ফিলিস্তিনি কবিতা সবার পড়া উচিত

ফিলিস্তিনি কবিতা সবার পড়া উচিত

সম্প্রতি ‘জেরুজালেম’ নামের একটি রান্নার বই পড়তে গিয়ে ভূমিকায় বইটার সহলেখকদের একটি পর্যবেক্ষণ দেখে অভিভূত হয়েছি। বইটির একজন শেফ ইসরায়েলি, অন্যজন ফিলিস্তিনি। ইয়োতাম অটোলেঙ্গি ও সামি তামিমি লিখেছেন, জেরুজালেমে ‘মনে হয় খাবারই একমাত্র সংযোগকারী শক্তি’। মানে এ কারণেই শহরটাকে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন দুই দেশ রাজধানী হিসেবে দাবি করে। তাদের রান্নার ঐতিহ্যের ইতিহাস সরল নয়। তবু এই শেফরা খাবার তৈরিকে মনে করেন একটি অনন্য মানবিক কাজ। একটা না–বলা ভাষার মতো, যা এমন দুজনের ভেতরে সংক্রমিত হয়ে পড়ে, যারা অন্যথায় শত্রু হতে পারত।

মধ্যপ্রাচ্যের খবরের আপডেট না ঘেঁটে আমার তাই ‘জেরুজালেম’ বইটা ওলটাতে ভালো লাগছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মূলধারার গণমাধ্যমের মার্কিন কভারেজ, এমনকি বাস্তব জীবনের আলাপচারিতাও ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ ও হারানো প্রাণগুলোকে বিমূর্ত করে ফেলছে। এমনিতেও যখনই কর্মক্ষেত্রে বা বন্ধুদের আলোচনায় গাজার নিত্যদিনের মানবিক সংকটের কথা আসে, আমি চুপচাপ উঠে চলে যাই। কারণ, মৃত্যুকে আড্ডার বিষয় করতে ভালো লাগে না। আমি নিজেও ফিলিস্তিনি অভিবাসীর সন্তান, গাজায় আমার পরিবারের সদস্যরা থাকেন। কিন্তু আমি ফিলিস্তিনের কষ্টের মুখপাত্র হতে চাই না।

কিন্তু ফিলিস্তিনের সহিংসতার পাঠ আমাকে যত ব্যথা আর হতাশা দিক, কবিতা তেমন নয়। কবিতা আমাকে সেই ভূমির বিস্ময় ও জটিলতার গভীরে নিয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফিলিস্তিনি কবিতা ভাগাভাগি করা মানুষের সংখ্যা যেভাবে হু হু করে বাড়ছে, তাতে বোঝা যায়, শুধু আমি নই, বিশ্বজুড়ে পাঠকদের জন্যও তা সত্য। মাহমুদ দারবিশ, মুসআব আবু তোহা, লেনা খালাফ তুফফাহা এবং অন্য ফিলিস্তিনি কবিদের কবিতা টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সে (সাবেক টুইটার) ভাইরাল হচ্ছে, অজস্র শেয়ার হচ্ছে। টিকটকে #palestinianpoetry হ্যাশট্যাগের ভিউ ২ লাখ ৬ হাজারের বেশি, আর #mahmouddarwishpoetry-এর ভিউ ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়নের বেশি। পোয়েট্রি ফাউন্ডেশন ও একাডেমি অব আমেরিকান পোয়েটস ফিলিস্তিনি কবিদের কাজ শেয়ার করছে, আমার পরিবার ও আমার পরিচিত লোকজনের সাহিত্য চক্রের অসংখ্য পোস্টের কথা নাই–বা বললাম।

