প্রবেশ। তবে বুলগেরিয়া বা রোমানিয়া—দুটিই ইইউ ও নাটোর সদস্য। অনুমতি দিতে হলে তাদের সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

রোমানিয়ায় ইউরোপের সবচেয়ে বড় ন্যাটো ঘাঁটি গড়ে উঠছে, আর বুলগেরিয়াও নিজস্ব ঘাঁটি নির্মাণ করছে। ফলে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কা এখানেও প্রবল।

আরেকটি বিকল্প হতে পারে তুরস্ক হয়ে গ্রিসের দক্ষিণ উপকূল ঘুরে মন্টেনেগ্রো ও সার্বিয়ার আকাশপথে প্রবেশ করা, যদিও তা অনেক দীর্ঘপথ।

হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান হলেন পুতিনের ইউরোপীয় ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইতোমধ্যে বৈঠক নিয়ে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। বৃহস্পতিবার বুদাপেস্টের নাম ঘোষণার পরপরই তিনি পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ফেসবুকে লিখেছিলেন, প্রস্তুতি পুরোদমে চলছে!

অরবান বলেছেন, যেহেতু ইইউ যুদ্ধপন্থি, তাই এই শান্তি আলোচনায় তাদের ভূমিকা নেই।তবে আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে ইইউ সম্মেলনে যোগ দিতে গেলে অরবানকে ইউরোপীয় নেতাদের মুখোমুখি হতে হবে।

বৈঠকটি সফল হলে তা অরবানের জন্য রাজনৈতিক সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। আগামী বসন্তে হাঙ্গেরির নির্বাচনের আগে তার জনপ্রিয়তা তাতে বাড়তে পারে।

Comments

0 total

Be the first to comment.

More from this User

View all posts by admin