আমি নিজে কবি বলে ধারণা করি, কবিতার জনপ্রিয়তা বাড়ার অনেক কারণ আছে। কবিতা বিভ্রান্তি ও কষ্ট প্রকাশ করতে পারে এ কারণেই যে কবিতা কোনো সমস্যা সমাধানের মাধ্যম নয়। কবিতা কেবল মানবতাকে উৎসর্গ করতে, রাজনৈতিক খবরের আড়াল ভেদ করতে এবং ঐতিহাসিক উত্তেজনার মুহূর্তকে স্মরণীয়, শেয়ারযোগ্য পঙ্‌ক্তি রচনা করতে পারে। একটা পঙ্‌ক্তি কবিতার পূর্ণাঙ্গ রূপ দেখায় না, কেবল একটা ঝলক দেখায়। সেই কবিতায় যদি কোনো যুক্তি থাকেও এ ধরনের লাইন পুরো কবিতার যুক্তিকে প্রশ্রয় দেয় না। তবে সেই কয়েকটি সযত্নে বাছাই করা শব্দে কবিতা এমন বিদ্যুৎ সৃষ্টি করতে পারে, যা পাঠকের মনে আকাঙ্ক্ষা জাগায় আর পুঁতে দেয় কৌতূহল, ব্যথা ও সহানুভূতি। এ মুহূর্তে এমন কবিতার সঙ্গেই পাঠকদের যুক্ত করা সবচেয়ে জরুরি, যা উপর্যুক্ত আবেগের জন্ম দেয়।

ফিলিস্তিনি কবি নুর হিন্দির অসম্ভব পরিমাণে ছড়িয়ে পড়া কবিতার শিরোনামটির কথাই ধরুন—‘ফাক ইয়োর লেকচার অন ক্র্যাফট, মাই পিপল আর ডাইং’। এই শিরোনামই কিন্তু তার কবিতার প্রথম লাইন, এখানে আর কিছু নয়, শুধু ফিলিস্তিনি কারণকে পরিষ্কার একটা অধিকারে রূপান্তর ঘটিয়েছে, অর্থাৎ মানুষের অধিকার। কবিতার তাৎক্ষণিক জরুরত তার ভাষা ধরে ফেলেছে, একটি ক্রিয়া দিয়ে শুরু হয়েছে তার কথা এবং সেই ক্রিয়াসহ মৃত্যুর চিত্র দিয়ে শেষ হয়েছে বক্তব্য। লাইনটা সাধারণ ভাষায় যেন একটা তথ্যমাত্র, কিন্তু শুনলেই বোঝা যায়, এটা আসলে সাহায্যের জন্য মরিয়া ক্রুদ্ধ একটা আর্তনাদ।

কবি এখানে নিজেকে ‘দখলদারদের’ বিপক্ষে দাঁড় করান, যারা চাইলেই ‘ফুল নিয়ে লিখতে’ পারে। কিন্তু তার লক্ষ্য হলো ভিন্ন কথা বলা—‘তোমাকে বলছি, শিশুরা ইসরায়েলি ট্যাংকে পাথর ছুড়ছে/ সেকেন্ডের ব্যবধানে ডেইজি ফুল হয়ে যাওয়ার আগে।’ ভাঙা পঙ্‌ক্তিটি মানে শক্ত ট্যাংকের সঙ্গে ভঙ্গুর ডেইজির তুলনা একই সিদ্ধান্তে পৌঁছায়: কবির মানুষ তাদের চারপাশের শক্তির তুলনায় অমূল্য কিছুই নয়। কবি শিশুদের কথা বলতে পারেন না ফুলের কথা না বলে। কী অদ্ভুত সুন্দর অমানবীকরণের উপমা। তিনি যেন সেই দখলদারদের মতো, যারা স্পষ্ট করে শিশুদের বলতে পারেন না, তার কবিতাও তেমন দখলদারের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়ায় তাদের কথাও সরাসরি বলেন না, বরং দখলাদরদের মনোভাবের ভাষায় বলে।

হিন্দির অনেক পঙ্‌ক্তি এতটা আবেগীয় ওজন ধারণ করে আছে, এমন ভাষা ও চিত্রে, যা পাঠকের হৃদয় সঙ্গে সঙ্গে নড়ে ওঠে। যখন হিন্দি লেখেন—‘ফিলিস্তিনিরা জেলখানা ও কারাগার থেকে চাঁদ দেখে না’, তখন তার যে বেদনা-নিষিক্ত বিষ হৃদয়ে ছড়িয়ে পড়ে আরেক পঙ্‌ক্তিতে—‘আমি জানি আমি আমেরিকান। কারণ, আমি যখন ঘরে ঢুকি, তখনো কিছু না কিছু মরে’।

কবিতার এসব পঙ্‌ক্তি আমি আলাদা আলাদা শেয়ার করতে, রিটুইট করতে এবং ‘কবিতা’ হিসেবে হিসেবে হাইলাইট করতে দেখেছি অজস্র।

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই যে অনেকে কবিতার ভাইরাল হওয়ার শক্তিকে ভয় পায়।

ফাদওয়া তুকান একজন ফিলিস্তিনি নারীবাদী ও কবি। তিনি ১৯৪০-এর দশক থেকে ২০০৩ সালে তাঁর মৃত্যুর আগপর্যন্ত তাঁর কবিতাকে রাজনৈতিক প্রতিরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। দ্য গার্ডিয়ান তাঁর মৃত্যুতে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করে, যেখানে এমনও দাবি করা হয়, ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে দায়ান একবার তুকানের একটি কবিতা পড়াকে ২০ জন শত্রুযোদ্ধার মুখোমুখি হওয়ার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ঘটনার আরও সঠিক বিবরণ পাওয়া যায় সামার আত্তারের ‘ডিবাঙ্কিং দ্য মিথস অব কলোনাইজেশন: দ্য অ্যারাবস অ্যান্ড ইউরোপ’ বই থেকে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিম তীরে কবিতা পাঠের জন্য একবার ইসরায়েলের একটা দল তুকানকে আমন্ত্রণ জানায়। দায়ান তাদের বলেন আমন্ত্রণ প্রত্যাহার করতে। আত্তারের মতে, তাঁর যুক্তি ছিল, ‘তাঁর একটা কবিতা ১০ জন প্রতিরোধযোদ্ধা তৈরি করতে পারে।’ কবিতা কতজন যোদ্ধাকে উদ্বুদ্ধ করতে পারে, তা নিয়ে সংখ্যার বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু মূলকথা হলো শব্দের প্রভাব তো স্বীকৃত, তবে কবিতার শব্দ গাঢ় অর্থে আর নরম আবেগ মিলে এমন এক বিস্ময়ের সৃষ্টি করে, যা সত্যিকারের পরিবর্তন ফেনিয়ে তুলতে পারে।

নিঃসন্দেহ ৭ অক্টোবরের হামলা এবং গাজার বর্তমান যুদ্ধ মানবজীবনকে অবমূল্যায়নের ভয়াবহ পরিণতির উদাহরণ। রাজনীতিক-কবি ও অ্যাকটিভিস্ট হানান আশরাবি তাঁর কবিতা ‘একটি প্রায় চার বছরের শিশুর ডায়েরি থেকে’তে দেখিয়েছেন, যুদ্ধের সবচেয়ে দুর্বল শিকারদের প্রতি সেই ‘মানবতা’ প্রসারিত করার অর্থ কী। হ্যাঁ, তাঁর কবিতা কোথাও কোথাও আবেগপ্রবণতার সীমা ছুঁয়ে গেছে বটে। তবে তিনি হৃদয়বিদারক বর্ণনা হাজির করে দেখান, সেই শিশুর চোখে বিশ্ব দেখতে কেমন, যার চোখে একজন সৈন্য নির্বিকারে গুলি করে। কবিতার শেষ লাইনগুলোতে চার বছরের শিশুটি নির্লিপ্তভাবে বলে একটি ৯ মাসের শিশুর চোখ হারানোর কথা, আর ভাবে, সেই একই সৈন্যই দায়ী? তারপর বলে:

আমি যথেষ্ট বড়, প্রায় চার বছরের,জীবনের অনেক কিছু দেখেছি,কিন্তু সে তো কেবল একটি শিশু,যে ভালো-মন্দ কিছুই জানত না।

এই তিন বছরের শিশুর নির্লিপ্ততা ও নিষ্পাপ ভঙ্গি কেমন ব্যথাতুর বিদ্রূপ তৈরি করে। আশরাবি ইঙ্গিত করেন, ফিলিস্তিনি শিশুরা সহিংসতায় এতটাই অভ্যস্ত যে তারা যেন খুনোখুনিতে বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছে। ‘জীবনের অনেক কিছু দেখে’ তারা তাদের নিজেদের মৃত্যুর জন্য আবেগ ঝেড়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে, যা যেকোনো অর্থে প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বেশি।

ফিলিস্তিনি কবিতার বড় অংশজুড়ে রয়েছে আহত ও নীরব মানুষদের কণ্ঠ। লেনা খালাফ তুফ্‌ফাহার ‘রানিং অর্ডার্স’ বেশ জনপ্রিয় কবিতা। কবিতাটির মূলকথা—সব জীবনই মূল্যবান বা বলা যায়, ফিলিস্তিনি যুদ্ধবিরোধী কবিতার মূল বার্তা এটাই। তুফ্‌ফাহার কবিতা যেন একজন অভিভাবকের দৃষ্টিকোণ থেকে বলা, যিনি সতর্কতার কল পাওয়ার পর বাড়ি ছেড়ে পালাতে প্রস্তুত হচ্ছেন। ইসরায়েলি সৈন্যরা তাদের পুরোনো নীতি ছেড়ে দিয়েছে, যা জনসাধারণকে পালানোর জন্য সতর্ক করত। কিন্তু পালাবে কোথায়? কবিরা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রশ্ন তুলছে। কারণ, গাজার সংকীর্ণ গলিতে, বোমার আঘাতের আগে বাঁচার কোনো নিরাপদ আশ্রয় নেই।

তুফ্‌ফাহা প্রথমে লেখেন:

তারা এখন আমাদের ফোন করে,বোমা ফেলার আগে।বোমা হামলা এরপর কবিকে তাঁর প্রতিবেশীদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে এবং তাঁর শহর হয়ে ওঠে:

সমুদ্রের ধারে একটি কারাগারযেখানে গলিপথগুলো সংকীর্ণআর মানুষের জীবনএকের পর এক স্তূপ করা

পৃথিবীর অন্য কোনো জায়গার চেয়ে বেশি। এই সংক্ষিপ্ত, দমবন্ধ লাইনগুলো কিন্তু শুধু অন্যায়ের কথাই বলে, যুদ্ধ-আরোপিত সেই কারাগার থেকে মুক্তির কোনো পথ দেখায় না।

কবি এরপর তাঁর পরিবারের দুর্ব্যবহারে জড়িয়ে নিজের কষ্টকে ছোট করে দেখতে শুরু করেন। তিনি যে কল করেছে, তার ও অন্য যোদ্ধাদের কণ্ঠে বলতে শুরু করেন:

এতে কিছু যায় আসে না যেতুমি আমাদের আবার কল করে বলতে পারো নাযে, আমরা যাদের চাই বলে দাবি করি, তারা তোমার বাড়িতে নেইএখানে কেউ নেইশুধু তুমি আর তোমার শিশুরাযারা আর্জেন্টিনার জন্য উল্লাস করছিলএই সপ্তাহের শেষ রুটি ভাগ করে নিচ্ছিলমোমবাতি গুনছিল, যদি বিদ্যুৎ চলে যায়।

তুফ্‌ফাহার শেষ লাইনগুলো মিসাইলের মতো আঘাত করে:

এতে কিছু যায় আসে নাযে ৫৮ সেকেন্ড যথেষ্ট নয়তোমার বিয়ের অ্যালবাম খুঁজে পেতেবা তোমার ছেলের প্রিয় কম্বলবা তোমার মেয়ের প্রায় শেষ হওয়া কলেজ অ্যাপ্লিকেশনবা তোমার জুতাবা বাড়ির সবাইকে একত্র করতে।এতে কিছু যায় আসে না—তুমি কী পরিকল্পনা করেছিলে।কিছুই যায় আসে না তুমি কে।প্রমাণ করো তুমি মানুষ।প্রমাণ করো তুমি দুই পায়ে দাঁড়িয়ে আছ।দৌড়াও।

তাদের পরিবারের একমাত্র সমাধান দৌড়ানো, কিন্তু ৫৮ সেকেন্ড তাদের জীবন গঠনকারী অসংখ্য জিনিস হাতড়ে বের করার জন্য যথেষ্ট নয়। বিদ্রূপের বিষয় হলো, মানুষ প্রমাণ করতে তাদের জুতা ছাড়া নগ্ন পায়ে পশুর মতো দৌড়াতে হয়। আর যেহেতু ‘সীমান্ত বন্ধ/ আর তোমার কাগজপত্র মূল্যহীন’, পরিবারের সেরা আশা কোনো বিদেশি করুণা, শরণার্থী হিসেবে হারিয়ে যাওয়া এবং চিরতরে বাড়ি ছাড়া—লেখেন নাজওয়ান দারবিন, ফিলিস্তিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি। তাঁর কবিতা ‘আই রাইট দ্য ল্যান্ড’ শেষ করেন এই ধারণায় যে তিনি ও অনেক ফিলিস্তিনি শেষ পর্যন্ত মুছে যাবেন: ‘আমার শব্দ সর্বত্র/ আর নীরবতাই আমার গল্প।’ তাঁর কাছে, মুছে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের সার্বভৌমত্বের সংগ্রামের অনিবার্য পরিণতি।

কবিতা যদি তার সর্বাঙ্গীণ রূপে প্রকাশ পায়, তাহলে তা পাঠকদের নীরবে স্তব্ধ করে দেয় বটে, কিন্তু নীরব মানুষকে দেয় ভাষা এবং তাকে বলে যে অন্যদের ভাষা পেতে এখনই ভাষাটি ভাগাভাগি করে নাও। গাজার কবিদের অনেকেই শহীদ হয়েছেন। আমি তাঁদের রেখে যাওয়া কবিতার শব্দে মুগ্ধ হই, তাঁদের অস্বীকার্য মানবতায় আঁতকে উঠি। খবরের প্রতিবেদন বা সাক্ষাৎকার নিপীড়িতদের গল্প তুলে ধরতে পারে। কিন্তু কবিতা সেই গল্পে মানবতা ও ব্যক্তিত্বের স্পর্শ দেয় কোনো স্বার্থ বা উদ্দেশ্য ছাড়াই। কবিতা খবরের নিবন্ধের হৃদয় ধরে তার তথ্যের ভার মুক্ত করে। আরও সুন্দরভাবে বললে, কবিতার কিছুই প্রমাণ করার নেই। ফিলিস্তিনি কবিতা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক অটুট স্মৃতিস্তম্ভের মতো দাঁড়িয়ে থাকে—খণ্ডিত, ভাঙা টুকরোয় গড়া, তবু কী শিল্পিত অপূর্ব!

অ্যান্ড্রু কালিস ফিলিস্তিনি-মার্কিন কবি এবং ‘পিলগ্রিমেজেস’ সংকলনের লেখক। তিনি মেরিল্যান্ডের আর্চবিশপ স্পাল্ডিং হাইস্কুলে শিক্ষকতা করেন।

● অনুবাদ: মোর্শেদ আলম

Comments

0 total

Be the first to comment.

নব্বই দশকি জীবন Prothomalo | মুক্ত গদ্য

নব্বই দশকি জীবন

মধ্যরাত হলে কে শোনেননি শেয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক? কে দেখেননি অন্ধকার রাতে সারি সারি জোনাকিদের? হারিকেনে...

Sep 17, 2025
দ্রষ্টা লেখকের জন্ম-মৃত্যু Prothomalo | মুক্ত গদ্য

দ্রষ্টা লেখকের জন্ম-মৃত্যু

সচরাচর যা দেখা যায়—লেখক তাঁর শৈশব, কৈশোর ও যৌবন পেরিয়ে নানা উপলব্ধি ও অভিজ্ঞতায় পরিণত হচ্ছেন, গ্রহণ...

Oct 04, 2025

More from this User

View all posts by admin